Falani
ফালানি উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি
ফালানির একটাও কুরকা
ফালানির একটাও কুরকা আছাল না। তার বাহের তিগা পয়সা নিয়া নিয়া খুটির বিতর জরা করতো। এবা কইরা হে ১০০ টেহা জরা করছাল। হেই টেহা দিয়া তার বাহে আটে তিগা একটা ডেহি মুরগি কিন্না দিছাল। কয়দিন পরই হেই মুরগি করকরাইয়া ডোলের বিতর আন্ডা পারন ধরে। বালাই আন্ডা পারছাল। বাইসটা আন্ডা পারছাল। চাইরডা আন্ডা হিদ্দ কইরা রাইন্দা খাইছাল। চাইরডা আন্ডা আন্ডার পাইকারের কাছে বেইচ্যা নইটানা কিন্যা খাইছাল। দুইডা আন্ডা পচা বাইরইছাল। আর যেডি আছাল ঝাইঞ্জরে মইধ্যে খের বিছাইয়া মুরগিরে কুইচা বহাইছাল। মুরগি মইদ্যে মইদ্যে কক কক কইরা বাইরে গিয়া আদার খাইয়া আইত। হেসের দিকে হারাদিন কুইচা বইয়া থাকত। কুইচা মুরগির ঠোলার খের ভর্তি হুরহুরি পোকা অইছাল। হেই হুরহুরি পোকা বারির বেবাককের গতরেই হুরহুরাইত। বাইসদিন পর মুরগি বাচ্চা তোলায়। উঠানে খুদ ছিটাইয় দেয় বাচ্চাগুনারে খাওনের নিগা। বাচ্চাগুনায় চিয় চিয় কইরা ডাহে আর ঠুকরাইয়া খুদ খায়। একটা বাচ্চা ছাইয়ের ঠেংগিত পরছাল। ছাইয়ের বিতর গনগনা আগুন আছাল। হেই আগুনে পুইরা একটা বাচ্চা মইরা যায়। আরেকটা বাচ্চা আইশালের আগুনে পুইরা মইরা যায়। একটা বাচ্চা চিলে নিয়ে যায়। আরেকটা নেয় বেজিয়ে। আরেকটা গরুর পারা খাইয়া চেটকা অইয়া মইরা যায়। উঠানে ধান খেদানোর সোম ফালানির দাদির কোটার বারি খাইয়া মইরা যায় একটা । যেডি বাইচ্চা থাহে হেডির মইদ্যে অর্ধেক অয় ডেহি, আর অর্ধেক অয় মোরগ।
ফালানির বিয়া অইছে
(টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক গ্রাম্য ভাষায় লেখা গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
হেদিন যে ফালানির কতা কইছিলাম হে ফালানির বিয়া অইয়া গেছে। অইজে, কইছিলাম না যে, ফালানির ডেহি মুরগি বাইশটা আন্ডা পারছাল। হেন তিগা চাইরডা আন্ডা হিদ্দ কইরা আইন্দা খাইছাল। চাইরডা আন্ডা পাইকারের কাছে বেচচাল, দুইডা আন্ডা পচা বাইরইছাল। আর যেডি আছাল হেডি দিয়া মুরগিরে কুইচা বহাইছাল। হেন তিগা মুরগি যে কয়ডা বাচ্চা তোলাইছাল তার তিগা একটা আইশালের আগুনে পইরা পুইরা মরে, একটা ছাইয়ের ঠেংগিত পইরা পুইরা মরে, একটা গরুর পারা নাইগ্যা মইরা যায়, আর একটা ধান খেদাইন্যা কোটার বারি নাইগ্যা মইরা যায়, একটা নিয়া যায় চিলে আর একটা নিয়া যায় বেজিয়ে। যে ছয়ডা বাইচ্চা আছাল হেইগনা বড় অইয়া তিন্ডা অয় ডেহি আর তিন্ডা অয় মোরগ। হেন তিগা দুইডা মোরগ পলাই আটার য়াটে নিয়া বেইচ্চা একটা য়াসা আর একটা য়াসি কিন্না আনে। তাইলে অহন ফালানির অইল গিয়া পাচডা কুরকা আর দুইডা য়াস। য়াসগুলা ফালানিগ পাগারে হাতুর পারে। য়াসিডায় হারাদিন ঘাগ ঘাগ কইরা ডাহে, আর য়াসাডায় গলা হেস হেসাইয়া পাকপাক কইরা ডাহে। বিল পাড়ের ক্ষেত তিগা হামুক কুরাইয়া