লঞ্চডুবি

লঞ্চডুবি
(কল্প কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

হুরমুজ আলী এসএসসি ফেল করে আর পড়তে পারেনি। বাবা ছিল না। অভাবের সংসার। মা ও ছোট তিন বোনের খরচ যোগার করতে হিমসিম খেতে হয়েছে হুরমুজ আলীর। কাজের চাপে থাকতে হয় সবসময়। তাই, বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতে পারে না। আড্ডা না দিতে পারলে বন্ধু বান্ধবও জোটে না। নিজে কামাই করে বোনগুলারে বিয়ে দিয়েছে। বোন বিয়ে দেয়ার পর তার বিয়ে করতে হয়েছে। তার ঘরে এসেছে তিন সন্তান। কিছুদিন আগে তার মাটাও মরে গেছে। এতদিন ধর্মকর্ম কিছু করে নাই। এখন বয়স বাড়ছে ধর্মকর্ম করতে হবে। এবয়সে কায়দা সিপারা পড়া তারপক্ষে সম্ভব না। মাদ্রাসা মক্তবে গিয়ে পোলাপানদের সাথে বসে পড়ার বয়স এখন নাই। আল্লাহকে পেতে হলে আল্লাহর কাজকর্ম কিছু করতে হবে। এই বয়সে তাবলীগে গেলে হয়তো কিছু শেখা যাবে। দুইএকদিনের জন্য অল্প কিছু সময় দিল জামাতে। কিন্তু এভাবে সময় দেয়াটা তার কাছে কঠিন মনে হলো। ওর ভালো একটা গুন হলো ও বিড়ি সিগারেট টানে না। পান খাবার অভ্যাসও ওর নেই। আগে খুব ভালো হাডুডু খেলতে পারতো। দম দেয়ার সময় অনেকক্ষণ দম ধরে রাখতে পারতো। দম দেয়ার সময় পায়ের গোছায় পাঁচ জনে ধরে ফেললেও এক ঝেংটা টানে সে ছুটে আসতে পারে। হুরমুজ আলী ভালো ডুব খেলতে পারে। অনেকক্ষণ সে পানিতে ডুব দিয়ে থাকতে পারে। পানিতে নল খেলার সময় পাড়ার কেউ তার সাথে পারতো না ছোট বেলা।
ময়েজ ফকিরের সাথে একদিন দেখা হলে হুরমুজ জিজ্ঞেস করল
-চাচা, আপনাকে তো নামাজ পড়তে দেখিনা?
– আমি তরিকার লোক। আমার নামাজ অন্য রকম। তোমরা দেখতে পাবা না।
– আপনে কোন তরিকার ধরা।
– আমার মুর্শিদ হলো ছোনপুরের জইনা পীর সাব। খুবই কামেল পীর।
– মাওলারে পাইতে হলে কি করতে হয়?
– মুর্শিদের মুরিদ হতে হবে। চলো এবার আমার মুরশিদের কাছে নিয়ে যাই। আমার মুর্শিদকে ধরলে মাওলাকে পাওয়া সহজ।
– ঠিক আছে আমারে জইনা পীর সাবের কাছে নিয়ে যাবেন। পীর সাবকে কি কিছু দিতে হবে?
– মুর্শিদের সাথে দেখা করার আদব আছে। মুর্শিদের খাস কামড়ায় প্রবেশ করে মুর্শিদের সাক্ষাৎ পেতে হয়। মুর্শিদকে দর্শন করে হাতে কিছু নজরানা দিতে হয়।
– কিবায় কি দিতে হয়?
– বাবার হাতে টাকা দিতে হয়। যত বেশী টাকা বাবার হাতে দিবা তত তুমি কামিলিয়ত পাবা।
– তার দরবারে গেলে কি বিশেষ কোন জামা কাপড় পরে যেতে হবে?
– না। বাবা কারো কাপড় চোপড় দেখেন না, দেখেন শুধু দেলটা। বাবাকে ধরতে পারলে মাওলাকে পাওয়া খুবই সহজ।
একদিন মইজুদ্দি ফকিরের সাথে হুরমুজ আলী ছোনপুরের বাবার দরবারে গেল। ১,০০০ টাকার নজরানা দিয়ে বাবার সাক্ষাৎ পেল। বাবা তিনটা শব্দ শিখিয়ে দিলেন একমাস কলবে জপবার জন্য । দিনে দুইবার জপলেই হবে। হুরমুজ আলী ভাবল এই তরিকাই তো সহজ তরিকা। তারপর ঘুরে ঘুরে পীর সাবের দরবার দেখল। বিশাল এলাকা জুড়ে পীর সাবের দরবার। সুন্দর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যেন এক চিরিয়াখানা। একেক ঘরে একেক রকম পশু পাখি পালন করা হচ্ছে। আছে বড় বড় উট, মহিষ, ষাড় গরু, দুম্বা, রাম ছাগল, ভেড়া, তার্কী মুরগি, ময়ুর ইত্যাদি। আছে নানা জাতের ফুল ও ফলের বাগান। দেখে হুরমুজ আলীর মন ভরে গেলো। ময়েজ ফকিরকে জিজ্ঞেস করল
– চাচা, পীর সাব এত কিছু যোগার করল কেমনে। এতো টাকা পয়সা কামাই করলো কেমনে। ওনার কী কোন বড় ব্যবসা আছে?
– পীর সাবের টাকার অভাব আছে? বাবার মুরীদ আছে হাজার হাজার। সবাই নজরানা নিয়ে দেখা করতে আসে। তাছাড়া কেউ বিপদে আপদে পড়লে বাবার কাছে দোয়া নিতে আসে। বাবার দোয়ায় যে কোন মুশকিল আছান হয়। ওড়সের সময় বড় বড় ধনী মুরিদানরা বড় বড় উট, ষাড়, মহিষ, খাসি ইত্যাদি নিয়ে আসে দরবারে। যাদের সামান্য কিছু আনার সামর্থ্য আছে তারাও মোরগ মুরগি নিয়ে আসে। চাউল ডাউল তো আনেই। যার কিছু নাই সে এখানে এসে খাটাখাটি করে।
– এখানে খাবার কী ব্যবস্থা আছে?
– আসো যাই খেয়ে আসি। খাবার জন্য টিকিট নিতে হবে। টিকিট দেখালেই থালায় খাবার দিবে। বেঞ্চে বসে খেয়ে নিবো। প্রতিদিন শত শত মুরিদান দর্শনার্থীদের জন্য রান্না হয় বাবার দরবারে। বাবার মধ্যে অনেক কেরামতি আছে। একবার ওড়শের দিন বাবায় ধ্যান করছিলেন। তিনি ধ্যানের মধ্যে দেখতে পান তার একদল মুরিদ নৌককা যোগে দরবারে আসার সময় ৫ মাইল দুরে নদীতে ঝরের কবলে পরছে। বাবা মাইকে সবাইকে জানিয়ে দিলেন এই কথা। এবং সবাইকে মাওলার দরবারে মুরিদানদের দোয়া করতে বললেন। বাবার সাথে আমরা সবাই হাত উঠায়ে দোয়া করলাম। দেখো কোথায় পাঁচ মাইল দুরে নৌকা ঝরের কবলে পড়ছে আর বাবায় এখানে ধ্যানে বসে দেখতে পাচ্ছে। ঐ নোকায় বাবার মুরিদরা ছিল বলেই বাবায় দেখতে পাইছে। মুরিদদেরকে বাবায় চোখে চোখে রাখেন।
– চাচা, পীর মুর্শিদ হতে গেলে কী লাগে?
– পীর হতে গেলে আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দা হতে হয় এবং পীর মুর্শিদের কাছে থাকতে হয়। আমাগো হুজুর অনেক দিন আগে ভারত থেকে এক বড় পীরের দরবারে থেকে পীর হয়ে এসেছেন। ইনি নাকি আগে জাহাজের কুলি ছিলেন।
– জাহাজের কুলি থেকে পীর হয়েছে?
– আল্লাহ পাক চাইলে কী না হয়?
– চাচা, আমি চেষ্টা করলে পীর হতে পারবো?
– সেটাও আল্লাহ পাক ভালো জানেন। ফানাফিল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাইতে পারলে তো কথাই নাই।
বাড়িতে এসে হুরমুজ আলী ঝিম মেরে গেলো। সারাক্ষণ ভাবে কি করে ছোনপুরের পীর সাবের মতো পীর হওয়া যায়। দুনিয়াতেও শান্তি। আখেরাতেও শান্তি।

