প্রতিশ্রুতি

প্রতিশ্রুতি

(নিজে দেখা)

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

দুই কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে লঞ্চ ধরতে হবে আমার। আকাঁবাকা মেঠো পথ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। আমার প্রায় ৩০/৩৫ গজ সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন চেয়ারম্যান সাব। সাথে তার একজন সঙ্গি ছিলেন। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ছিলেন চেয়ারম্যান সাব। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। পাতলা গড়ন। খুব সম্ভব ডায়াবেটিস রোগ আছে। হঠাৎ বাম দিকে ঘুরে ইটা ক্ষেতে বসে প্রশ্রাব করলেন দক্ষিণ দিকে ঘুরে। আমি আমার হাঁটার গতি কমিয়ে দিলাম। চেয়ারম্যানের সঙ্গিটি ধীরে ধীরে এগুতে থাকলেন। চেয়ারম্যান একটা মাটির ঢিলা পাঞ্জাবির নিচে পাজামার ফাঁক দিয়ে ধরে রাস্তা দিয়ে সামনে হাঁটতে লাগলেন। ছেলেদের বেলায় প্রশ্রাব করার পর প্রশ্রাবের রাস্তার মুখে একটা মাটির ঢিলা ধরে ৪০ কদম হাটতে হয়। এটা তাবলীগ জামাতের মতে নবীর সুন্নত। উদ্দেশ্য হলো, প্রশ্রাব করার পর হাঁটার সময় কিছু কিছু প্রশ্রাব ফোটা ফোটায় বের হয়ে কাপড় অপবিত্র হতে পারে, সেই প্রশ্রাব চুষে নেয়ার জন্যই এই ঢিলা ধরে কিছুক্ষণ হাঁটা বা বাথরুমে হাঁটার ভাব করা। বিকল্প হিসেবে টয়লেট পেপার ব্যবহার করা যায়। চেয়ারম্যান সাব সেই সুন্নত পালন করে হাঁটছিলেন। আমিও তার পিছে পিছে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে হাটছিলাম ।

বিপরীত দিক থেকে তিন জন দুস্থ মহিলা হেটে আসছিলেন। দুই জন মহিলা চেয়ারম্যানকে সালাম দিয়ে এলেন। পেছনের জন চেয়ারম্যানের সাথে হাঁটতে হাঁটতে কি যেন আবদার করছিলেন। চেয়ারম্যান যে বিপদে আছেন সেটা তিনি লক্ষ করেননি। শুধু মাথা কাত করছিলেন। একসময় চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দিয়ে তৃপ্তির হাসি নিয়ে দ্রুত এগিয়ে এসে অন্য দুই মহিলার সাথে একাত্র হলেন। ততক্ষণে তারা আমার কাছাকাছি এসে গেছেন। অন্য মহিলারা প্রশ্ন করলেন “চেয়ারম্যান সাব কি কইলো?” পিছের মহিলা তৃপ্তির হাসি নিয়ে বললেন “দিবে, দিবে কইছে।” আমি মনে মনে বললাম “দিবে না। তিনি খুব বিপদে ছিলেন। আপনি জানেন না। তাই, দিবে বলে আপনাকে সরিয়ে দিয়েছে। এটা হলো সাময়িক প্রতিশ্রুতি।”

৭/১০/২০২০ খ্রি.

কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)

Loading...
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ লিংক
http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/