আইন্যা পাচন দিয়া ভাইংগা দেয় য়াসের হুমকে। য়াস হেগনা ক্যাত ক্যাতি গিলে আর গলা মোচড় পারে। ছোট ছোট হামুক আমানই গিল্লা হালায়। ফালানির বিয়ার পর য়াস মুরগি পালনের খুবই কষ্ট অইতাছে ফালানির মায়। ফালানিরে দুল্লা য়াইখাই ফালানির বাপে মইরা গেছে। ফালানিরে ডাংগর করতে অনেক কষ্ট করতে অইছে। বিয়া দিবার পর কষ্ট আবার বাইরা গেলো। কী আর করবো, মেও পোলা অইয়া জন্মাইলে হশুর বাড়ি ত যায়নই নাগব। মেয়াডারে বিয়া দিবার পর তিগা থাইকা থাইকা ফালানির মায় কান্দে আর আঁচল দিয়া চোখের পানি মুছে।
বালা ধনি বাইত্যেই ফালানির বিয়া অইছে। ফালানির চেহারাও বালা খপছুরতের। পরতম সরাদার দেইহা যায় তারে পাগার পাড়এ যেসুম হে কলস বোজাই কইরা মাঞ্জায় কইরা নিয়া য়াইটা যায়। ফালানির বিয়ার কতা তোলে আহাদুল্লা হিকদারের নাতি দিয়া, অর নাম অইল শাব্দুল। শাব্দুল মেট্রিক পর্যন্ত পড়ছে। হে অহন বিদেশ করব। গেরামের পোলারা মোছ একটু কালা অন ধরলেই আদম বেপারির দালাল ধইরা বিদেশ চইলা যায় জমিন জিরাত, বাড়ি ঘর, নোটা বাটি বেইচ্চা দিয়া। যাগ কিছু নাই তারাও গরীবের বন্ধু সমিতি তিগা সুদী কইরা টেহা নিয়া বিদেশ চইলা যায়। হেই ইন হোদাইতেই চাইর পাচ বোছর নাইগ্যা যায়। শাব্দুলের পাসপোর্ট ভিসা অইয়া গেছে। টেহাও যোগার অইছে। অর্ধেক যোগাইছে শাব্দুলের বাহে আর অর্ধেক যোদাইছে ফালানির চাচায়। দুই এক হপ্তার মধ্যেই শাব্দুলের ফেলাইট। পরতম গিয়া পাঁচ বোছর পর দুই মাসের ছুটি নিয়া দেশে আইব। যাওনের আগে যুদি ফালানির পেটে সোন্তান ধরে হেই সোন্তান তহন চাইর বোছইরা অইয়া যাবো। এই চাইরডা বোছর গেন্দাডায় বাপের আদর পাবো না। মইদ্যে মইদ্যে মোবাইলে দেকপার পাবো বাপের মুখ। তয় ছুইয়া দেকপার পাবো না। পেটের উপর গড়াগড়ি করার ভাইগ্যে থাকপ না। কান্দে নিয়া নাচনের ভাইগ্য থাকপ না। তুলতুলা গালের মইদ্যে নাক দিয়া ঘষা দিয়া উলু উলু করার সুযোগ পাব না। কতা হেস কইরা খালি কবো আব্বু টা টা। উম্মা উম্মা। আর যুদি এই কয়দিনে ফালানির পেটে বাচ্চা না ধরে তয়লে পাঁচ বোছর পর্যন্ত দেরি করন নাগব সোন্তান ধরনের নিগা। ভাগ্যে যুদি না থাহে হেই দুইমাসে সোন্তান না ধরে তাইলে আবার ছুটি নিয়া আহন পর্যন্ত দেরি করন নাগব। ফালানিরে বিয়া করার পর তিগা শাব্দুলের বিদেশ যাইতে ইচ্ছা করতাছে না। কিন্তু করার কিছু নাই। দালালেরে টেহা পয়সা দেয়া হেস। পাসপোর্ট ভিসাও কম্পিলিট। অহন না করন ঠিক অব না।
