গফুর গেলো

গফুর গেলো

(স্মৃতি কথা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

গফুর কাক্কুকে দেখতে ছোট দেখা গেলেও মার কাছে শুনেছি তিনি আমার থেকে সামান্য বড়। কাক্কু ডাকলেও আসলে তিনি আমার আপন চাচা নন। তিনি নওপাড়ার নজ দাদার (নজর মাহমুদ) বড় ছেলে। নজ দাদার বোন আমার ছোট দাদার ছোট স্ত্রী। শুনেছি ছোট দাদার বিয়ের অনেক বছর পার হলেও দাদীর ঔরসে কোন সন্তান ধরেনি। তাই, দাদার মন খারাপ থাকতো। পাহাড়ের জমিজমা দেখাশোনা করার জন্য তিনি মাঝে মাঝে এখানে আসতেন খামার বাড়িতে। বাড়িটা ছিল আমাদের এখনকার বাড়ির দক্ষিণ পাশে তুলা (শিমুল) গাছটার সাথে। পড়ে ঐ খামার বাড়িতেই ১৯৫৮ সনে ছোট দাদা ও বাবা এক ভিটায় বাড়ি করে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে থাকেন। সেই বছর সেই বাড়িতেই আমার জন্ম হয়। সেই ভিটায় মা একটা আম গাছ লাগিয়েছিলেন। সেই গাছটা এখন নেই। আমি বুঝমান হয়ে সেই বাড়ি-ভিটার চিহ্ন দেখেছি।

 

এই গ্রামে বাড়ি করার আগের ঘটনা। ছোট দাদা বাইদের ও ঘোনার কিছু জমিতে আবাদ করতেন। নিজেও কোদাল দিয়ে ক্ষেতের বাতর সাইজ করতেন। গরমের দিনে দুপুর বেলা ঘোনার ক্ষেতে কোদাল মেরে দাদা পিপাসার্ত হয়ে পড়েন। ঘোনার টানেই নজ দাদার বাড়ি। সেই বাড়ির বাও বেড়ার কাছে গিয়ে দাদা বলেন “বাড়িতে কেউ আছেন গো? আমাকে এক গ্লাস পানি দিবেন?” বাড়িতে নজ দাদার বোন একা ছিলেন। তিনি ঘুমটা দিয়ে মুখ ঢেকে বাওবেড়ার দরজার ফাঁক দিয়ে হাত বের করে এক গ্লাস পানি সাধেন দাদাকে। তার হাত দেখে দাদা মুগ্ধ হয়ে যান। পানি নেয়ার ছলে দাদা সেই রমনীর মুখটাও দেখে নেন। দাদার মাথায় আউলা ঝাউলা লেগে যায়। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন রমনীর দুই মেয়ে হবার পর স্বামী মারা গেছেন। এক মেয়ে ছোট চওনার শমশের হাজী সাব দত্তক নিয়েছেন। আরেক মেয়ে মায়ের সাথেই থাকে। দাদা ভাবলেন “এই মহিলার গর্ভে দু’জন সন্তান হয়েছে। কাজেই আরও হবার সম্ভাবনা আছে। বড় ঘরে তো অনেক বছর হলো সন্তান হয় না। হবে না বলে মনে হচ্ছে। কাজেই এই মেয়েটাকেই বিয়ে করা যেতে পারে।” তিনি তাই করলেন। দাদার বড় স্ত্রীকে ভিয়াইলের বাড়িতে রাখলেন এবং ছোট স্ত্রীকে পাহাড়ের বাড়িতে রাখলেন। ছোট দাদীর আগের ঘরের মেয়ে কমলা ফুফুকে সাথেই রাখলেন। ফুফুর বিয়ে হয় খসরু কাক্কুর সাথে। একটা মেয়ে জন্মেছিল ফুফুর । অল্প দিনেই শিশুটা মারা যায়। তারপরই ফুফুর হাটুতে একটা ফোড়া হয়। সেই ফোড়া ছয় মাসেও পাকে না। ফুলে ডুপির সমান হয়ে যায় হাটু। অনেকেই বলে পাড়ার এক বুড়ি ফোড়া দেখে গু খেয়েছে। গ্রামের মানুষের ধারনা ছিলো উক্ত বুড়ি ফোড়া দেখলে আড়ায় গিয়ে শুকনো গু চিবিয়ে খায়। তাতে সেই ফোড়া আর পাকে না। তাই, কারো ফোড়া হলে উক্ত বুড়িকে কেউ দেখাতো না। ফুফুকে শেষ চিকিৎসা করার জন্য মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হয়ে ফিরিয়ে দেন। ফুফু মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। মৃত্যুর দু’একদিন আগে আমি ফুফুকে দেখতে গিয়েছিলাম। উত্তর শিতানে শোয়ায়েছিল উঠানে চৌকির উপর। মাকে সেই হাটু দেখানোর সময় আমি দেখেছিলাম। একটা পাতিলের সমান ফুলে উঠেছিল সেই হাটুটা। চামড়া টান টান ছিল তার উপর। এমন ফোড়া আমি কখনো দেখিনি। সেই রোগেই কমলা ফুফু মারা যান। সবাই জানে ফোড়া না পাকার কারনেই ফুফু মারা গেছে। আর সেই বুড়ির গু খাওয়ার কারনেই ফোড়া পাকেনি। আমিও তাই বিশ্বাস করতাম। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার সময় বুঝতে পারলাম আসলে ফুফুর হাড়ে ক্যান্সার হয়েছিল। খুব সম্ভবতঃ অস্টিওসার্কোমা। ফোড়া নয়। ফোড়া হলে পাকতো, গলতো, ভালো হয়ে যেতো। গু খাওয়ার সাথে ফোড়া না পাকার কোন সম্পর্ক নাই।

