আলাপ সিং-এর রোগীটি

আলাপ সিং-এর রোগীটি

আমাদের গ্রামের বাড়িটা সখিপুরের পাহাড় অঞ্চলে। দাদাবাড়ি ও নানাবাড়ি কালিহাতির নিচু অঞ্চলে। এই নিচু অঞ্চলকে আমরা ছোট বেলায় বলতাম ভর অঞ্চল। পাহাড় অঞ্চলের মানুষ ছিলাম বলে আমার ভর অঞ্চলের কাজিনরা আমাকে ঠাট্টা করে বলত পাহাইড়া। উলটা আমি বলতাম তোমরা ভৌরা। তারা তখন পাহাইড়াদেরকে একটু কম বুদ্ধি সম্পন্ন মনে করত। অবস্য যারা আমাকে ঠাট্টা করত পাহাইড়া বলে বাস্তবে, মনে হয়, তাদের চেয়ে আমার বুদ্ধি কম না। যমুনানদীর চর এলাকা থেকে বর্ষা কালে কিছু কামলা (কৃষি শ্রমিক) আসত আমাদের এলাকায়  অবস্থান  করে কামলা দিতে। তাদের আমরা বলতাম চৌরা কামলা। তারা পাবনার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলত। ময়মনসিংহের আলাপসিং পরগনার কিছু লোক আমাদের এলাকায় আসত কামলা দিতে। তাদের বলতাম আলকসিংগা কামলা। তারা ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলত। অন্য অঞ্চলের ভাষা-ভাষীর প্রতি আমার খুব আগ্রহ ছিল। আমরা বলতাম “আইছাল, খাইছাল।” আলকসিংগারা বলত “আইছিল, খাইছিল।” শুদ্ধ বাংলায় হবে “এসেছিল, খেয়েছিল।” Continue reading “আলাপ সিং-এর রোগীটি”

আমার যাদু শেখা

আমার  যাদু শেখা

ছোট বেলায় প্রথম যাদু দেখি বেদেদের কাছে। বেদেরা গ্রামে বাড়ি বাড়ি এসে বাহির বাড়িতে পাটি বিছিয়ে বসে ঝোলার ভিতর থেকে যাদুর সরনঞ্জাম বের করে ছোট ছোট যাদু দেখাত ছোট ছোট পোলাপানকে খুশী করার জন্য। যাদু দেখার পর আমরা এক পট করে চাউল দিয়ে দিতাম। যাদু দেখে আমি মজা পেতাম। এক গুটি থেকে তিন গুটি, গুটি ভেনিশ করে ফেলা, রুমাল ভেনিশ করে বেলা ইত্যাদি যাদু দেখানো হত। যাদু শিখার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল।

Continue reading “আমার যাদু শেখা”

বাহাত্তুরা

(স্মৃতির পাতা থেকে)
১৯৭২ সন। সবেমাত্র বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সবার মাঝে স্বাধীন স্বাধীন ভাব। কেউ কাউকে মানতে চায়না। আমাদের গ্রামে তখন স্বেচ্ছা সেবক বাহিনীর তৎপরতা নাই। অনেকেই শক্তি খাটানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ বাহিনী তখনো শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। নেই পর্যাপ্ত সরকারি বিচার ব্যাবস্থা। বংগবন্ধু যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশগড়া নিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন। বন্ধুদেশগুলি থেকে ত্রান সামগ্রী আসছে। অনেকে সেইগুলি ভাগাভাগি নিয়ে ব্যাস্ত। সুযোগ বুঝে অনেকে Continue reading “বাহাত্তুরা”

স্কুল কলেজের আমাদের ক্লাসের মেয়েরা

(স্মৃতির পাতা থেকে থেকে)
ক্লাস সিক্স, সেভেন ও এইটে আমি কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে পড়তাম। আমাদের কাসের ছাত্র সংখ্যা খুব সম্ভব ৫০ এর উপরে হবে। এর মধ্যে ৪/৫ জন মাত্র মেয়ে ছিল। তাদের জন্য একটি মাত্র বেঞ্চ নির্ধারিত ছিল। বেঞ্চটি শিক্ষক বসার বাম পাশে আড়া আড়ি ভাবে ছিল। সারাস্কুলের সব ক্লাস মিলে ২০/২২ জন মেয়ে ছিল। এই মেয়েগুলিকে গাদাগাদি করে একটি রুমে রাখা হত। রুমটির নাম ছিল মেয়েদের কমন রুম। কমন রুম বলতে ওটাকেই বুঝানো Continue reading “স্কুল কলেজের আমাদের ক্লাসের মেয়েরা”

ভবিষ্যৎ বাহিনীর কমান্ডার

 

(স্মৃতির পাতা থেকে)

১৯৭২ সন। কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। সদ্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সবাই আনন্দে উৎফুল্ল। মুক্তিযোদ্ধাদের মহা আনন্দ। সবার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা ভাব। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বংঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমকে সখিপুরের সন্নিকটে কাদেরিয়া বাহিনীর হেড কোয়ার্টার কাদের নগরে গণসম্বর্ধনা দেয়া হবে। প্রধান অতিথি ভারতীয় মিত্র বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাম সিং বাবাজী। বিরাট Continue reading “ভবিষ্যৎ বাহিনীর কমান্ডার”