অ, ফালানির কিবা কইরা বিয়া অইল হেইডা কবার নইছিলাম। সোমবার দিন য়াটে যাওনের সুম হরাদারে ফালানিরে পাগার পাড়ে দেখছাল। মোঙ্গল বারে শাব্দুলের বাপের কাছে বিয়ার কতাডা তোলে। বুইধবারে ফালানির চাচার কাছে কতা নিয়া যায়। বিসুদবারে কয়জন নোক নিয়া ফালানিরে দেকবার যায়। পাঁচশ টেহা য়াতে দিয়া ফালানিরে দেইহা আহে। তাগো পছন্দ অয়। শুক্কুরবারে ফালানির চাচা কয়জন নোক নিয়া শাব্দুলেগ বাইত্যে ঘর দেহুনি আহে। তাগো ঘর বর পছন্দ অয়। হুনিবার যায়, অববার যায়। এবা কইরা বাজার হদায় হেস কইরা বিসুদবারে বিয়া পড়াইয়া ফালানিরে নিয়া যায় হশুরবাড়ি। ইনু তার সবই আছে। দাদা হশুর, দাদি হউরি, হশুর, হউরি, ভাশুর, জাও, নোনাশ, নোনদ, দেওর, চাচাহশুর, চাচিহউরি, ফুবুহউরি, খালাহউরি, ভাশুরের ঘরে ভাইস্তা, ভাস্তি ইন্না বেকই আছে। ই বাড়ির বেক্কেই বালা মানুষ। খালি জাওডা একটু জাইরা গোছের। বেশী জাউরামি করলে জামাইয়ে ঢেহির ওচা দিয়া বাইরাইয়া য়ান্দন ঘরে ফালাই য়াখে। চাইর ভিটায় চাইরডা টিনের ঘর। বাইরবাড়ি আছে কাছাড়ি ঘর। হেনু ইস্টি এগানা আইলে থাকপার দেয়। একটা জাগীরও থাহে হে ঘরে। কামলা জামলা নুইলেও এই কাছাড়ি ঘরে বহে, খায় থাহে। য়ান্দন ঘর আগে ছোনের ছাউনি আছাল। অহন টিন নাগাই দিছে। অর দাদাহশুর অনেক বুড়া। মুতুল্লায় এহান দাঁতও নাই। হক্ত খাবার খাপ্পায় না। তার নিগা আটার নুটানি য়াইন্দা দিওন নাগে। হউরির য়াতের য়ান্দন বেক্কের কাছেই বালা নাগে। তার য়াতের সালুন পাসের বাড়ির মাইন্সেও চাইয়া নেয়, এবা মজা কইরা সালুন য়ান্দে। ভাহুরের ডাইবিটিস আছে। তার নিগা উটি বানান নাগে। হশুরেরও ডাইবিটিস য়োগ আছে। উনি আবার য়োটি খাপ্পায় না। খাইলে গলা জ্বলে। য়াইতে দুধ দিয়া কলা দিয়া ভাত চেইতকা খান। কবিরাজে য়োগের জইন্যে জানি তারে মুধু খাইতে কইছে। য়াতের তালুতে মধু নিয়া চাইটা খান।
ছাগল, গরু, মইশ, ভেরা, য়াস, কুরকা ইন্না বেকই আছে। পালে একটা বড় পাঠা আছে, দুইডা বড় খাসি আছে, পাঠি আছে দুইডা, ভরুইন্যা দুইডা ছাগল আছে। বিয়াইন্য ছাগলো আছে একটা। হেডার আবার তিন বাচ্চা। দুইডা মাইগ্যা বাচ্চা আর একটা মর্দা বাচ্চা। ছাগলের ওলানে বোটা মাত্র একটা। দুই বোটা তিগা যেসুম দুই বাচ্চায় দুধ খায় আরেকটায় ফাল পারতে থাহে। এই জন্যেই কেউ বঞ্চিত অইলে কয় “আমি অইলাম গিয়া ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা।” পাঠি দুইডা ভরুইন্যা সময় অইছে। বাইস্যা মাসে ভরবার পারে। বিয়াইন্যা গাই আছে দুইডা। একটার কাচিল্যা বাছুর। কাচিল্যা গাইয়ের দুধ খাওন যায় না। বাছুরের বয়েস এক মাস অইলেই কাচুইল্যা ছাইড়া যাব। হেসুম তিগা ফালানিরা ইডার দুধ পানাবার পাব। আর যে গাই কাচুইল্যা ছাইড়া গেছে হেডার দুধ পানায় ফালানির হউরি। পরতম বাছুরেরে গাইয়ের ওলান চাটতে দেয়। ওলান চাটতে চাটতে গাই চোনাইয়া দেয়। এরপরই ওলানভর্তি দুধ আহে। যেসুম বাছুরে দুধের বোটায় চোশন দেয় হেসুম হউরি বাছুরের মুখ ঝেংটা মাইরা হরাই হালায়। বাছুরের গলায় পাগা নাগাইয়া ফালানি বাছুরেরে টাইন্যা ধইরা হরাই য়াখে। ফালানি বাছুরের গতর য়াতাইয়া দেয়। বাছুরে ফালানির আচল চাবায়। উম্মুর দিয়া য়াটুর উপর দোনা য়াইখা হউরি চই চই কইরা গাই পানায়। দোনা ভইরা দুধ অয়। অব না ক্যা, গাইয়েরে