 

এই কমলা ফুফুর মামাতো ভাই হলো গফুর কাক্কু। ওনাদের বাড়ি আর আমাদের বাড়ির মাঝে আর কোন বাড়ি নেই। আমাদের জমি তাদের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। তাই প্রতিবেশী হলেও বাড়িটা একটু দূরে এবং অন্য পাড়ায় পড়েছে। তালুকদার বাড়ির ছেলেদের থেকে গফুর কাক্কুর সাথে বন্ধুত্ব করে আমি বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করতাম। স্বভাবে গফুর কাক্কু বেশ শান্ত ছিলেন। ছোট বেলায় আমরা একে অপরকে নাম ধরে ডাকতাম। বড় হবার পর একে অপরকে কাক্কু ডাকি। তবে আপনি না বলে তুমি বলি। গফুর কাক্কুরা ৫ ভাই। এক বছর পর পর জন্ম গ্রহণ করেছেন সম্ভবত। আমার মনে আছে, একদিন খেলতে যাওয়ার জন্য আমি গফুর কাক্কুদের বাড়ি গেলাম। রান্নাঘরে ঢেকির উপর বসলাম। কাক্কুরা ৫ জন রান্নাঘরের মেজেতে পিড়িতে বসে একযোগে খাচ্ছিলেন। দাদী সবার পাতে ভাত ও সালুন বেড়ে দিচ্ছিলেন চামচ বাড়িয়ে বাড়িয়ে। কী সুন্দর ছিলো সেই দৃশ্য! গফুর কাক্কুর সাথে আমার স্বভাবের অনেক মিল ছিলো। আমরা ফুল, গাছ ও পাখি পছন্দ করতাম। বসন্ত কালে এক সাথে ঘুরে ঘুরে পলাশ ও শিমুল ফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথতাম। বন থেকে নানা রকম নাম জানা নাজানা ফুল ছিড়ে আনতাম। বনে একটা সুন্দর ফুল ফুটতো দুপুর বেলা। ওটার নাম ছিলো দুপুইরা ফুল। বনের টেওরাকাটা গাছের ফুল ছিলো খুব সুন্দর। কিন্তু কাটা থাকার জন্য ছেড়া যেতো না। সেই ফুলে অতি বেগুনি রঙের খুবই সুন্দর এক ধরনের ভ্রমর বসে থাকতো। এক গাছ থেকে আরেক গাছে উড়ে বেড়াতো পাখায় মুধুর গুন গুন শব্দ করে। আমরা চুপিসারে পেছন থেকে দুই আংগুল দিয়ে দু’পাশে চাপ দিয়ে ধরে ফেলতাম সেই কাজল ভ্রমর। ভ্রমরের হাটু ভাজ করে মোনকাটা ঢুকিয়ে দিতাম। সেই মোনকাটার সাথে সোলা লাগিয়ে ছেড়ে দিলে ভ্রমর কাটাসহ ঘুরতে থাকতো অবিরাম। আর গুন গুন শব্দ হতো ঘন্টার পর ঘন্টা। ভ্রমরের যে কষ্ট হতো সেটা আমরা বুজতাম না। এটা ছিল আমাদের কাছে খেলা।

