মুর্গির মরক

মুর্গির মরক

স্মৃতিচারণ

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

আগেরদিনে গ্রামের মানুষ একই ভিটায় কয়েকটা করে  পরিবার বাস করতো। প্রত্যেক পরিবারই দেশী জাতের মুর্গি পালন করতো । একেক পরিবারের ২০-৩০টা করে মুর্গি ছিল । মুর্গিরা সারা বাড়িময় ও আলানে-পালানে ঘুরে ঘুরে খাবার খেতো । তাদের জন্য আলাদা খাবার কেনার চিন্তা করতে হতো না ।  পরিবারের উচ্ছিষ্ট খাবারও হাস-মুর্গিরা খেতো । মাঝে মাঝে দুইএকটা মুর্গি জমাই করে খাওয়া হতো । কিন্তু কোন কোন সময় মুর্গি ভাইরাসে একযোগে আক্রান্ত হয়ে মরে সাব হয়ে যেতো । এই অবস্থাকে বলা হতো মুর্গির মরক লাগা । মরার আগে মুর্গির গায়ে জ্বর হতো । এই অবস্থায় হাটে নিলে জ্বরযুক্ত মুর্গি কেউ কিনত না । তাই মুর্গির মরক লাগার সাথে সাথে জীবিত মুর্গিগুলো জবাই করে খেয়ে ফেলা হতো । তখন ফ্রিজের ব্যবস্থাও ছিল না যে রেখে রেখে খাবে ।

 

বাচ্চা পোলাপানদের অভ্যাস ছিল ভালো কোন কিছু খেলে বন্ধুদেরকে দেখায়ে দেখায়ে খেতো। খাওয়া দেখে বন্ধুদের জিহবায় পানি এসে যেতো । এটাই ছিল দেখায়ে খাওয়ার মজা ।

 

একবার মাসুদের চাচীদের মুর্গির মরক লাগলো । সেই মুর্গি জবাই করা হলো । মাসুদের চাচাত বোন মাসুদদের ঊঠানের বিপরীত বারান্দায় বসে মাসুদকে দেখিয়ে দেখিয়ে মুর্গির রান খাচ্ছিল । দেখে মাসুদের জিহবায় পানি এলো । মাসুদ আক্ষেপ করে চাচাত বোনকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো “আমাগও মুর্গি আছে, আমাগো মুর্গিরও মরক লাগবে। আমরাও সেগুলো জবাই করমু। হেসুম আমরাও দেখাইয়া দেখাইয়া খামু।”

২০/৪/২০২০ খ্রি.
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)

Loading...