গেন্দু মিয়ার শহর দেখা

গেন্দু মিয়ার শহর দেখা

( হাল্কা হাসির হাস্তর)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

অনেক বড় বয়স পর্যন্ত পোলাপানি ভাব না যাওয়াতে তাকে সবাই গেন্দু ডাকতো। গেন্দুর আসল নাম কি তা আমাদের জানা নাই। গ্রামের মানুষ শিশুদের ছেলেদের বেলায় গেন্দা আর মেয়েদেরকে গেন্দু বলে ডাকতো। সেই গেন্দা থেকে গেন্দু হয়েছে। বড় হলে গেন্দুর সাথে মিয়া যোগ করে গেন্দু মিয়া হয়েছে। অনেক বড় হওয়া পর্যন্ত গেন্দু মিয়ার নাক দিয়ে হিনিত পড়তো। নাকের নিচে ঠোঁটের উপর যখন মোছের রেখ দেখা তারপর থেকে তার হিনিত পরে না। গ্রামের মানুষ মোছের রেখ দেখা দিলেই মনে করতো বিয়ের বয়স হয়েছে। তাই ছোট বয়সেই অনেকে ছেলের বিয়ে দিয়ে দিতো। আরেকটা কারনে অনেকে ছেলে বিয়ে করাতো। বিয়ে করলে কিছু যৌতুক পাওয়া যেতো। এখন যৌতুকের প্রথা নেই।

অনেকেই টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে টগি দেখে আসে। টগির গল্পের কথা অনেকের কাছেই গেন্দু মিয়া শোনে। করিম বকস ও রহিম বকস প্রায়ই টাঙ্গাইল গিয়ে টগি দেখে আসেন। একদিন গেন্দু মিয়া রহিম বকসকে বললো

– মিয়া ভাই, আপনেরা শহরে গিয়া কত কিছু দেইখা আইসা গল্প করেন। আমারও শহরে যাইতে ইচ্ছা করে।

– শহরে যাইবার সখ হইছে? তাহলে চল যাই একদিন। তয় একটা কথা আছে খরচাপাতি কিন্তু তোর দিতে হবে।

– কেমন খরচা অইব?

– আমি শহরে গেলে সবসময় রহিম বকসকে সাথে রাখি। কাজেই গেলে তিন জন একসাথেই যাবো। তিনজনের গাড়িভাড়া, সিনেমার টিকেট কেনা ও দুপুরে আপ্যায়ন হোটেলে খাওয়া বাবদ যা হয়। আমি পুরাপুরি হিসাবটা রহিমের সাথে বসে ঠিক করে বলবোনি। আর আরেকটা কথা, টাউনে গেলে কিন্তু ভালো কাপড় চোপড় ও জুতা মোজা পরে যেতে হবে।

পরিস্কার দিন দেখে তারা তিনজন টাঙ্গাইল রওনা দিলেন। গেন্দু মিয়া হাওই শার্ট গায় দিয়ে, টুইস লুঙ্গি পরে, নাগরা জুতা ও মোজা পায় দিয়ে নিলো। রহিম বকসরা এবার কোথাও কোন ফাঁকিঝুকি দিলেন না। কারন, এবার পরের টাকায় ভ্রমণ হচ্ছে। আমুদপুর পর্যন্ত হেটে গিয়ে তারা মোটর গাড়িতে উঠলেন। গেন্দু মিয়ার প্রথম মোটর গাড়ি দেখা হলো। এর আগে গ্রামে শুধু গরুর গাড়ি ও মহিষের গাড়ি দেখেছে। গাড়ির সাথে মোটর ইঞ্জিন যোগ করেছিলো বলে গ্রামের মানুষ বাসকে মোটর গাড়ি বলতো। সেইরূপ, সাইকেলের সাথে মোটর ইঞ্জিন যোগ করেছিলো বলে এগুলোকে মোটর সাইকেল বলতো। একটা লোক গাড়ির সিটের মাঝখানের করিডোর দিয়ে হেটে হেটে ভাড়া আদায় করছিলেন যাকে বলা হয় কনডাক্টর। কিন্তু যাত্রীরা বলতো কন্ডাকদার। কন্ডাকদারের গলায় চামড়ার ব্যাগ ঝুলানো থাকতো। সেই ব্যাগে কয়েকটা পার্টিশন থাকতো এক পয়সা, দুই পয়সা, ১০ পয়সা, চার আনা, আট আনা ও এক টাকার কয়েন পৃথকভাবে রাখার জন্য। সবাই কয়েন দিয়ে ভাড়া দিতো। ব্যাগ ঝাকি দিয়ে যখন কয়েন বের করা হতো ভাংতি দেয়ার জন্য তখন কয়েনে ঝনঝন শব্দ হতো। গেন্দু মিয়ার সামনে সিটে বসেছিলেন রহিম ও করিম বকস। কন্ডাক্টর রহিম ককসের কাছে “ভাড়া লন” বললে তিনি গেন্দু মিয়াকে বলে দিলেন ভাড়া দিয়ে দিতে। গেন্দু মিয়া হিসাব করে তিনজনের ভাড়া দিয়ে দিলো। টাঙ্গাইল তখন বাস টার্মিনাল ছিলো না। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার বাস যেতো টাঙ্গাইল হয়ে। গাজীপুর হয়ে যে রাস্তা হয়েছে ওটা অনেক পরে হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহের বাস কিছুক্ষণ টাঙ্গাইল শহরে থামতো। তাই ওটাকে বলা হতো টাঙ্গাইল বাস স্ট্যান্ড। এখন ওটার নাম পুরাতন বাস স্ট্যান্ড। এখানে নেমে ভিক্টোরিয়া রোড দিয়ে হেটে হেটে দোকানপাঠ দেখিয়ে দেখিয়ে মেইন রোডের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন গেন্দু মিয়াকে। শহরে প্রচুর লোক দেখে গেন্দু মিয়া মন্তব্য করলো — মিয়া ভাই, আমারে এরুম আটের দিন নিয়া আইছুন ক্যা?