ধানের কুড়া, গোমের ভুষি, পান্তা ভাত, আর কত কি খাওয়ায়। দুধ ত অবই। হেই দুধ খাইয়া হাইরাও য়াট বাজারে নিয়া বেইচা টেহা পায়। পালে একটা বড় হাড় গরু আছে। ইডারে কুরপানির নাম কইরা য়াইখা দিছে। কুরপানি দিলে মেলা গোস্ত অব। ই বাইত্যে দুইডা বল্ দও আছে। হেগ্না দিয়া আলানে পালানে চিপা চুপা দিয়ে য়াল বায়। কারন, বড় বড় ক্ষেতগুনায় য়াল বাওয়া য়য় পাওর ট্রিলার দিয়া। বহন বাছুর আছে দুইডা। বুইড়া একটা গাই আছে। হেডা বিয়ায়ও না, য়ালেও জোড়ন যায় না। ইডা কামে নাগে মলন দেওনের সুম। মলন জোরার সুম ইডা মেউয়া ইসাবে কাম করে। মলনের মইদ্যে জোড়ে বল্দগুনারে। কিনারায় জোরে বহন বাছুরগুনারের। পানাইন্যা গাই মলনে জোড়ে না।
সোংসারের কাম করনের বাবাকই আছে শাব্দুলেগ। নাঙ্গল, জোয়াল, চংগ, নাঙ্গুইলা, কোদাল, খোন্তা, ছেনি, পাচন, কাঁচি, দাও, বটি, বাগি, ইন্যা বেকই আছে। মেওপোলা মাইনষের কাম করনের সব জিনিসই আছে এগ বাইত্যে। ঢেহি আছে ধান ভানার, হাফট আছে ধান হুকাবার, কোটা আছে গাছ তিগা আম কাঠল পারবার, হলা হাছুন আছে ঘর বাড়ি হোরনের নিগা, উচি আছে ময়লা ফালাবার। ডাহি আছে ধান নেওয়ার, ঝাঞ্জইর ছাপ্নি আছে খই ভাজনের। জাতা আছে ছাতু ভাঙ্গনের নিগা। বুরকা, পাইল্যা, চাপ্নি, খোরা, হানকি, বাটি, ঘটি, নাইন্দা, কোলা, জালা, ডোল, বেড়, চালা, ডালা, ঝান্না ইন্না বেকই আছে। তাগ টিনের থালিও আছে, আবার করইর থালিও আছে। জামাই জোড়া, ইস্টি এগানাই আইলে করইর থালিতে খাবার দেয়। ট্রাংগ সুটেসও আছে। ধরতে গেলে ফালানির বালা বাড়িতেই বিয়া অইছে।
পালানের ক্ষতের ধাইরায় নাউ, কুমরা, হশা, ঝিংগা, পোড়ল, শিমইর, শীবচরণ এইন্যা আরজিছে ফালানির হউরি। ইন্যার জইন্যে বাশ দিয়া জাঙলা বানাই দিছে। হেইন্যা মইদ্যে ঝলমি ঝলমি তরিতরকারি ধরে। বাপের বাড়ির নিগা ফালানির পরাণ পোড়ে। তাই জাংলা তলে খারইয়া পুম্মুহি চাইয়া থাহে। বুক ভাইঙা কান্দন আহে তার।
ফালানির জামাইর ফেলাইট ছাড়নের তারিখ ঠিক অইছে। বিমান বন্দর পর্যন্ত তার নগে ক্যারা ক্যারা যাবো হেডা ঠিক অইল। একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করলো। মাও বাপেরে হেলাম কইরা শাব্দুল গাড়িতে উঠলো। গাড়িতে শাব্দুলের নগে উঠলেন এলাহি মেম্বর সাব, ফালানির ভাহুর, আর ফালানি। বিমান বন্দরে যাওনের পর পেঁচ মাইরা দালালে আরও ১০ য়াজার টেহা চাইয়া বইল। কয় যে কুনু কুনু জানি দেওন নাগব। অহন টেহা পাব কুনু? বিমান ছাইড়া দেওনের সোময়ও অইয়া গেল গা। হারাহারি কইরা মোবাইল কইরা বিকাশ কইরা দশ য়াজার টেহা আইন্যা দালালের য়াতে দেয়। শাব্দুল বিমানের সীটে গিয়া বহে। একসুম বিমান ছাইড়া দিল। শো শো শব্দ কইরা আসমানের দিকে উঠতে নইল। ফালানি বিমানের দিকে ফ্যাল ফ্যাল কইরা চাইয়া রইল। একসুম পচিম দিকের আসমানের দেওয়ার হাজের বিতর বিমানডা য়ারাইয়া গেল গা।
১০/৫/২০২১ খ্রি.