একটা ছোট লঞ্চে চড়ে হুরমুজ আলী নবগঙ্গা নদী পথে হাতীমারা ছাচ্ছিল ব্যাবসার কাজে । লঞ্চে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলো । হেলান দিয়ে বসে চিন্তা করছিলো কি করে পীর হওয়া যায় । ভাবতে ভাবতে তন্দ্রা এসে গেলো হুরমুজ আলীর । পেছন দিক থেকে একটা বড় লঞ্চ এসে ছোট লঞ্চটার প্রায় কাছাখাছি এলো । বড় লঞ্চটার হাত থেকে বাচার জন্য ছোট লঞ্চটা যেই ডান দিকে মোচর দিয়েছে অমনি ওটা সোজা উলটে বড় লঞ্চের নিচে পড়ে ডুবে নদীর তলায় চলে গেলো । একজন যাত্রীও বের হতে পারলো না । হাতীমারা ঘাটের সিসি ক্যামেরায় এই দৃশ্য ধরা পড়লো । মুহুর্তে এই ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওটা টেলিভিশন ও ফেইসবুক সোসাল মিডিয়ায় প্রচার হতে লাগলো । টিভি নিউজে দেখে হুরমুজ আলীর বউ আতকে উঠলো । হুরমুজকে ফোন দিলো । ফোন বাজলো না । বউ বুজে ফেললো হুরমুজের ভাগ্যে কি হয়েছে । ফোন যেহেতু বাজছে না সে ধরেই নিলো হুরমুজ আলীর সলিল সমাদি হয়েছে ।

