অন্যের সংবাদ প্রচারে সতর্কতা

অন্যের সংবাদ প্রচারে সতর্কতা

(টিপস)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

মানুষ সাধারণত নিজের বা পরিবারের দুর্বল দিকগুলো সমাজে প্রকাশ করতে চায় না। শুধু খুশীর সংবাদগুলো প্রকাশ করতে চায়। এখনকার মানুষ মাস্তব সামাজিকতা কম করে। ফেইসবুক বা এমন নকল সামাজিকতা বেশী বেশী করে এখন। এখানেও তারা নিজেদের দুর্বল দিকগুলো প্রকাশ করতে চায় না। আগের দিনে অসুস্থ হলে মানুষ আত্বীয় স্বজনকে খবর দিতো। আত্বীয় স্বজন রোগীর বাড়িতে সাহায্য করে দেয়ার জন্য এগিয়ে আসতো। সংগে নিয়ে আসতো নানারকম ফল ফলাদি।

এখন সাধারণত দেখা যায় আত্বীয় সজন অসুস্থ হলে আত্বীয়ের সাহায্যে এগিয়ে না গিয়ে ফেইসবুকে একটা স্টেটাস দিয়ে দেয় “আমার আত্বীয় অমুক অমুক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তারজন্য আমরা দোয়া চাই।” এই কাজটা খুবই সহজ এবং সস্তা।

আমার কথা হলো, রোগী কি আপনাকে বলে দিয়েছে দোয়া চাওয়ার জন্য?

অনেক রোগীই চান তিনি যে অসুস্থ তা অন্য কেউ না জানুক।

কাজেই আমরা কেউ কারো অসুস্থতার কথা আগ বাড়িয়ে ফেইসবুকে প্রচার করবো না তার অনুমতি না নিয়ে।

তবে কেউ মৃত্যু বরন করলে সেই সংবাদটি প্রচার করা উত্তম কাজ।

পড়ে কেমন লাগলো তার উপর ভিত্তি করে নিচের ফাইফ স্টারে ভোট দিন ক্লিক করে

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার রচিত বই-এর অনলাইন শপ দেখার জন্য ক্লিক করুন

http://www.daraz.com.bd/shop/talukder-pathology-lab/

অন্যের ছবি পোস্ট করাতে সতর্ক হওয়া

অন্যের ছবি পোস্ট করাতে সতর্ক হওয়া
(সাধারণ)
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমরা নিজের ছবি ছাড়াও অন্যের ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে থাকি। নিজের সাথে অথবা পৃথক ভাবে। যেভাবেই দেই অন্যের ছবি দেয়ার ব্যাপারে কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। এমন কোন ছবি দেব না যাতে যার ছবি তিনি মনে কষ্ট পাবেন বা তার অসম্মান হয়। যেমন, একটি সভা চলছে। প্রধান অতিথি ভাষন দিচ্ছেন। সভাপতি ঘুমুচ্ছেন মঞ্চে বসে। অথবা নাকের পশম ছিড়ছেন। অথবা কানে আঙুল দিয়ে কান চুলকাচ্ছেন। এই ছবি সভার নিউজের সাথে ফেইসবুকে পোস্ট করা হলো। এই ক্ষেত্রে একজনের ভালো করতে গিয়ে আরেকজনের ক্ষতি করা হল। সিলেটের জাফলং গিয়ে কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি হাফপ্যান্ট পরে খালি গায় পানিতে পাথরের উপর গড়াগড়ি করলেন আনন্দ করে। বুড়াকালে একটু দূরে গিয়ে আনন্দ করলেন। কয়েকজন পাকা লম্বা দাড়িওয়ালা লোককে এ অবস্থায় দেখে একজনের ভালো লাগলো। ছবি তুলে দিয়ে দিলেন ফেইসবুকে। এলাকার মানুষ ফেইসবুকে তাদেরকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে কি মনে করবেন? এলাকায় এসে কি তারা সবার সামনে খালি গায় গড়াগড়ি পারবে?

অনেকসময় স্কুল কলেজে সাংস্কৃতিক নাইটে ডাঞ্চের সাথে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে কোন কোন শিক্ষক নেচে গেয়ে আনন্দ দেন। সেই সময় সেই পরিবেশে ব্যাপারটা তেমন বেমানান না। কিন্তু সেই ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিলে বেমানান।

একবার একজনে একটি কলেজের ছবি পোস্ট দিয়েছিল ফেইসবুকে। সেই ছবিতে দুইজন ছাত্র ছাত্রী ছাদের বারান্দায় বসেছিল। যিনি পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি সেটা লক্ষ করেন নাই। এই পোস্ট নিয়ে আপত্তি হয়েছিল।

কোন কোন সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ আসামী ধরে হাতকরা পরিয়ে নিয়ে যান। সেই ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দেয়া ঠিক না। দেখা গেছে অনেকেই এমন অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। কিন্তু তার আগেই ফেইসবুকে তাকে বেইজ্জতি করা হয়ে গেছে।

অনেকে তাদের নাতি পুতিদের উলঙ্গ ছবি ফেইসবুকে দিয়ে মজা পান। এই ছবিগুলি সেই নাতি বা নাত্নি বড় হওয়া পর্যন্ত থেকে যাবে। সেই ছবি দেখে কি সে লজ্জা পাবে না?

মনে করেন আপনার বান্ধবী মুসলিম কিন্তু হিজাব পরেন না। এই অবস্থার একটি ছবি আজ আপনি পোস্ট দিলেন। পাচ বছর পর সেই বান্ধবি সংসারি হয়েছেন এবং হিজাব পরেন। তখন যদি আপনার ফেইসবুক থেকে তার আগের দিনের ছবি ভাইরাল হতে থাকে তবে কি তিনি অসন্তুষ্ট হবেন না?

তাই, আমার মতে অন্যের ছবি পোস্ট করার আগে একটু ভেবে নিতে হবে।
২৩/৮/২০১৯ খ্রী.