লেখকের কথাঃ
মাতৃভাষায় কথা বলতে ও শুনতে সবাই ভালো বাসে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আমাদের অনেকেই মায়ের ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। অনেকেরই নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা আছে। তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। আমার বাড়ি টাঙ্গাইল। আমার এলাকায়ও নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা আছে। সেই ভাষাটাকে আপনাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ফালানির গল্পের ছলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের গ্রাম বাংলার জিনিসপত্রের আঞ্চলিক নামের সাথে পরিচয় করার প্রয়াস করেছি এই গল্পে। গল্পের ব্যাকগ্রাউন্ডে ফালানি ও শাব্দুল নামের দুটি কাল্পনিক চরিত্রে তাদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাটা সামান্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কাউকে দোষারোপ করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না।
ফালানির নোনাশের জামাই
ফালানির নোনাশের জামাই একটু ভেবলা কিছিমের। কয় বছর ধইরা বিয়া করছে এহনো কোন পোলাহান ছোলাপান অয় নাই। বাপ মাও মইরা গেছে গা। দুইডা গরু আছে য়াল বাওনের। হেন্নারে পালতে অয় অর নোনাশেরই। খের কাইটা কুরার নগে মিশাইয়া চারিত দিয়া খাওয়ায়। নগে এক মোট নুনও মিশাই দেয়। অর নোনাশের জামাইই গরুগুনারে বাছ্রা ক্ষেতে নিয়া হাচার দেয়। গরুগুনা বালাই আছে, গামচাইয়া ঘাস খায়। টাইক ধইরা পানি খায়। নোনাশের জামাইরে হশুর বাড়িত নিতার দাওত দিলে নোনাশেরে নিয়া ত আহেই, নগে গরু দুইডারেও নিয়াহে। হেন্নারে ফালানিগ গরুর নগেই বাইন্দা থয়। অগ গরুয়ে হেগ গরুরে দেকবার পায় না। হিং দিয়া খালি গুতায়। ইন্না এহেবারে যাইরা গরু। নিতা খাবার আইয়া এক হপ্তা ভইরা তাহে। নোনাশে বাপের বাড়ি আইয়া একটা কামেও য়াত দেয় না। বইয়া বইয়া খালি ফালানির ছক্কল ধরে। আর ইডা ওডা কয়। ফালানি য়াও করে না। ফালানি মনে মনে কয় “নোনাশডা পাজি অইলেও বাপের বাড়ি আইয়া থাকপার চায় থাকুক। তার জামাইডারে নিয়া এত দিন থাহে ক্যা? জামাই খাওনের সুম একবার ইডা চায়, একবার ওডা চায়। একবার কয় কাচা মইচ দেও। একবার কয় পিয়াইচ কাইটা দেও। থাহুক মরারডা। ওডার গরুগুনা কিয়েরে নিয়ায়?”
২৭/৫/২০২১
ফালানির ঘাউড়া চাচা হশুর
ফালানির চাচা হশুরের একজোন বছরকারী কামলা আছে। কামে কাইজে বালাই। হেদিন য়াল বাওনের সুম নাংলের ফালাডা ভাইংগা ফালায়। দেহা অইলে তারে হইচ করে
– তুই নাংগল ভাংলি কিবায় রে?
– চাচা, উত্তর মুরার ক্ষেতে য়াল জুরছিলাম। দুই ঘুরানি দেওনের পরে একটা গাছের হিকরে বাইজা নাংগলডা ভাইংগা গেল গা।
– হে ডা ত বুজলাম। তুই নাংগল বাংলি কিবা কইরা হেইডা বালা কইরা ক?
– হেইডাই ত কইলাম। য়াল জোরার পাজুন দিয়া দুই বলদরে দুইডা বারি মারলাম। দুই ঘুরানির পরই মাটির নিচের একটা হক্ত হিকরের নগে বাইজা নাংগলডা ভাইংগা গেল গা।
– আরে বাইরা বেটা, নাংগল ভাংলি কিবা কইরা হেইডা ভাইংগা ক?
– য়াল জুইরা কুটি হক্ত কইরা ধইরা আছিলাম। ক্ষেতের মইদ্যে দুই ঘুরানি দেওনের সুম হিকরের নগে বাইজা টাস কইরা নাংগল্ডা বাইংগা গেল গা। মটকা কাঠের নাংগল মোনয়।
– আরে গাবর, নাংগল কিবা কইরা ভাংলি হেইডা ক।
এবা কইরা যতই বুঝায় ফালানির চাচাহশুর খালি হইচ করে লাংগল ভাংল কিবায়। কামলায় দেখল ইডা ত বালা ঠেটা মানু রে! ইডারে বালা একটা শিক্ষা দিওন নাগব।
কামলাডায় কয়দিন পারে দুপুরে খওনের সুম একটা ডাংগর মেয়ায় তারে খাওন বাইরা দিছাল। খাইয়া হাইরা বাইর বাড়ি গিয়া ফালানির চাচা হশুরের নগে দেহা য়য়। কামলায় হইচ করে
– চাচা, আইচকা দুপুর সুম আমারে যে মাইয়াডায় বাইরা দিছাল হেডা ক্যারা?
– আরে ছেরা, তুই অরে চিনস নাই। ওডা আংগ ছোট গেদি জয়গন।
– তাত চিনলাম। অইজে যে ছেরিডায় আমারে ভাত বাইরা দিল হেডারে ত চিনলাম না?
– আরে বাইরা বেটা, ওইডাই ত আংগ জয়গন। বেহের ছোট। আইজকা শাড়ী পিনছে। হেই জিন্তেই তুই চিনবার পারস নাই।
– আরে চাচা, আমি ত হেইডাই জানবার চাইতাছি ঐ মাইয়াডা ক্যারা?