তন্দ্রার মধ্যে হুরমুজ একটা ঝাকুনি খেয়ে সীট থেকে পড়ে গিয়েছিল । তাকে পানি ঘিরে ফেলেছে । সে বুজতে পারলো লঞ্চ ডুবে গেছে। এখন বাচার চেষ্টা করতে হবে । সে আগে থেকেই ডুবে থাকায় পাকা ছিল । সে দম বন্ধ করে আশে পাশের দরজা জানালা খুঁজতে লাগলো । সে হঠাত বাতাসের সন্ধান পেলো । নাক মুখ-ভরে বাতাস নিয়ে নিল । অন্ধকারে কিছু দেখা গেলো না । হাতে একটা খুটির মতো লাগলো । ওটাতে ধরলো সক্ত করে । খুঁটির নিশানা সে ঠিক রেখে এদিক সেদিক ঘুরাগুরি করলো । সব দিকেই পানি । পানির বেড়া । হাতে লাগছে । উপর দিকে বাতাস । খুঁটি বেয়ে উপর দিকে উঠার চেষ্টা করলো । কিন্তু উপর দিকে ছাদের মতো । হুরমুজ সাহস পেলো । মনে করলো হয়তো কাছাকাছিই আছি । কেউ এসে উদ্ধার করবে । অঞ্জলি ভরে কিছু পানি খেলো । কিছুক্ষণ পর অনেক প্রশ্রাব হলো । পাশের পানি নিয়ে অজু করলো । ইশারায় দু’রাকাত নামাজ পরলো । সুরা হাশর, আয়াত আল কুরশি ও ইয়াসিন সুরার কিছু অংশ পড়ে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করে কান্নাকাটি করলো যেন এখান থেকে কেউ এসে তাকে উদ্ধার করে । তার মনের ভিতর ভিসন বল ছিল । আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে কিছু চাইলে আল্লাহ নিরাশ করেন না । তাবলীগে গিয়ে এটা শিখেছিলো । এভাবে আশায় আশায় তার সময় যাচ্ছিল। এই যে পানির ভিতর বাতাসের ঘরে হুরমুজ আলী বেচে আছে এটাও সে মনে করলো আল্লাহ তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে দিয়েছে । কাজেই, সে আল্লাহ ভরসা করে অপেক্ষায় থাকলো ।

লোকে লোকারণ্য ঘটনা স্থল। টিভি চ্যানেললোতে লাইভ দেখাচ্ছে। স্বজনরা আহাজারি করছে। লঞ্চ এত পানির গভীরে চলে গেছে যে লঞ্চেরই হদিস পাচ্ছে না উদ্ধারকারী দল। প্রায় ৯ ঘন্টা পর পানির নিচে লঞ্চের হদিস পাওয়া গেলো। পঞ্চাশ জন যাত্রীর একটা লাশও ভেসে উঠেনি। তার মানে সব যাত্রী লাশ হয়ে লঞ্চের ভিতরেই আটকা পড়েছে। লঞ্চ পানির নিচ থেকে টেনে তোলার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমকে আনা হলো। প্রথমে ডুবুরিরা বেলুন নিয়ে গিয়ে লঞ্চের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে এলো। মেশিন দিয়ে পাম্প করে মস্তবড় বেলুনটা ফুলালে বাতাসের চাপে লঞ্চটার ছাদ পানির উপর জেগে উঠলো। ততক্ষণে রাত হয়ে গেছে। উৎসুক জনতার সংখ্যাও কমে গেছে। শুধু লাশের স্বজনরা রয়ে গেছে লাশ সনাক্ত করে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। ইতিমধ্যে ডুবুরিরা একটা দু’টা করে লাশ তুলে আনা শুরু করলো লঞ্চের ভেতর থেকে। সবার দৃষ্টি লাশের দিকে।

