জিনের সমস্যা

জিনের সমস্যা
(স্বাস্থ্য কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

জিনের সমস্যার কারনেও অনেক রোগ হয়। এদেরকে বলা হয় জেনেটিক ডিজঅর্ডার বা ডিজিজ। বিশেষ করে কয়েকটা জন্মগত রোগ জেনেটিক ডিজ অর্ডারের কারনে হয় ।। মানুষের শরীর অশংখ্য কোষ দিয়ে তৈরি। কোষের ভিতর থাকে নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভিতর থাকে সুতার মত ক্রোমোজোম। ক্রমোজমের যে অংশ কোন একটা প্রোটিন তৈরি করার জন্য কোড করে সে অংশকে জিন (gene) বলা হয়। জিনের ডিফেক্ট হলে জিনের প্রোডাক প্রোটিন তৈরি হয়না। তাতে শরীরের গঠনের ও কাজের সমস্যা হয়। তখন বলা হয় জেনেটিক ডিফেক্ট। অধিকাংশ ডিফেক্টই মানুষের জন্মগত।

 

অস্টিওজেনেসিস ইম্পার্ফেক্টা জিনের কারনে জন্মগত ডিফেক্ট। এর কারনে মানুষের কোন হাড়ই বড় হয় না। মানুষ লম্বা হয় হাড়ের লম্বা হবার কারনে। হাড়ই যখন লম্বা হয় না মানুষও তখন লম্বা হয় না, খাটো থেকে যায়। ভাই-বোনদের মধ্যে অর্ধেকেরই এই সমস্যা হতে পারে কমবেশি।

 

একন্ড্রপ্লাসিয়া জন্মগতভাবে খাটো হওয়ার আরেকটি সমস্যা। জিনের ডিফেক্টের কারনে শরীরের কার্টিলেজ বা নরম হাড়গুলো  বৃদ্ধি পায় না। ফলে শুধু শক্ত হার বড় হয়। যেমন মাথার খুলি, মুখ, চোয়াল, ধড় বড় হয়। কিন্তু হাত ও মা বড় হয় না। ছোট ছোট হাত ও পা বাকা থাকে। ছেলে বা মেয়ে উভয়ে আক্রান্ত হতে পারে। ভাই বোনদের মধ্যে অর্ধেকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।

 

মার্ফেন সিন্ড্রোম একটি জেনেটিক ডিজঅর্ডার। এই সিন্ড্রোমে আক্রান্ত মানুষ জন্মগতভাবে শরীর আকাবাকা বা লেকবেকা হয়। হাত পা লম্বা লম্বা হয়। ছেলে ও মেয়ে আক্রান্ত হতে পারে। ভাই বোনদের মধ্যে অর্ধেক কমবেশী আক্রান্ত হতে পারে।

 

আরেকটা জেনেটিক সমস্যা হল এলবিনিজম। এই রোগে আক্রান্ত ছেলে বা মেয়ে জন্মগত ভাবে সাদা। ভাই বোনদের মধ্যে চার জনে একজন আক্রান্ত হতে পারে। মেলানিন পিগমেন্ট নামে এক কালো দানার জন্য মানুষের রং কালো হয়। মেলানিন দানা যার কম আছে সে ফর্সা। এলবিনিজম রোগীর শরীরে মেলানিন দানা তৈরি হয় না। তাই সাদা ।

 

একটা জন্মগত রক্ত শুন্যতা রোগ আছে যে রোগে রক্তের লাল কনিকা ভেংগে যায়। তার নাম থ্যালাসেমিয়া। এটাও জিনের দোষে হয়। ছেলে মেয়ে উভয়েই আক্রান্ত হতে পারে। ভাই বোনদের মধ্যে চার জনে একজন আক্রান্ত হতে পারে।

 

হিমোফিলিয়া একটা জন্মগত জেনেটিক ডিজিজ। এই রোগ ছেলেদের হয়। মেয়েদের সাধারণত হয় না। এই রোগে কোথাও কেটে গেলে অনেকক্ষন রক্তক্ষরণ হয়। বিশেষকরে খৎনা করালে রক্ত পরা বন্ধ হয় না। হাজাম ভয়ে পালিয়ে যায়।

আমি এখানে মাত্র কয়েকটা জিনের কারনে সমস্যার উল্লেখ করলাম। আরো অনেক রোগ আছে যেগুলো জিনের ডিফেক্ট-এর কারনে হয়। মাতৃগর্ভে থাকতেই সন্তান জেনেটিক ডিজিজে আক্রান্ত কিনা তা গর্ভের পানি পরীক্ষা করলেই জানা যায়। চিকিৎসকগণ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে আজকাল জিন রিপিয়ার করে দেন।
২৮/১১/২০১৭ খ্রি.

ময়মনসিংহ – কিশোরগঞ্জ জার্নি

পড়ে কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 3.00 out of 5)
Loading...

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই অনলাইন থেকে কেনার জন্য ক্লিক করুন

এখানে