ছোট বেলার গাধু কাক্কু

ছোট বেলার গাধু কাক্কু
(স্মৃতিচারণ)

আমরা চাচাদেরকে কাকুর সাথে আরেকটা অতিরিক্ত ক লাগিয়ে কাক্কু ডাকতাম। বাবার চাচাত ভাই চোট কাক্কু তার বড় চার ভাইদেরকে যথাক্রমে বড় ভাই, মাঝ ভাই, সাঝ ভাই, ও মিয়া ভাই ডাকতেন। সেটা অনুকরন করে আমরা ডাকতাম বড় কাক্কু, ডাক্তার কাক্কু, সাঝ কাক্কু ও মিয়া কাক্কু। পাড়া প্রতিবেশী চাচাদেরকে শুধু কাক্কু ডাকতাম। Continue reading “ছোট বেলার গাধু কাক্কু”

ছেলেবেলার খেলাধুলা

ছেলেবেলার খেলাধুলা
(স্মৃতিচারণ)
ডা. মো. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

আমাদের গ্রামের বাড়ির এখন যেখানে টিউব ওয়েল আছে তখন ওখানে একটা ডোবা ছিল। ঐ ডোবাতে অনেক বড় বড় সোনাব্যাঙ থাকতো। সোনাব্যাঙকে আমরা বাইয়া ব্যাঙ বলতাম। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে ডোবা পানিতে ভরে যেত। বাইয়া ব্যাঙগুলো পানিতে লাফালাফি করত। উচ্চস্বরে ডাকত। মাঝারী সাইজের কোনো ব্যাঙ নিম্নস্বরে ডাকত। ব্যাঙের ডাকের সাথে কথা মিলাতাম। এক বাইয়া ব্যাঙ তার ডোবা থেকে বলত “এগাও আমার।” আরেক বাইয়া ব্যাঙ অন্যডোবা থেকে বলত “হেগাও আমার।” এইভাবে তর্ক করে বলতে থাকত
-এগাও আমার
-হেগাও আমার
-হেগাও আমার, ওগাও আমার
-ওগাও আমার
Continue reading “ছেলেবেলার খেলাধুলা”

আমার মনে নাটকের প্রভাব

আমার মনে নাটকের প্রভাব
(স্মৃতিচারণ)
ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৬৩ সন হতে পারে। আমার বয়স তখন ৫-৬ বছর হবে। রৌহা নানাবাড়ি ছিলাম। বিকেলে হালট পাড়ে তেঁতুল গাছের পাশের খেতে গোদুল্লা খেলছিলাম। এক সময় আমার চেয়েও সামান্য ছোট আমার এক মামাতো বোন বলল “মাষ্টর দাদার এডুতে আইজকা আইতে টাটক অব।” অর্থাৎ রাতে আমার ছোট নানা কাজেম উদ্দিন মাষ্টারের রেডিওতে নাটক হবে। নাটককে সে টাটক বলেছে। আমিতো তাও জানি না। যাহোক রাত দশটায় বাড়ির সবাই নাটক দেখতে বসে পড়লাম উঠানে পাটি বিছিয়ে। কাশেম মামা আমার তিন-চার বছরের বড়। তিনি বিষয়গুলো মাঝে মাঝে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের কালজয়ী নাটক মধুমালা। সেই নাটকের ঘটনা আমার মনে নেই। তবে নাটককে টাটক বলায় আমরা তাকে অনেকদিন পর্যন্ত ঠাট্টা করেছি। আরো কারো মনে আছে কিনা জানি না।

Continue reading “আমার মনে নাটকের প্রভাব”

আমার জীবনে সংগীতের প্রভাব

আমার জীবনে সংগীতের প্রভাব
ছোটবেলা থেকেই আমার গান বাজনার প্রতি আগ্রহ একটু বেশী ছিল। আমাদের তালুকদার বাড়ীতে গান বাজনা করা ও যাত্রা দেখা নিষিদ্ধ ছিল। শুনেছি নাহার আপার বিয়ের এক বছর পর নাহার আপা কথা প্রসংগে বলেছিলেন তার স্বামী হাশেম দুলা ভাই যাত্রা দেখতে গিয়েছিলেন। কথাটা মেছের উদ্দিন তালুকদার, আমার দাদার মেঝো ভাই, যাকে আমরা দাদু ডাকতাম তার কানে গিয়েছিল। শুনে আপাকে শশুরবাড়ী যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। শত অনুনয় বিনয় করেও দুলাভাইর কাছে আপাকে যেতে দিলেন না। পরে দ্বিতীয় বার বিয়ে পড়ায়ে তার পর শশুর বাড়ী যেতে দিলেন। বুঝলেনই তো কেমন বিধি নিষেধ ছিল যাত্রা গানের প্রতি। তিনি বলতেন “যাত্রা দেখে ফাত্রা লোকে।”

Continue reading “আমার জীবনে সংগীতের প্রভাব”

আমার প্রথম পাঠ

আমার প্রথম পাঠ

(স্মৃতিচারণ)

মায়ের সাথে নানাবাড়ি গিয়েছিলাম। মা প্রতি বছর শীতকালে ২০-৩০ দিন এবং বর্ষা কালে ২০-৩০ দিন নানাবাড়ি নাইয়োর থাকতেন। নানাবাড়ি কালিহাতির রৌহা গ্রামে। নিচু ভুমি। মাটি দিয়ে অনেক উচু ভিটা নির্মাণ করে অনেকগুলো পরিবার ঘনঘন ঘর নির্মাণ করে থাকতেন। খুব ছোট ছিলাম। একদিন সকাল বেলা ঘরের চিপা দিয়ে বের হয়ে ছোট নানা কাজিম উদ্দিন মাস্টার-এর বাংলা ঘরের সামনে এসে দাড়ালাম। আমার নানা আমির উদ্দিন ছিলেন সবার বড়। আমার জামা গায়  ছিল না। হাফ পেন্ট পরা ছিল। বাংলা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম ঘরের ভিতরে চটের উপর লেটা দিয়ে বসে পোলাপানরা ঝুকে ঝুকে তালে তালে উচ্চস্বরে পড়ছে “আলিফ দুই জবর আন, বা দুই জবর বান, তা দুই জবর তান….। ” নানা রকম সুরে সুরে  পড়া। আমার খুব ভাল লাগছিল। একজন হুজুর লেটা দিয়ে বসে একটা বেত হাতে নিয়ে একজন একজন করে ছাত্রকে ছবক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে জেনেছি তিনি ক্বারি রহিম উদ্দিন। গ্রামের লোকজন বলতেন অহুমুদ্দিন কারী। অনেকক্ষণ আমি উপভোগ করলাম। এতক্ষণ মা তার অমুল্যধন পোলাকে খুজে না পেয়ে ঘুরতে ঘুরতে এসে এখানে এসে হাজির হলেন । আমাকে নেয়ার জন্য হাতে ধরে টান দিলেন। আমি না ফেরার  জন্য মোর্চামুর্চি করলাম। কারী সাব বললেন “কি হয়েছে?” মা বললেন “কারী সাব, অরে আপনি পড়ান।” কারী সাব আমাকে ভিতরে নিয়ে বসালেন। এক ছাত্রের কাছ থেকে কায়দা নিয়ে ছবক দিলেন “পড়, আলিফ।” আমি আশে পাশে তাকাই। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সবার গায়ে জামা আছে। আমি খালি গায়। লজ্জা লাগছিল। এক সময় পড়লাম “আলিফ।” Continue reading “আমার প্রথম পাঠ”