ডুবুরিরা পানির নিচে লঞ্চের ভেতর থেকে খুঁজে খুঁজে লাশ ধরে ধরে বের করছে। এক ডুবুরি পেয়ে গেলো হুরমুজ আলীকে। সে হুরমুজ আলীর পা ধরে টেনে তুলে আনলো পানির উপরে। একজনে মুখের উপর টর্স লাইট ফেললো লাশ সনাক্ত করার জন্য। হুরমুজ আলী চোখ খুলে একটু তাকিয়ে আবার বন্ধ করে দিলো। শরীর খুব দুর্বল । ঠিক ঠাক স্বাস নিলো। তাতে পেট উচু নিচু হলো। একজন বলে উঠলো “এ্যা, এতো বেঁচে আছে মনে হয়!” হুরমুজ আলী সামান্য হা করে স্বাস নিলো। সবাই নিশ্চিত হলো বেঁচে আছে। একজন চিতকার করে বলে উঠলো “একজন বেঁচে আছে এখনো। সবাই দোয়া কালাম পড়ুন।” টিভি সাংবাদিকরা সবাই লাইভ দেখানো শুরু করলো হুরমুজ আলীকে। হুরমুজ আলী মিটিমিটি তাকায় আর মৃদু মৃদু নিশ্বাস নেয়। উদ্ধারটীমের হেলথ ওয়ার্কাররা হুরমুজ আলীর শরীরের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য যতরকম চেষ্টা করা দরকার সব করতে লাগলো। একজনে ফোমের কম্বল দিয়ে তার শরীর ঢেকে দিলো। দু’জনে দু’পায়ের তলা মাসাজ করতে লাগলো। দু’জনে দু’হাতের তালু মাসাজ করতে লাগলো। এমন আরাম হুরমুজ আলী জীবনেও পায়নি। সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তারা তার শরীর মাসাজ করে দিচ্ছে। এতো সৌভাগ্য ক’জনার হয়? হুরমুজ আলী চোখ বন্ধ করে উপভোগ করছে। টিভিতে লাইভ ব্রটকাস্টিং চলছে অবিরাম। সারা বিশ্বের কোটি বাংগালী যে যে দেশেই থাকুক না কেনো দেখছে হুরমুজ আলীকে। টিভি সাংবাদিকের সব কথা হুরমুজ আলী চোখ বুঝে শুনতে পাচ্ছে। সে শুনতে পাচ্ছে সাংবাদিক বলে চলেছেন “দর্শক আপনারা দেখতে পাচ্ছেন লঞ্চডুবির ১৩ ঘন্টা পরও গভীর পানির নিচে একজন যাত্রী বেঁচে আছেন। আমাদের দক্ষ ডুবুরিরা তাকে বের করে এনেছে। তাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। শিগগির তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হবে। তাকে অক্সিজেন দিতে হবে। তার আগে তার শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চলছে। রাখে আল্লাহ, মারে কে? মারে আল্লাহ রাখে কে? ১৩ ঘন্টা পানির নিচে থেকেও আল্লাহ পাক মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ এক অলৌকিক ঘটনা আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি।” এই কথাগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সাংবাদিক অনবরত বলে যাচ্ছিলেন। হুরমুজ আলী চোখ বন্ধ করে শুনে যাচ্ছিল। তার বলতে ইচ্ছে করছিল “তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করছে না। বাড়ানোর চেষ্টা করছে।” কিন্তু সে তা না করে আরাম পেতে থাকলো।
সারা বিশ্বের অগনিত বাংগালী এই দৃশ্য দেকে হতবাক হলো আর আল্লাহ পাকের কুদরতের তারিফ করতে লাগলো। অনলাইন টিভি নিউজের নিচে লাখ লাখ কমেন্ট পড়লো। পড়ে শেষ করা যাচ্ছিল না। কয়েকটার নমুনা দেয়া হল
“রাখে আল্লাহ, মারে কে”
“আল্লাহ পারে না এমন কিছু নাই।”
“আল্লাহ চাইলে মাছের পেটেও মানুষ জিন্দা রাখতে পারে।”
“লোকটা নিশ্চয়ই কোন কামিলকর লোক হবে। আল্লাহর প্রিয় বান্দা।”
“এখনও আল্লাহর দুনিয়ায় আল্লাহর প্রিয় বান্দা বেঁচে আছে।”
“এ এক অলৌকিক ঘটনা। ”