এমুন্সুম জয়গন আইয়া কইল “এই যে আন্নেরা যে এনু মিটাই মিটাই কতা কইতাছুইন, উম্মুরা দিয়া গরু ছুইটা পাহা ধানের হিঞ্জা গুনা আমচাইয়া খাইহালাইতাছে। হেইডা দেহুইন গা।
১/৭/২০২১
ফালানির চাচি হউরিডা এহেবারে কিরপিন। মাছ পইচ্যা যুদি বগবগা কুইয়া অইয়া গোন্দ উইঠাও যায় তাইলেও ফালব না। আন্দন ঘরের পাছ তনে গুলাইলের পাতা তুইলা হেগনার নগে নাড়াচারি কইরা খায়। পেট পরিস্কার য়াখনের নিগা গোন্দ বাদাইলের পাতা ভাইজা খায়।
ফালানির চাচত দেওর
(টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
ফালানির চাচত দেওরডারে কিবা কিবা জানি ঠেহে। য়াটবার সুম মাঞ্জা ঢুলাইয়া য়াটে। মেওপোলা মাইনষের নাগাল য়োঠে লিবিস্টিক দেয়। বাবরি চুল য়াকছে। মইদ্যেহানে হিতি করে। কপালে টিপও দেয়। য়াইসা য়াইসা কতা কয়। গুঞ্জি গায় দেয়। তপন পিন্দে। আবার ছেরিগ নাগাল ওড়না গায় দেয় গামছা দিয়া। খালি মেয়া মাইন্সের নগে মেল দিবার চায়। কেউ বাড়া বানবার নইলে তার নগে গিয়া ঢেহি পার দেয়। ফালানির নগেও ঢেহি পার দিবার নইছাল। ফালানি কইল “ছুট মিয়া, আন্নে অইলাইন গা মর্দাই মানুষ। আন্নে মাইগ্যা মাইনষের নাহাল করুইনকে ক্যা?” দেওর কয় “আলো মাই, ভাউসে কি কয়, আমার অহনই বিয়ার বয়স অইছি নিহি?” কতা কবার নইলেই দুই তিনডা তালি মারে হাতে। আর পান চিবায়। ফালানি হউরির কাছে কইছাল “ছুট মিয়া অবা মেয়া মাইন্সের নাগাল করে ক্যা? আমার নগে ঢেহি পার দিবার চায়। আমার শরম করে।” হউরি কইল “ওডা অর জর্মের দোষ। নাদের ডাক্তর কয় যে পোলা মাইন্সের গতরে যুদি জর্মে তিগা কিছু কোষ মেয়া মাইন্সের কোষের মোত থাহে তাইলে হেডায় অবা করে। হেডারে মাইন্সে হিজরা কয়। মেয়ানোকের কোষ যত বেশী থাকপ তত বেশি মেয়ালিপানা করব। আংগ ভাইস্তাডা কিছুডা হিজরার সভাব পাইছে। ওডারে বিয়া করাইলে বউ থাকপ না।”
ইবারের মরা পরের উপুর দিয়া গেছেঃ
ফালানি তার হউরির নগে তার ফুবু হউরিগ বাড়ি ফয়তার দাওয়ত খাইতে গেছাল। তারা ফবু হউরির নগেই খাবার বইছাল। খায়ন দায়ন ভালাই দিছাল। চামারা ধানের ভাতের নগে হাঁড় গরুর গোস্ত আর মাস কালাইর ডাইল। হেষে চুকা দুই। পাতলা দইয়ে কুশাইরা চিনি দিয়া মাহাইয়া চুমুক পাইরা খাইয়া ফুবু হউরি ঢেউক দিয়া কয় “ইবারের মরা পরের উপর দিয়া গেছে।” হুইন্যা ফালানির হউরি কয় “এল্লা বুঝি ইডা কি কইলাইন, বুঝবার পাইলাম না।” ফুবু হউরি বুঝাইয়া কয় “ইবার কলেরা য়ইয়া আংগ পোলার বউডা মইরা গেল গা, যেডার নিগা আমরা ফয়তা খাপ্পাইলাম। উম্মুরা আবার আংগ বড় গেদির জামাইডা মইরা গেছে কলেরা য়ইয়া। হেডার ফয়তা খামু আগামী শুক্কুরবার। দুইডাই পরের সোন্তান। তাই কই, ইবারের মরা পরের উপুর দিয়া গেছে। “
১২/৯/২০২১
ফালানির খাওনের কষ্টঃ
ফালানির হউরিডা কিবা জানি। পোলার বউগুনারে চাপে য়াখে। য়াকপ না ক্যা, ওডার হউরিও পোলার বউগরে চাপে য়াকত। তাই, হেইডা শোধাইতাছে হের পোলার বউগ উপুর দিয়া। ফালানি একবার মোনে মোনে কয় “আমি হউরি য়ইয়া তা করমু না। তয় এই হউরি বেটি যেসুম বুড়া অইয়া য়াতুর য়ইয়া যাব হেসুম মজা দেহামু। মজ্জালেও কাছ দিয়া যামুনা। বিছনা নষ্ট কইরা ফালাইলেও হেগ্না ধুমু না। ক্যারা বলে কইছে ‘ধারাইলে শোধানী আছে।” ফালানির মায়ের কতা মোনে য়য়। মায়ে কই দিছে “হউরি যত খারাবই য়উক হউরিরে কষ্ট দিবি না। পাপ য়ব।” হেই কতা মোনে কইরা ফালানি মোনে মোনে কয় ” থুক্কু ইন্যা কি চিন্তা করলাম! তওবা, হউরিরে কোন দিনও কষ্ট দিমু না।”