আমরা এক সাথে ছোট দাদার পাগাড়ে জাপ পাড়তাম। দূর থেকে দৌড়িয়ে পানিতে গিয়ে পড়লে অথবা গাছ থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়াকে বলতাম জাপ পাড়া। দাদার গজারিগাছের আগায় উঠে বানরের মতো ঝাপিয়ে পড়তাম পাগারের পানিতে। সাঁতার কাটাকে বলতাম হাতুর পাড়া। ডুপ পাড়াকে ডুপ পাড়াই বলতাম। গুনে গুনে ডুপ পারতাম। মাথা বের করতাম আর বলতাম এক, দুই, তিন, …. নিরানব্বই, একশো…. দুইশ, ইত্যাদি। নাক মুখ দিয়ে নোংরা পানি প্রবেশ করতো। খুক খুক করে কাশতাম। সেই দৃশ্য এখন কল্পনাও করা যায় না। কি করে করতাম! পানিতে নল খেলতাম। পাতা ভাসিয়ে দিয়ে তার উপর হাতের তালু মেরে থাপ থুপ খেলতাম আমি ও গফুর কাক্কু।

 

গফুর কাক্কু অল্প কিছু পড়াশোনা করেছিলেন। বড় ছেলে হিসাবে বাপের সাথে মাঠে কাজ করতে হয়েছে অভাবের সংসারে। আমি নিজের বুদ্ধিমত পড়তে থাকি। পড়ে পড়ে শেষে ডাক্তার হয়ে যাই। সরকারি মেডিকেল অফিসার হই। মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করি। সেই ১৯৭৫ সন থেকে নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে থাকা হয় না। বছরে মাত্র কয়েকদিন বাড়িতে গিয়ে থাকি। যেখানেই থাকি বাল্যবন্ধু গফুর কাক্কুকে মনে পড়ে। বাড়ি গেলে গফুর কাক্কুর সাথে দেখা করি-ই। দেখা করি গফুর কাক্কুর মা বাবার সাথে। সবাই আমাকে পেয়ে খুশী হন।

 

কয়েকবছর আগের কথা। গফুর কাক্কু খিল ক্ষেতের মরিচ টালে কাজ করছিলেন। আমাদের এলাকার পাহাড়ি জমির একটু উচু ক্ষেতকে খিল বলে। গফুর কাক্কুদের বাড়ির সাথের খিল ক্ষেতটা আমাদের ছিলো। এই খিল ক্ষেতের মাঝখানে ফাঁকা অংশে খুব কাচামরিচ উৎপন্ন হতো। পাশে একটা বিরাট ছেচরা গাছ ছিলো। মদন টাক পাখি থাকতো সেই গাছ ভর্তি। আমরা এই পাখিকে আরং বলতাম। ১৯৭৪ সনের দুর্ভিক্ষের সময় বাবা এই খিল ক্ষেতটা মিয়া কাক্কুর কাছে বেচে দেন। কয়েক বছর পর সেই ক্ষেত নজ ভাই কিনে নেন। নজ ভাই এখনো সেই ক্ষেতে কাচা মরিচ আবাদ করেন। সেই ক্ষেতে গফুর কাক্কু কাজ করছিলেন। আমি ক্ষেতের সাথে কাঠাল গাছের ছায়ায় বসলাম। বেশ কয়েকজন পোলাপান আশেপাশে খেলা করছিলো। ওদের খেলতে দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে হলো। মনে হলো এমন বয়সে আমি এই মরিচটালে বাবার সাথে অনেক মরিচ তুলেছি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বড় চওনা হাটের দিন। এক মন, দেড় মন করে মরিচ তোলা হতো প্রতি হাটের দিন। গাছের ছায়ায় আমার কাছে কিছুক্ষণ বসলেন গফুর কাক্কু। কিছুক্ষণ পড় উঠে পাশের বনের দিকে গেলেন। ওটা আমাদের বন। দু’টা দুপুইরা ফুল তুলে এক বাচ্চা পোলাপানের মাধ্যমে আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন সেই ফুল। আমি বুঝতে পারলাম গফুর কাক্কুর ছোট বেলার কথা মনে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললেন “ভোমরা বিচরাইলাম, পাইলাম না। টেওরাকাটা গাছগুলা কাইটা ফালানে ভোমরা আসে না। বুঝলাম আমরা দু’জনই সেই শৈশবে চলে গিয়েছি।