রীমান আহমেদ পড়ার ফাঁকে ফাঁকে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছিল আর ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করছিল। সে কোন কিছুই সহজে মেনে নেয় না। তার একবার ইচ্ছে হলো কমেন্ট বক্সে লিখতে “এটা হতে পারে না। কোন কিন্তু আছে এর মধ্যে।” কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষ এক দিকে আছে সরল বিশ্বাস নিয়ে। সেখানে এমন কমেন্ট করলে তাকে খারাপ ভাববে। তাই, আপাতত কোন কমেন্ট লিখল না। রীমান কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষ এমবিবিএস পড়ে। মানবদেহের ফিজিওলজি ও প্যাথলজি পড়া তার শেষ। কাজেই যতই আল্লাহর কুদরতের দোহাই দিয়ে এই ঘটনার বর্ণনা দেয়া হোক না কেনো এটাতে কোন কিন্তু আছে। ইসলাম ধর্মের বই পুস্তক পড়ে তার আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়েছে। আল্লাহ এমন করেন না। করলেও সেটা নবী রাসুল গণের বেলায় প্রযোজ্য। সেই পর্ব আল্লাহ নিজেই ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। ১৩ ঘন্টা পানিতে জীবিত থাকার ঘটনা রীমানের বিশ্বাস হলো না। রীমান নতুন করে পড়তে লাগলো এই তত্ব জানার জন্য যে পানিতে ডুবে থাকলে মানুষ কতক্ষণ জীবিত থাকতে পারে? স্বাস না নিয়ে মানুষ কতক্ষণ জীবিত থাকতে পারে? ব্রেইনে কতক্ষণ অক্সিজেন না পেলে মানুষ জীবিত থাকতে পারে? সহজে জানার জন্য সে গুগুল সার্স দিলো। একটা জায়গায় সে এমন একটা ৩ এর হিসাব পেলো “মানুষ সাধারণত ৩ মিনিট অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে, ৩ দিন পানি ছাড়া বাঁচতে পারে, ৩ সপ্তাহ খাবার ছাড়া বাঁচতে পারে।” তবে এর থেকে কিছুটা এদিক সেদিক হতে পারে। কাজেই ঐ লোকটার কোন দুই নম্বরি থাকতে পারে।

এদিকে রাতে হুরমুজ আলী বাড়ি না ফেরাতে হুরমুজ আলীর স্ত্রী চিন্তিত হলো। ফোন দিলে ফোন রিং হলো না। চিন্তায় বউ ছটফট করছিল। স্বামীর চিন্তায় ঘুম আসছিলো না। মেয়ে হ্যাপি আক্তার দেখেছে তার মা বিছায় একবার শোয় আবার উঠে। মেয়ে মাকে জিজ্ঞেস করে
– মা, তুমি ঘুমাও না?
– কি ঘুমামু, মশায় ধরে।
– ক মশা, আমারে ত ধরে না?

কিছুক্ষণ ছটফট করে একময় ঘুমিয়ে পড়ে। এদিকে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তাররা হুরমুজ আলীকে সুস্থই পান। তাই, তেমন কিছু করতে হয়নি। শুধু বিছায় বিশ্রাম। কাউকে রোগীর সাথে কথা বলা নিশেধ। রাতে আরামে ফোমের নরম বিছানায় শুয়ে শুয়ে হুরমুজ আলী ভাবে পীর বনে যাবার এটাই মোক্ষম সময়। সময় মানুষের একবারই আসে। এবার তার সময় এসে গেছে। খুব কৌশলে কাজে লাগাতে হবে। একবার মনে হলো বউকে একটা ফোন দেয়। কিন্তু ফোনটা পানিতে হারিয়ে গেছে। তার পরনে লুঙ্গি ছিল। লুঙ্গি কোসা দিয়ে পানিতে নেমেছিল। মোবাইলটা রেখেছিল লুঙ্গির কোছায়। ডুবুরি হুরমুজের লুঙ্গি ধরে টান দিলে মোবাইল পানিতে পড়ে যায়। মোবাইলের ভেতরে পানি ঢুকে হয়তো ওটা বন্ধ হয়ে গেছে। বউয়ে ফোন করলেও পাবে না। ফোনের চিন্তা করি না। একবার পীর হতে পারলে অমন মোবাইল কেনা কোন ব্যাপারই না। আগামীকাল টিভি সাংবাদিক আসতে পারে। সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে হবে। কি কি বলতে হবে হুরমুজ আলী ভালো করে গুছিয়ে রাখলো। সকাল ১০ টায় সাংবাদিক এসে লাইভ সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু করলেন। আবার সারা বিশ্বের বাংগালীদের চোখ গেলো টিভি পর্দায়। ফেইসবুকেও লাইভ ভিডিও ব্রটকাস্ট হলো। রীমানও সেই সাক্ষাৎকার শুনলো। লাইক কমেন্টে ভরে গেলো নিউজ পোর্টাল।