অহন হুনুন, ফালানির হউরি কিবা কইরা তারে খাওনে কষ্ট দেয়। ভাত য়ান্দনের সুম যুদি ফালানি হউরিরে হইছ করে “আম্মা চাইল কয় কাঠা দিমু?” হউরি চোপা কইরা উঠে “ক্যা, তোমার হোদ নাই? তোমার মায় হিকাই দেয় নাই, কয়জোন মাইনসের নিগা কয় কাঠা চাইল দিওন নাগে বুরকার মইদ্যে?” ফালানি আন্দাজ কইরা চাইল দেয়। বাড়ির বেক্কের খাওন শেষ য়ইলে ফালানির খাওন নাগে। কোন কোন দিন দুপুরের খাওন খাইতে ফালানির আছরের জের ওক্ত য়ইয়া যায়। বুরকায় ভাত কোম থাকলে কোমই খাইতে অয়। বেশি থাকলে খাইয়া হাইরা পানি দিয়া পান্তা ভাত বানাইতে য়য়। হেই পান্তা আবার য়াইতে খাওনের সুম ফালানিরই খাইতে অয়। ভাত যুদি পুইড়া ধরে হেই পোড়া ভাত ফালানিরই খাইতে অয়। ভাতের মইদ্যে যুদি ঘাসের বিচি, আখির দানা থাহে হেগ্না হুধ্যাই খাওন নাগে তার। বাড়িতে যুদি তার হশুর, ভাশুর কোন য়াবি জাবি আনে হউরি কোন কোন সুম ফালানিরে হাদে। আবার হাদেও না। হরবি কলাগুনা পাইক্যা মইজ্যা পইচ্যা যাইতাছে। তাও হউরি কোন সোম কয় না “বউ গ কলা গুনা খাও।” যেসুম ফালাই দিওন নাগব হেসুম কয় “এল্লা, বউ কলা খাইলা না?”
এবা।
৮/৯/২০২১
মুরগির আওয়াদানিঃ
(টাংগাইলের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার)
ফালানির হউরির আন্ডা পারা মুরগিডা ঘরের পাছে ঠোরকাইয়া ঠোরকাইয়া আধার খাইতাছাল আর মইধ্যে মইধ্যে গলা উচা কইরা করকরাইতাছাল। তারপর ঘরের ভিতর ঢুইকআ পড়লো। ফালানি এই কুরকা কইয়া ডাক দিয়া ঘরের ভিতর হান্দাইয়া দেহে মুরগিডা কিবা করে। এক বার নাফ দিয়া কারে ওঠে, আবার নাফ দিয়া চকির উপুর ওঠে, একবার নাফ দিয়া উগারের উপুর ওঠে, একবার নাফ দিয়া ডোলের উপুর ওঠে। আবার নাফ দিয়া ডোলের ভিতর ধানের উপুর চুপ কইরা বই পড়ল। ফালানি য়ান্দন ঘরে তার হউরিরে ডাক দিয়া কয় “আম্মা গো, মুরগিডা কিবা জানি ঘরের ভিতর আওয়াদানি করতাছে।” হুইন্যা হউরি কয় “করুক, আন্ডা পারবো, তুমি উন তনে আই পড়।”
একটু পর মুরগি কক কক কইরা নাইরা নুইল। তারপর বাইরইয়া কক কক করতে করতে ঘরের পাছে গিয়া মিলাই গেলো গা।
৩০/৯/২০২১
ফালানি বাপের বাড়ি আইপড়ছে
(টাঙ্গাইলের গ্রাম্য আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার)
ফালানি বাপের বাড়ির পুস্কুনি তরি আইলে পড়ে দেহে তার ভাবী ঘাটপাড়ে চুল আলগা কইরা মাথা মোল্কাইয়া গোসল করতাছে। নোন্দের জামাই দেইখা ফালাইলে ভাবীয়ে শরমাবো। তাই, জামাইরে কইল “ভাবী ঘাটপাড়ে মাথা আলগা কইরা গোসল করতাছে। শরম পাবো। গলা খাউর দেও।” জামাই গলা খাউর দিলে ভাবী চইমকা গিয়া তাত্তারি কইরা আঁচলডা ঝাহি দিয়া সোজা কইরা মাথায় দিলো। তাতে কি অইল, জামাই মাথা ত দেখলই এক ঝলক শরীরও দেইখা ফালাইল। তাই, মাথা নিচা কইরা কইল “সালামাইকুম, ভাবী সাপ কিবা আছুইন?” ভাবী কইল “এইত্ত, আছি, আন্নেরা যেবা দোয়া করুইন। যাইন বাইত্যে যাইন। আমি আইতাছি গোসল কইরা। ” ফালানি জামাইরে পিঠের মইদ্যে ধাক্কা দিয়া কয় “নও, ভাবী গোসল কইরা আহুক। ” ফালানি জামাই নইয়া বাড়িত গেলো।
ভাবীয়ে ভাবনায় পইড়া গেলো। ফালানিরে আনবার না গেলে ত আবার দেয় না। আইচকা জামাই যে নিজেই নিয়াইল? হউরিয়ে বাইর কইরা দিল নিহি?