– আরে বোকা, হাটের দিন না। শহরে দৈনিকই হাট লেগে থাকে। প্রতিদিনই গ্রাম থেকে অনেক লোক আসে শহরে এটা সেটা কেনার জন্য। বেশী ভাগ দোকান গুলা এই রোডে। এজন্য তোকে এই রোড দিয়ে ঘুরাইতেছি।

– মিয়া ভাই, এইহানে পেছাপ করমু কুনু?

– পেছাব করবি? আয়, এই খাল পারে বসে পেছাব কর।

নিরালা মোরের ব্রিজের নিচ দিয়ে বের হয়ে ভিক্টোরিয়া রোডের দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটা খাল ছিলো। খালের উপর বাঁশ গেড়ে টং ঘর তৈরি করে বেশ কিছু দোকান ও রাত্রিযাপনের হোর্ডিং ছিলো। এসবের ভেতরে বাঁশের উপর বসে বোর্ডাররা পায়খানা করতো। নিচের খালের পানিতে টপটপি পড়তো। ভিক্টোরিয়া রোড থেকে দেখা যেতো। রাস্টার ধারে একটা ট্যাপ থেকে পানি লিক করছিলো। গেন্দু মিয়া জিজ্ঞেস করলো

– মিয়া ভাই, ইডা কি?

– এটা পানির ট্যাপ। ই পানি খাওন যাবো?

– খাওয়া যাবে। উপরের মাথাটা ডান দিকে ঘুরা, পানি বের হবে। চৌল ভরে খাবি।

গেন্দু মিয়া ট্যাপ ঘুরিয়ে অঞ্জুলি ভরে পানি খেয়ে মন্তব্য করলো “টাউনের পানি ততা। ততা পানি খাইয়া পানি তুলাস গেলো না।” পানির পাইপ রৌদ্রে গরম হয়েছিল। তাই গেন্দুর কাছে পানি গরম লেগেছিলো।

সিনেমা হলের টিকিট করলো রিয়ার স্টলের। হলে যখন প্রবেশ করলো তখন হলের লাইট নিভিয়ে দেয়া হয়েছিলো। মোহিনী বিড়ির এডার্টাইজ দেখানো হচ্ছিলো রুপালি পর্দায়। গেন্দু মিয়া হলের ভেতর অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখছিলো না। বললো

– মিয়া ভাই, আন্ধাইর ছাড়া চোখে ত কিছুই দেখতাছি না। ঘুটঘুই্টা আন্ধাইর। দোয়াত জ্বালাইতে পারে না?

– রোদ্র থেকে এসে হলে প্রবেশ করাতে বেশী অন্ধকার দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আরও পরিস্কার হবে। টগি দেখাইতে হয় অন্ধকার ঘরে।

সিনেমা শুরু হলে সবাই দেখতে লাগলো। গেন্দুর কাছে আশ্চর্য লাগছিলো কিছু কিছু বিষয়ে তা হলো সিনেমার মানুষগুলো এই বিরাট বিরাট এই ছোট ছোট দেখে যায়। গাছ পালা নদী নালা বাড়িঘর এই হলের ভেতর আনলো কেমনে এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলো। বললো

– মিয়া ভাই, এতো কিছু এই ঘরের ভিতরে আনলো কেমনে?