বাড়িতে হুরমুজের মেয়ে হ্যাপি আক্তার টিভিতে দেখতে পেলো তার বাবাকে হাসপাতালের বেডে বসে সাক্ষাৎকার দিতে। মা রান্না ঘরে রান্না করছিল। ডাক দিয়ে বলল “মা, দেখে যাও, বাবারে টিভিতে দেখাইতাছে।” দৌড়ে এসে টিভির সামনে দাড়ালো হুরমুজের বউ। সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন
– ভাই, আপনার নাম কি?
– আমার নাম হুরমুজ আলী বেপারি।
– ভাই, লঞ্চটা কিভাবে ডুবে গেলো সেটা কি একটু বলবেন?
– আমি ছিলাম লঞ্চের ভিতর বসা। একটু ঘুম ঘুম লাগছিল। একটা আঁতকা মাইরা জাকি খাইলো। তার পরই লঞ্চটা পানির নিচে চলে গেলো।
– আপনি লঞ্চের কোন পাশে বসেছিলেন?
– আমি বসা ছিলাম লঞ্চটার ডান দিকে।
– তারপর কি হলো তা দর্শকদের উদ্দেশ্যে খুলে বলুন।
– আমি বারী খেয়ে ছিটকে পড়লাম ইঞ্জিনের কাছে। হাতে একটা কি যেনো বাজলো। শক্ত করে ধরে ফেললাম এই ভেবে যে এক সময় যখন লঞ্চটা উঠানো হবে আমি সহ যেন উঠে আসি।
– ডুবে গিয়ে পানি খেয়েছিলেন না?
– পানি প্রথমই অল্প কিছু খেয়েছিলাম। তা পেছাব করার পর পেট খালি হয়ে যায়।
– আপনি পানি খেয়ে পেছাব করেছেন?
– হে, পেছাব করার পরই পেট খালি হয়ে যায়। তারপর আমি অজু করি। কলেমা পড়ি। আল্লাহ পাককে ডাকি। আপনি পানিতে ডুবে ছিলেন। আবার বলছেন অজু করলেন। কিভাবে?
– আমি যেখানে ছিলাম সেখানে পানি ছিলো না। একটা লাশ পরে ছিলো। আমি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছি।
– লঞ্চ পানির নিচে গভীরে ডুবে ছিল। আপনার জায়গায় পানি ছিলো না। এটা কি করে হয়?
– আল্লাহ পাকের ইচ্ছা। আল্লাহ পাক আমাকে রক্ষা করেছে। আমি অজু করে আল্লাকে ডেকেছি। সুরা হাশর পড়েছি, সুরা ইয়াসিন পড়েছি। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেছি। মাওলাই আমারে বাঁচাইছে।
– তো দর্শক। আপনারা দেখছেন গতকাল রাতে যে লঞ্চটা উদ্ধার করা হয়েছে ডুবে যাওয়ার ১৩ ঘন্টা পর সেই লঞ্চেরই একজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আল্লাহ চাইলে সবই পারে। রাখে আল্লাহ মারে কে?

এদিকে হুরমুজের বউ টিভিতে সাক্ষাৎকার দেখে কপাল থাপরাচ্ছে আর বলছে “যে নাকি নামাজও ঠিক মতো পড়ে না। সে এগুলো কী বলছে। হাসপাতাল বেড থেকে দেয়া অনলাইন সাক্ষাৎকার দেখে লাখো লাখো কমেন্ট পরতে লাগলো আল্লাহর কুদরতের তারিফ করে। এখনো আল্লাহর প্রিয় বান্দা আছেন। প্রিয় বান্দাদেরকে এভাবেই আল্লাহ রক্ষা করেন মৃত্যুর হাত থেকে।
কিন্তু রীমান এবার উল্টো কথা লিখে ফেললো কমেন্টে। লেখলো “আমার কাছে লোকটার কথা শুনে গাঁজাখুরি কথা মনে হলো। সন্দেহ করতে হবে। আপনারা একটু খতিয়ে দেখুনতো উদ্ধারের আগ মুহুর্তে তাকে আশে পাশে দেখা গেছে কিনা কোন ভিডিও ফুটেজে অথবা কোন ছবিতে।”