 

গফুর কাক্কু নিঃসন্তান। গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ যুবক প্রবাসে গিয়ে চাকরি করলেও গফুর কাক্কুরা বিদেশ যাননি। এক ভাই দু’একজন সন্তান হবার পর মারা গেছে। কৃষি কাজে একটু কষ্ট হয় বলে কিছুদিন কাপড় চোপড়ের দোকান করেন হাটে বসে। আরেকটু আরামের জন্য তিনি দর্জির কাজ করতে থাকেন। আমাদের এলাকায় দর্জিকে বলা হয় খলিফা। তাই, তিনি গফুর খলিফা নামে পরিচিতি পান। কয়েক বছর খলিফার কাজ করার পর তার কোমর ও মেরুদণ্ড ব্যাথা রোগ হয়। এরপর তিনি বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট ঘর তুলে সামনে কাস্টমার বসার জন্য একটা ঘোড়াকাঠ বানিয়ে চা ও মনোহারি দোকান করেন। আমি ঐ ঘোড়াকাঠে বসে চা বিস্কুট খাই আর গল্প করি। তার সাথে সব সময় নাতি নাতকুর বসে থাকে। খালি গায়ে বসে থাকেন বেশী ভাগ সময়। দোকানটা ত্রিরাস্তার মোরে হওয়ায় ভালোই বেচাকেনা হয়। আমার হাত থেকে টাকা নেন না। নাতিদের হাতে মজা খাওয়ার জন্য কিছু দেই। নাতিরা সবসময় তার পিঠের সাথে ঘষাঘষি করে। গাল হাতায়। গলা হাতায়। কয় জনের ভাগ্যে হয় এমন সুখ?

 