বাইত্যে গিয়া দেহে যে ফালানির মায় হুতি দিয়া য়াইসালে তিগা ভুইত্যা একটা ডেগ নামাইতাছে। জামাই গলা খাউর দিয়া কইল ” আম্মা কিবা আছুইন?” হউরিয়ে কইল “কিবা আর থাহি। মাঞ্জায় টাস নাগছে হুতি দিলে সোজা য়নজায়না। তোমরা ভালা আছো? বিয়াই, বিয়ানি, পুতুরা, জিয়ারি, বুইনেরা ভালা আছে?”
ফালানিরে কইল “গেদি, জামাইরে অজুর পানি দেও। খই ভিজাইয়া চিপ্পা মিঠাই দিয়া নাস্তা দেও।”
জউরিরেও চিন্তায় পইরা গেলো। কতানাই বার্তা নাই, জামাই যে ফালানিরে নইয়া অভম্বিতি হশুর বাড়ি আইল?
ads banner:ফালানি চুক্কা আম খাইল
(টাঙ্গাইলের গ্রাম্য আঞ্চলিক ভাষায় লেখা উপন্যাসের অংশ)
গেছেকাইল ফালানির জামাই বাড়িত গেছে গা। যাওনের সুম ফালানির মায় বুরকায় কইরা কয়ডা জিয়ল মাছ দিয়া দিছে। আর কইয়া দিছে “বাজান, মাছগুনা বিয়াই বিয়ানিরে য়াইন্দা খাবার কইয়। জিয়ারিগ নইয়া আবার আইয়। কয়ডা টেহা দিয়া দিলাম। এডা তপন কিন্যা নইয়।” যাওনের সুম ফালানিয় কইছে “আন্নে আমারে নিবার আহুইন জানি। আম্মা কইছাল পেটের সোন্তান তিন মাস অইলে বাপের বাড়ি তিগা আই পড়বা। জৈষ্ঠ্যমাসে তিন মাস পড়ব। নিবার আহুইন জানি। তার আগে যুদি আবার পারুইন এডা বেলাউছ নিয়াইবাইন।
করিম আর ফালানি বাইরবাড়ি আম গাছ তলে বইয়া বইয়া আলাপ করতাছে। করিম কইল
– বুগ, আমগুনা ভালাই ডাংগর অইছে। অহনো ক’ড়া আছে। কয়দিন পরে আইট অইযাবো। খাবা নিহি। ইগাছের আম কাচামিঠা। ওগাছের আম জাউন্যা জাউন্যা নাগে। আর কাচারি ঘরের পাছের আম এবা চুক্কা গো!
করিম গাছে উইঠা কয়ডা কাঁচা আম পাইরা নিয়াইল।
ফালানি কইল
– তুই কাঁচামিঠাডা খা। আমারে চুক্কাডাই দে।
– আম ছিলামু কি দিয়া? ইবার চৈতপূজায় মেলায়ও যাইনাই, ছুরিও কিনি নাই। ঝিনই আছে। ঝিনই নিয়াহিগা। কাইলকা পাটার মইদ্যে ঝিনই ঘইষা দাড় দিছি। য়াসেরে খাওনের নিগা বড় বড় ঝিনই কুড়াইছিলাম। ঝিনইডা খুব ভালা অইছে। চক পাড়ারা ঝিনই পুইড়া চুনা বানায়। পাথর চুনার দাম বেশি। তাই বেশিরভাগ বাইত্যেই ঝিনইর চুনা খায়। অহন খাল হুকাইয়া মেলা ঝিনই বাইরইছে।
– ঐযে এডা হিল পড়া আম দেখতাছি। ঐডা পাইরান। হিল পড়া আম খাইতে ভালাই নাগে। কিবা জানি দেওয়ায় গুড়্গুড়াইতাছে। গুমাও নাগতাছে। ঝড়ি আবার পারে। ঝড়ি আইলে মেলা আম পইড়া যাবগা।
– বু, কাক্কি কি ইবার কাসন্ড বানাইছে? যেসুম আম পাহন ধরব হেসুম কাঁচা আর পাহা আম বটি দিয়া কুচা কুচা কইরা কাইট্যা ক