পাঁচ মিনিট পরেই ফেইসবুকে একজন একটা ছবির লাগিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে ফেললো যেখানে দেখা গেলো উদ্ধারের আগ মুহুর্তে হুরমুজ আলী উদ্ধারকারিদের কাজ তদারকি করছে। সাথে সাথে আরো বেস কিছু স্ট্যাটাসে এমন অনেক ছবি ও ভিডিওতে হুরমুজ আলীকে সবাই দেখতে পেলো। তাইলে কিবায় কি হলো? এটাই সবার প্রশ্ন।

ফেইসবুক দেখে হুরমুজের চাচাতো ভাই হুরমুজের বাড়িতে এলো। বিস্তারিত জানতে চাইলো। হুরমুজের বউ বিস্তারিত জানালে সে বলল “এবার দেখা যাবে মজার খেলা। হুরমুজ কেরামতি দেখায়ে খুব সম্ভব পীর হতে চেয়েছিল। ভালো করেই ধরা খাইছে। এবার সত্য কথা বাইর করার জন্য রিমান্ডে নিবে। ডিম থেরাপি দিবে।”
– কী থেরাপি?
– ডিম থেরাপি।
– সেটা কেমন?
– ডিম সিদ্ধ করে গরম ডিম শরীর দিয়ে ঢুকিয়ে দিবে? তখন সত্য কথা প্যারপ্যারি বের হয়ে যাবে।
– হ্যায়, আল্লাহ! কী কয়?
– কমে ছাড়বে? সরকারি উদ্ধারকারীরা তার হাত পায়ের তলা টিপা দিছে। জনগণ ছাড়লেও তারা ছাড়বে না।

ওদিকে উদ্ধারকারীরা মোট ৪৯টা লাশ বের করেছিল লঞ্চ থেকে। সেই লাশের খবর কেউ জানতে পারলো না গত দুই দিন। বড় লঞ্চটার চালকের কি হলো কেউ জানলো না।

ফেইসবুক স্ট্রলে ছবিতে হুরমুজ আলীর মতো যাকে দেখা গেছে সে আসলেই হুরমুজ আলী না । হুরমুজ আলীর চেহারার সাথে হুবুহু মিল আছে । সেও একজন ডুবুরি সদস্য। ছবি দেখে ছুটে গেলো হাসপাতালে হুরমুজ আলির বেডের কাছে । আবার সাংবাদিকরা নতুন করে প্রচার করা শুরু করলো “দেখেন ছবিতে যাকে দেখা গেছে সে আসলেই হুরমুজ আলী না । ইনিই হলেন সে ডুবুরি যাকে হুরমুজ আলীর মতো দেখা গেছে । আল্লাহর কি কুদরত, আসলেই আল্লাহ পাক পানির ভিতর বাতাস রেখে হুরমুজ আলী ভাইকে বাচিয়ে রেখেছেছেন ।

টিভি নিউজ দেখে রীমান টাস্কি খেয়ে গেলো । কিবায় কী?
সে আবার ইন্টার্নেটে সার্চ দেয়া শুরু করলো “পানির ভিতর বাতাস বন্দী” লিখে । অবশেষে পেয়ে গেলো একটা আর্টিকেল সাধারন জ্ঞানের । লিখেছেন ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার । আর্টিকেলটা ছিল এমন ।

