বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ

(স্মৃতিচারণ)

ডা.  সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

 

মোবাইল ফোন কেনা হল। কিন্তু তেমন কাজে লাগলো না। মোবাইল করার মতো মাত্র কয়েকজন ব্যবহারকারী ছিল তখন। বাসায় বাসায় তখন বিটিসিএল বা টিএন্ডটি-র ল্যান্ডফোন সংযোগ ছিল। ১৯৯৭ সনের ডিসেম্বর মাসে আমাকে প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে বদলী করা হয়। আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ে। লেগে গেলাম বদলী ফেরানোর তদবিরে। ঘনঘন ঢাকায় সচিবালয়ে যাই। কাজ হয় না। অফিস সহকারীদের সাথে মোটামুটি ভাল পরিচিত হয়ে যাই। টেলিফোন করে তাদের থেকে আমার ফাইলের আপ-ডাউন খবর নেই। ফাইল একবার উঠে, আবার নামে। প্রিন্সিপাল স্যারের টেলিফোন ব্যবহার করতাম স্যারের অনুমতি নিয়ে। কিন্তু কতবার অনুমতি নেয়া যায়! অনুমতি নিতেও লজ্জা পেতাম। তখন হাসপাতাল জরুরী বিভাগের সাথে একটা টেলিফোন বুথ ছিল। প্রিপেইড কার্ড কিনে বুথের বাক্সে ফেলতাম। দেশে বিদেশে কথা বলা যেতো স্বাধীন ভাবে। কলরেট পোস্টপেইড ফোনের মতই ছিল। লোকাল কল মিনিটে ২ টাকা। অন্য জেলায় মিনিটে ৭ টাকা। আমেরিকায় মিনিটে ১৪ টাকা। সৌদিআরব, কাতার মিনিটে ২২ টাকা। আমার কলগুলো সাধারণত লোকাল, ঢাকা, টাংগাইল, আমেরিকা, সৌদি আরব ও কাতারে ছিল। প্রচুর খরচ হতো কল করে। তখনকার ১ টাকার সমান এখনকার ২০১৮ সনের ১০ টাকা। কল করতে আবার যেতে হতো বুথে। ওখানে গিয়েও আবার লাইনে দাড়াতে হতো। এটা ছিল বড় কষ্টের। একদিন বুথের কাছে  অল্প বয়সের এক ছেলে আমাকে চুপি চুপি বলল Continue reading “বাসায় ল্যান্ডফোন সংযোগ”