রুগীর দালাল ও ঠকবাজ

রুগীর দালাল ও ঠকবাজ
(স্বাস্থ্য কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

দালাল ও চিটারের (ঠকবাজ) মধ্যে পার্থক্য আছে। গ্রাম থেকে রুগী আসেন শহরে ডাক্তার দেখাতে বা হাসপাতালের সেবা নিতে। তারা শহরের

অনেক কিছুই বুঝেন না। ডাক্তার চিনেন না। হাসপাতাল চিনেন না। ল্যাবরেটরি চিনেন না। ফার্মেসী চিনেন না। প্রেস্ক্রিপশন পড়তে পাড়েন না। অন্যের সাহায্য নিতে হয়। তাই গ্রাম থেকে শহরে এসে যখন কোন রুগী বা সাথের লোকজন খোজাখুজি করতে থাকেন সেই সুজোগটি কাজে লাগায় দালাল ও চিটাররা। দালালরা রুগীরর থেকে টাকা নিলেও রুগীর উপকার করেন। কিন্তু চিটাররা রুগীর কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে সর্বশান্ত করে দেয় এবং কোন উপকার তো করেই না অপকার করে দেয়। দালালরা রুগীর জন্য সঠিক ডাক্তার নির্বাচন করে দেয়, সঠিক জায়গায় পৌছে দেয়, ভালো ফার্মেসি চিনিয়ে দেয় ও ভালো রেস্টুরেন্ট চিনিয়ে দেয় খাবার জন্য। বিনিময়ে তারা রুগীর কাছ থেকে কিছু অর্থ চেয়ে নেয়। রুগীও খুশী হয়ে তাকে কিছু দেন। বাড়ী গিয়ে ঐ দালালের কাছে অন্য রুগী পাঠান। অন্যদিকে চিটাররা রুগী ধরে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে কৌশলে জেনে নেয় রুগীর কাছে কত টাকা আছে। টার্গেট করে এই টাকা তাদের কাছ থেকে খসিয়ে নেয়। দালাল ও চিটারদের অলিখিত সংগঠন আছে। এদেরকে স্থানীয় ডাক্তারগন ভয় পান। কিছু বললে রাতের অন্ধকারে অলিতে গলিতে যদি কিছু একটা করে ফেলে। বা ভুল চিকিৎসার অযুহাত দেখিয়ে চেম্বার ভাংচুর করে। অথবা স্থানীয় কোন হলুদ পত্রিকায় উল্টাপাল্টা কিছু লেখায়। চিটাররা নানান কৌশলে চিটারি করে। মনে করুন একজন রুগী রাস্তা দিয়ে হাটছে আর ডাক্তারের সাইনবোর্ড পড়ছে। তাদের একজন এসে জিজ্ঞেস করবে
– ডাক্তার দেখাবেন?
– হ্যা।
– কি সমস্যা?
– গলার সমস্যা।
– গলার ডাক্তার অনেক আছে। তার মধ্যে তিনজন সবচেয়ে ভালো। ডাক্তার অমুক, ডাঃ তমুক ও ডাঃ ফলনা।
– তাইলে কাকে দেখান যায়?
– আপনে যে কোন একজনকে দেখাতে পারেন। তবে অমুক ও তমুককে দেখাতে রাত হয়ে যাবে। ফলনাকে দেখালে এখনই দেখাতে পারবেন।
– তাইলে, ডাঃ ফলনাকেই দেখাই।
– দেখান।
– চেম্বার কোনটা?
– আমি তো তার লোক না। ঐযে তার এসিস্টেন্ট। এই, তোমার ডাক্তার চেম্বারে আছে?
– আছে, এখনি উঠে পড়বে।
– যান, ডাক্তার চলে যাবে। তাড়াতাড়ি যান তার এসিস্টেন্টের সাথে।

আসলে ডাক্তার ফলনা হলো একজন ভুয়া ডাক্তার। হয়ত এস এস সি পাশ করেছিল। কোন একটি ফার্মেসিতে কিছুদিন চাকরি করেছিল। ডাক্তাররা কি কি ঔষধ সাধারণত লিখে তা সে রপ্ত করেছে। এখন সে দুর্বোধ্য কিছু ডিগ্রী লিখে বিশেষজ্ঞ সেজে চিটার রেখে রুগী দেখছে। চিটাররা রুগী দেখানো থেকে শুরু করে পরীক্ষা নিরিক্ষা সব যায়গায় চিটারি করে টাকা পয়সা নিয়ে শেষ করে দিচ্ছে। রুগী ভালো তো হয় নি। তার বারোটা বেজে গেছে। মনের শান্তনা তার “কি আর করব, শহরের বড় ডাক্তার দেখায়ে কম্পিউটার পরীক্ষা করে চিকিৎসা নিলাম। ভালো হলাম না। এটা আমার কপাল।”

আরেকটা উদাহরণ দেই। মনে করুন, হাসপাতালের অপারেশন করা এক রুগীর টিসু (মাংশ) পরীক্ষা করার জন্য রুগীর লোকের কাছে ডাক্তার সাব টিস্যুসহ একটা কাগজ ধরিয়ে বায়োপ্সি পরীক্ষা করানোর জন্য বললেন। চিটারে ধরে বলল “পরীক্ষা করাবেন? এটা পরীক্ষা করাতে ১,০০০ টাকা লাগবে। আমাকে ৫০০ টাকা দিন আমি কলেজ প্যাথলজি থেকে পরীক্ষা করায়ে দেই।” রুগীর লোক খুশী হয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে দিল। চিটার ১৫০ টাকা জমা দিয়ে কলেজ প্যাথলজি থেকে সরকার নির্ধারিত চার্জ দিয়ে পরীক্ষা করায়ে দিলো। রুগীর লোক খুশী হয়ে আরো কিছু দিল। এবং আরো অনেক স্টেপে তার কাছে সে ধরা দিল।

এইসব কারনে অনেকেই ডাক্তারদের প্রতি ইদানিং বিরোপ ধারনা ও মন্তব্য করে থাকেন। বিদেশের বড় বড় হাসপাতালে রুগী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশে এজেন্সি অফিস আছে। এগুলি সরকার অনুমোদিত। এজেন্সির করা বৈধ। চিটারি করা অবৈধ।

২১/৫/২০১৯ ইং
ময়মনসিংহ