পানির ভিতর বাতাস বন্দী
(সাধারন জ্ঞানের )
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আপনারা অনেকেই যাত্রীসহ লঞ্চ ডোবার ভিডিও দেখেছেন। ডুবুরিদেরকে ডুবন্ত লঞ্চ থেকে লাশ বের করে আনতে দেখেছেন। আবার ডুবন্ত লঞ্চ থেকে ১৩/১৪ ঘন্টা পর জীবিত যাত্রী তুলে আনতেও দেখেছেন। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সত্যি।
আমরা জানি মানুষ সাধারণত অক্সিজেন ছাড়া ৩ মিনিট, পানি ছাড়া ৩ দিন এবং খাদ্য ছাড়া ৩ সপ্তাহ বেচে থাকতে পারে। আমরা নিশ্বাসের সাথে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেই। ফুসফুসে গিয়ে অক্সিজেন রক্তের লোহিত কণিকার সাথে প্রবাহিত হয়ে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করে। এই অক্সিজেন না পেলে কোষ মরে যায়। ভাইটাল অংগের কোষ মরে গেলে মানুষটাই মরে যায়। পানিতে সামান্য পরিমানে অক্সিজেন মিশ্রিত থাকে। মানুষ পানি থেকে অক্সিজেন নিতে পারে না। মাছ ও জলজ প্রাণী অক্সিজেন নেয় ফুলকার সাহায্যে পানি থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে। কাজেই, মানুষ পানিতে ডুবে গেলে অক্সিজেন না পেয়ে মরে যায়। ব্রেইনে অক্সিজেন কম পরলে সয়ংক্রিয়ভাবে শ্বাস প্রশ্বাস চালু হয়। তাই, ডুবে যাওয়া মানুষ স্বাস নেয়ার জন্য হা করলে ফুসফুসে বাতাসের পরিবর্তে পানি প্রবেশ করে। পানি গলা দিয়ে পেটেও প্রবেশ করে। নৌকার গলুইয়ে বসে থাকা মানুষ হঠাৎ হার্ট এটাকে মারা গেলে কাত হয়ে পানিতে পড়ে ডুবে যাবে। এই মৃত লোকটাকে পানি থেকে উদ্ধার করে তুলে আনলে দেখা যাবে যে তার ভিতরে পানি প্রবেশ করেনি । কারন, মৃত মানুষ পানি খেতে পারে না, নিশ্বাস নিতে পারে না।

যাত্রী বাহী কোন একটা লঞ্চকে যদি বড় একটা জাহাজ এক দিক থেকে ঠেলা দিয়ে কাত করে ডুবিয়ে উপর দিয়ে চলে যায় তা হলে লঞ্চটা হঠাৎ উপুড় হয়ে পানি প্রবেশ করে ডুবে যাবে নদীর তলায়। লঞ্চের তলা থাকবে উপরের দিকে। সব দিক থেকে লঞ্চে পানি প্রবেশ করবে, শুধু উপরের দিক বাদে। অর্থাৎ তলার দিক বাদে। তলার দিকই হবে তখন ছাদ সরূপ। লঞ্চ ডুবার সমায় ভিতরে যে বাতাস ছিল তা উপরের দিকে চলে গিয়ে নতুন ছাদের নিচে অবস্থান করবে। এই আটকা বাতাসকে তিন দিক থেকে নদীর পানি চাপ দিয়ে এক জায়গায় নিয়ে জড়ো করে রাখবে নতুন সৃষ্ট ছাদের নিচে। পানির ভিতর বাতাসের প্রবাহের দিক হলো উপরের দিক। ডুবন্ত উপুর হওয়া লঞ্চের উপরে দিক লঞ্চের তলা দিয়ে বন্ধ। তিন দিকে পানির চাপ দিয়ে গোলাকৃতি বাতাসের একটা বল তৈরি করবে। বাতাস যত বেশী হবে বাতাসের বল তত বড় হবে। কোন একজন শক্তিশালী যাত্রী যদি লঞ্চের ভিতর সাঁতার কেটে হটাৎ এই বাতাসের বল পেয়ে যায় তবে সে অক্সিজেন পেয়ে গেলো। সে চোখে কিছু না দেখলেও হাত দিয়ে বাতাসের বলের সীমানায় পানি স্পর্শ করতে পারবে। প্রয়োজনে পানি খেতে পারবে। প্রশ্রাব-পায়খানা করতে পারবে। দোয়া কালাম পড়তে পারবে। মানুষ ফাঁফর হয় অক্সিজেন না পেয়ে। এই মানুষটা অক্সিজেন পাচ্ছে। তাই, ফাঁফর হবে না। সে অক্সিজেন ও পানি দুটিই পাচ্ছে। শুধু খাদ্য পাচ্ছে না। খাদ্য ছাড়া মানুষ সাধারণত ৩ সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। তাই, যদি তিন সপ্তাহের মধ্যে ডুবুরিরা তাকে উদ্ধার করে তবে সে বেঁচে গেলো।
আর্টিকেল পড়ে রীমান সব কিছু বুঝে ফেললো । এবার মনোযোগ দিলো মেডিকেলের পড়ায় ।
১০/৭/২০২০ খ্রি.
ময়মনসিংহ
পড়ে কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)

Loading...
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ দেখার জন্য ক্লিক করুন
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/

Leave a Reply

Your email address will not be published.