গফুর কাক্কুকে নিয়ে একটা মজার ঘটনা শুনেছি। গফুর কাক্কু যখন ছোট্ট ছিলেন, হয়ত তিন কি চার বছর বয়সের, তখনকার কথা। গফুর কাক্কুর জ্যাঠাতো বোন মালেকা ফুফু গফুর কাক্কু থেকে সামান্য ছোট ছিলো। তারা দু’জন ছোট দাদার পাগাড় পাড়ে খেলা করছিলেন। গফুর কাক্কুর মা, মানে, আমাদের দাদী, পাগাড়ের পানিতে কাপড় কাচ্ছিলেন। তখনকার দিনে গ্রামের মায়েরা বড় বড় পাতিলে সোডা দিয়ে ময়লা কাপড় ও কাথা সিদ্ধ করে লম্বা কাঠের পিড়িতে কাপড় বাইরাইয়া ময়লা পরিস্কার করতেন। পিড়িকে আমরা ফিড়া বলতাম। কাপড় সিদ্ধ করাকে বলা হতো কাপড় খারে দেয়া। ডিস ভর্তি করে খারে দেয়া কাপড় পাগাড় পাড়ে নিয়ে পরিস্কার করতেন। কাপড় লম্বা করে ভাজ করে ধরে কাঠের ফিড়ার উচু অংশে দাড়িয়ে নিচু অংশের উপর কাপড় বাইরানো হতো। মাঝে মাঝে বাইরানো অংশ পাগাড়ের পানিতে চুবানো হতো। ছোট ছোট পোলাপান মায়ের কোমর ধরে দোল খেতো কাপড় বাইরানোর সময়। তাতে মায়েরা বিরক্ত হতো। গফুর কাক্কুও এমন ভাবে দাদীকে বিরক্ত করছিলেন। দাদীর মন চাইছিল যেনো গফুর কাক্কু বাড়িতে চলে যায়। তাই বলছিলেন “যাছে, আলুজা (বিরক্ত) করিস না, ছে।” গফুর কাক্কু মালেকা ফুফুর সাথে পাগাড়ের ওপারে চলে যায়। দাদী মনোযোগ দিয়ে কাপড় বাইরাইতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর মালেকা ফুফু বলে “চাচী, গফুর গেলো।” চাচীর ভালো লাগে। আর বিরক্ত করবে না। চলে যাক বাড়িতে। মালেকা ফুফু আবার বলে “চাচী, গফুর গেলো গ।” দাদীর আরো ভালো লাগে। মালেকা ফুফু আমার চেয়ে বয়সে সামান্য ছোট। তাই, আপনি বলি না। বেশ কিছুক্ষণ পর মালেকা ফুফু বলে “এল্লা, গফুর ভাইসা উঠছে গ, চাচী।” দাদী মাথা তুলে চেয়ে দেখেন গফুর কাক্কু পানি খেয়ে পেট ফুলে চিত হয়ে ভেসে উঠেছেন। তারাতাড়ি তুলে নিয়ে যান বাড়িতে। তারপর সাহেব আলী দাদা গফুর কাক্কুর পা ধরে চারদিকে ঘুরাতে থাকেন। গলা দিয়ে সজোড়ে পানি বেরুতে থাকে। অবশিষ্ট পানি বের করার জন্য পেটটা দাদার মাথার উপর রেখে পিঠে চাপ দেন। তারপর উঠানে পাটিতে শোয়ায়ে রাখেন উত্তর শিতানে করে। পাড়ার সবাই তামাশা দেখতে আসে। আর বলে “কিবায় পানিত পড়লো? মায় কি করছিলো? পোলাপান দেইখা রাখতে পারে না?” ইত্যাদি। মায়ে কয় “আমার কাছেই আছিলো। বিরক্ত করছিলো। আমি বাড়িত যাইতে কইছিলাম। কিছুক্ষণ পর মালেকা ছেড়িডায় কয়, চাচী, গফুর গেলো। আমি মনে করছি গফুর বাড়ি গেলো। ভালাই অইল। নিপরতাশি যদি কয় যে গফুর পানিতে ডুইব্বা গেলো তাইলে ত আমি বুঝতাম। তা না কইয়া খালি কয় গফুর গেলো। আমার বাবা পানি খাইয়া পেট ডিগডিগ অইয়া ভাইসা উঠছে যেসুম হেসুম কয় গফুর ভাইসা উঠছে।” গফুর কাক্কু হা করে লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে কো করে নিঃশ্বাস ছেড়ে দিলেন। সবাই বলে উঠলো “গফুর বাইচা আছে গ।”

 

আমার ময়মনসিংহের বাসার ছাদে বাগান করেছি। প্রায় ১৫০ টার মতো বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল ও সবজি আছে। প্রায় প্রতিদিন অল্পক্ষণের জন্য ছাদে যাই। গ্রামের আমেজ পাই। গতকাল ছাদে ঢেড়ষের ফুল দেখে গ্রামের বনের দুপুইরা ফুলের কথা মনে পড়লো। মনে পড়লো গফুর কাক্কুর কথা। তাই লিখে ফেললাম মোবাইলে টাইপ করে কাজের ফাঁকে ফাঁকে। স্মৃতি কথার নাম দিতে চেয়েছিলাম গফুর। কিন্তু এই নামে শরত বাবুর একটা গল্প আছে। তাই গেলো লাগিয়ে দিলাম নামের সাথে। আমি মালেকা ফুফুর উক্তি “গফুর গেলো” ভুলতে পারি না।

৩১/৮/২০২০ খ্রি.

ময়মনসিংহ

কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ লিংক

http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/