ক্লাস টুর পড়া

ক্লাস টুর পড়া

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার


১৯৬৮ সনে ক্লাস টুতে উঠে বাংলা ও অংক বিষয়ের সাথে যোগ হল সমাজপাঠ। ভুগোল, পৌরনীতি ও ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারের একটা বই ছিল ‘সমাজ পাঠ’ নামে। ওখানে দিক নির্নয় শিক্ষার জন্য একটা লেসন ছিল। সুর্য যে দিকে উদয় হয় তাকে পুর্ব দিক বলা হয়। উদিয়মান সুর্যের দিকে ঘুরে দাড়ালে হাতের ডান দিক দক্ষিন, হাতের বাম দিক উত্তর এবং পিছনের দিক পশ্চিম। মাথার উপরের দিক উর্ধ এবং পায়ের নিচের দিক অধ। এইভাবে বই পড়ে স্যারগণ আমাদের দিক শেখাতেন। স্যার প্রশ্ন করতেন “খলিফা বাড়ি স্কুলের কোন দিকে?” আমরা বলতাম “পিছনের দিকে।” স্যার শুধ্রে দিতেন “না, উত্তর দিকে।” Continue reading “ক্লাস টুর পড়া”

আব্দুল বাঁচিলাম

আব্দুল বাঁচিলাম  

(স্মৃতিচারণ)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

শুনে শুনে দেখে দেখেই ছোট ওয়ানের বই মুখস্ত করে ফেলাতে আমাকে বড় ওয়ানে অটো প্রমোশন দেয়া হল। বার্ষিক পরীক্ষা হল ছয় মাস পরেই। বারী ফার্স্ট, আমি সেকেন্ড ও লুৎফর থার্ড হয়ে ক্লাস টুতে উঠলাম । ওটা ছিল ১৯৬৮ সাল। আমার বয়স হবে ৭-৮ বছর। পরীক্ষার পর স্কুল ছুটি চলছে। আমি সাড়াসিয়ার ইয়ার মামুদ ভাইর কাছ থেকে পুরাতন বই এনে নিজে নিজেই পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে অনেক রাত বাজিয়ে দিলাম। টিমটিম করে বাতি জ্বলছিল। বাবা পাশে শুয়েছিলেন। বড় বড় কাল মশারা মাঝে মাঝে কানের কাছে গুন গুনিয়ে গান করছিল। আমি তাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে কানের কাছ থেকে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। বাবা মশা মারায় দক্ষ ছিলেন। তিনি এক হাতেই থাপরা দিয়ে ধরে মশাকে পিষ্ট করে ফেলতেন। আমার তারা করা মশাগুলো বাবা মারছিলেন। এক সময় আমি বাঘ ও বকের গল্প পড়ছিলাম। বক যখন তার লম্বা ঠোট বাঘের মুখের ভিতর দিয়ে ঢুকিয়ে গলা থেকে হাড় বেড় করে আনল তখন বাঘ বলল “আব্দুল বাঁচিলাম।” এইবার বুঝা গেল বাবা শুধু মশা মারছেন না। তিনি বললেন Continue reading “আব্দুল বাঁচিলাম”

আমার প্রথম অভিনয়

স্মৃতির পাতা থেকে

১৯৬৯ সন। আমি ঘোনারচালা সরকারি ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি। বাংলা পড়াতেন সাখাওয়াত স্যার (সাকে মাস্টার)। সম্রাট আকবরকে নিয়ে একটি গল্প ছিল। গল্পটি ছিল এইরকম। এক বিকেলে সম্রাট আকবর তার নবরত্নের এক রত্ন মোল্লা দোপে আজাকে নিয়ে বাগানে পায়চারী করছিলেন। সম্রাট বললেন
Continue reading “আমার প্রথম অভিনয়”

ছোট বেলার গাধু কাক্কু

ছোট বেলার গাধু কাক্কু
(স্মৃতিচারণ)

আমরা চাচাদেরকে কাকুর সাথে আরেকটা অতিরিক্ত ক লাগিয়ে কাক্কু ডাকতাম। বাবার চাচাত ভাই চোট কাক্কু তার বড় চার ভাইদেরকে যথাক্রমে বড় ভাই, মাঝ ভাই, সাঝ ভাই, ও মিয়া ভাই ডাকতেন। সেটা অনুকরন করে আমরা ডাকতাম বড় কাক্কু, ডাক্তার কাক্কু, সাঝ কাক্কু ও মিয়া কাক্কু। পাড়া প্রতিবেশী চাচাদেরকে শুধু কাক্কু ডাকতাম। Continue reading “ছোট বেলার গাধু কাক্কু”

ছেলেবেলার খেলাধুলা

ছেলেবেলার খেলাধুলা
(স্মৃতিচারণ)
ডা. মো. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

আমাদের গ্রামের বাড়ির এখন যেখানে টিউব ওয়েল আছে তখন ওখানে একটা ডোবা ছিল। ঐ ডোবাতে অনেক বড় বড় সোনাব্যাঙ থাকতো। সোনাব্যাঙকে আমরা বাইয়া ব্যাঙ বলতাম। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে ডোবা পানিতে ভরে যেত। বাইয়া ব্যাঙগুলো পানিতে লাফালাফি করত। উচ্চস্বরে ডাকত। মাঝারী সাইজের কোনো ব্যাঙ নিম্নস্বরে ডাকত। ব্যাঙের ডাকের সাথে কথা মিলাতাম। এক বাইয়া ব্যাঙ তার ডোবা থেকে বলত “এগাও আমার।” আরেক বাইয়া ব্যাঙ অন্যডোবা থেকে বলত “হেগাও আমার।” এইভাবে তর্ক করে বলতে থাকত
-এগাও আমার
-হেগাও আমার
-হেগাও আমার, ওগাও আমার
-ওগাও আমার
Continue reading “ছেলেবেলার খেলাধুলা”