– তুই বুজবি না। এসব সত্যি না। এগুলি ছবি। ঐ যে দেখ। দোতলায় পেছন দিক থেকে একটা ছিদ্র দিয়ে আলো প্রবেশ করে আমাদের মাথার উপর দিয়ে গিয়ে সামনের রূপালি পর্দায় পরছে। আলো প্রবেশের মুখে একটা চাকার উপর দিয়ে ঘুরে চলে যাচ্ছে ফটো ফিল্ম। যা পর্দায় পড়ার সাথে সাথে আমরা তাদের জীবিতের মতো দেখতে পাই।

সিনেমার সাপের দৃশ্য দেখে গেন্দু মিয়া উঠে দৌড় দেয়ার চেষ্টা করছিলো। রহিম বকস কাঁধের উপর চাপ দিয়ে বসিয়ে দিয়ে জিনিসটা যে বাস্তব না তা বুজিয়ে দিলেন। বিরতির সময় লাইট অন করে দিলে গেন্দু মিয়া ইলেক্ট্রিক বালব জ্বলতে দেখে জিজ্ঞেস করে “মিয়া ভাই, ইগুনা কিবা বাতি আগুন ছাড়াই জ্বলতাছে?” করিম বকস বুজিয়ে দেন “এগুলি কারেন্টের বাতি। জ্বলতে আগুন লাগে না।” ইলেক্ট্রিক ফ্যান ঘুরতে দেখে গেন্দু জিজ্ঞেস করে “এগুনা চরকির মতো ঘুরে কেন?” করিম বকস বুজিয়ে দেন “এগুলো বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান। মানে কারেন্টের বিচুন। ”

হল ভাঙ্গার পর তারা আপ্যায়ন হোটেলে খেতে গেলেন। বোয়াল মাছ, বাচ্চা মুর্গি গোস্ত, ডিম ও ডাউল ছিলো রেসিপি। গেন্দু মিয়ার হাতে যে টাকা আছে তা ডিম ও ডাউল দিয়ে খাওয়া ছাড়া উপায় ছিলো না। তাই, ভাতের সাথে ডিম ও ডাউল অর্ডার দেয়া হলো। এক টেবিলে রমিম ও করিম বকস আরেক টেবিলে গেন্দু মিয়া বসলো। গেন্দু মিয়া সেদ্ধ ডিম খাবার সময় দেখলো যে ডিমের ভেতর মুরগির বাচ্চা। ডিমটা খোসাসহ ছিলো, না খোসাছাড়া ছিলো তা আমার জানা নেই। এগুলো আমার শোনা কথা। তাই আমার কাছে গোজামিল মনে হচ্ছে। যাহোক ডিমের ভেতর সেদ্ধ বাচ্চা ছিলো এটা ঠিক। এগুলো হলো কুইচা মুরগির ডিম। দেশী জাতের মুরগিরা ২০-২২টি ডিম পারে ডোলের ভেতর ধানের উপর। বাচ্চা ফুটানোর জন্য ডিমের উপর ২২ দিন পর্যন্ত বসে থাকে। এজন্য ডিমগুলোকে একটা ঝাইঞ্জরের মধ্যে খের বিছিয়ে ডিমের উপর বসিয়ে দেয়। শরীরের তাপে ডিমের ভেতর ভ্রুন থেকে বাচ্চা হয়। ডিমের ভেতর থেকেই ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে খোসা ফাটিয়ে চেও চেও করে বাচ্চা বের হয়ে আসে। প্রথম দিকে অল্পক্ষণ তাপ দেয়। শেষের কয়েকদিন খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে একটানা তাপ দিয়ে যায়। তখন মুরগি খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এগুলোকে কুইচা মুরগি বলে। আর ডিমগুলোকে বলা হয় কুইচা মুরগির ডিম। আগের দিনের ডিমের পাইকাররা ঢাকি কাঁধে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ডিম কিনে নিতো। বাড়ির কাছে এসে ডাক দিতো “ও আন্ডা।” মেয়েরা মুরগি ও হাসের ডিম নিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতেন। পোলাপানরা তাদের মা বাড়িতে না থাকলে চুপি চুপি কুইচা মুরগির ডিমও বেচে দিতো। ডিমের কাছে গেলে কুইচা মুরগি ঠোকর মেরে দেয়। গেন্দু মিয়াও একদিন যুত করে কুইচা মুরগির ডিম বিক্রি করেছিলো। ডিমের ভেতর বাচ্চা দেখে পেছনের টেবিলের দিকে ঘুরে গেন্দু বললো “মিয়া ভাই, আন্ডার ভিতর মুরগির বাচ্চা।” করিম বকস বললেন “কথা কইস না, খেয়ে ফেল। নইলে বাচ্চার দামও দিতে হবে।” গেন্দু বাচ্চাসহই ডিম খেয়ে ফেললো। খাওয়া শেষে গেন্দুর তীব্র পায়খানার বেগ ধরলো। বললো

– মিয়া ভাই বাইরে যামু।

– খাওয়ার টাকা দিয়ে যা।

– টাকা পরে, আগে বাইরে যাওন নাগবো, থাকবার পারতাছি না।

বলে সে দরজা দিয়ে বের হতে লাগলো। করিম বকস বললেন

– ওদিকে যাস কেন?

– আমার খুব আগা ধরছে। বাইরে যামু। জংলা দেইখা এক জায়গায় বইসা পড়মু।

– দূর বোকা, এখানে জংলা পাবি কই? ভেতরেই পাইখানা ঘর আছে।

গ্রামের মানুষ তখনকার দিনে অনেকেই লেট্রিন ব্যবহার করতো না। বাড়ির বাইরে গিয়ে ঘাটের ওধারে অথবা ঝোপঝাড়ে বসে প্রাকৃতিক কাজ সেরে নিতো। লেট্রিনে বসে একজনের পায়খানার উপর আরেকজন পায়খানা করা তারা পছন্দ করে না। জংলায় গিয়ে ডেউ পেড়ে পেড়ে জায়গা বেছে নিয়ে সুবিধামতো এক জায়গায় বসে তারা পায়খানা করতো। বাড়ির বাইরে গিয়ে পায়খানা করতে হতো বিধায় পায়খানায় যাওয়াকে তারা বাইরে যাওয়া বলতো।

ওয়েটারকে বললেন গেন্দুকে লেট্রিন দেখিয়ে দিতে। গেন্দুকে লেট্রিনের ভেতর ঢুকিয়ে দরজা চাপিয়ে ওয়েটার এসে পড়লো। গেন্দু দেখলো পোস্তাকরা তেলতেলা পাকা ঘর। এখানে পায়খানা করবো কিভাবে তা বুঝার আগেই ওটা বেরিয়ে এলো আলোর পথে। গেন্দু তারাতারি মোজা খুলে মোজার মধ্যে ধরে ফেললো। এখন কি করা যায়। উপরের দিকে চেয়ে দেখলো ওয়ালের একটা ছিদ্র দিয়ে বাইরের আলো প্রবেশ করছে। চিন্তা করলো এই ছিদ্র দিয়ে বাইরে ছুড়ে মারবে। কিন্তু ভেন্টিলেটরের ছিদ্রটা ছিলো অনেক উঁচুতে। একটা বুদ্ধি এলো তার মাথায়। মোজার বন্ধ দিকটা ডান হাত দিয়ে ধরে ভেন্টিলেটরের দিকে মুখ করে সজোরে মোজা ঘুরাতে থাকলো। মোজার সব কিছু ছুটে ছূটে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে গিয়ে পড়লো। তারপর লক্ষ্য করলো ছিটেফোঁটা শুধু ভেন্টিলেটর দিয়েই যায়নি। চারিদিকের ওয়ালেও রেখ রেখে করে বিভিন্ন ডিজাইনে দাগ পড়েছে। গেন্দু অবাক হয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করতে লাগলো। এদিকে গেন্দু অনেক্ষণ লেট্রিনে দেরি করছে দেখে ওয়েটার এগিয়ে গেলো। সেও সেই দৃশ্য দেখে জিজ্ঞেস করলো “এগুলো কি?” গেন্দু উত্তরে বললো “আমার পায়খানা।” দেখে ওয়েটার অবাক হলো। এসে সবাইকে খবর দিলো এই বলে “দেখে যান এক কাস্টমার কত ডিজাইন করে পায়খানা করেছে। যে দেখে সেই অবাক হয় এবং মুগ্ধ হয়। ভির বেড়েই চললো। শেষের দিকে কেউ আর আসল ঘটনা না জেনে এটাকে একটা শিল্পকর্ম মনে করে দেখতে লাগলো। ভিক্টোরিয়া রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন চিত্রশিল্পী রাফি চৌধুরী। তিনিও লোকমুখে শুনে দেখতে গেলেন। তিনি অনেক লম্বা লোক ছিলেন। সবার মাথার উপর দিয়ে তাকিয়ে দেখে মন্তব্য করলেন ” শিল্পকর্মটি আসলেই মনমুগ্ধকর।”

২/১২/২০২০

ময়মনসিংহ

 Rate on this writing:

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)

Loading...
Online book shop of Dr. Sadequel Islam Talukder
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/