২৬ মার্চের পর
(স্মৃতি কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
১৯৭১ সনে আমি মাত্র ৫ম শ্রেণীতে পড়ি। আমাদের স্কুল ছিলো মরহুম আফসার খলিফা বাড়ির সাথে ঘোনার চালা সরকারি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল । ২৬ বা ২৭ মার্চ হবে হয়তো। খালিফা বাড়ির পশ্চিম পাশে হালট ঘেষে পুকুরের পাড়ে আম গাছের নিচে একটা কাঠের বেঞ্চ ছিল বসে বিশ্রাম করার জন্য। সেই বেঞ্চে বসে আমিনুল ভাই ও কাদের চাচা রেডিও শুনছিলেল। আমিনুল ভাই হলেন মরহুম মোসলেম চাচার ছেলে। মরহুম কাদের চাচা ছিলেন মরহুম আফসার খলিফার ছেলে। এই দুইজন হয়তো সমবয়সি। আমি রেডিও শুনতে খুব পছন্দ করতাম। তাই রেডিওর কাছে গিয়ে দাড়ালাম। দুজনাই মনোযোগ দিয়ে একটি ঘোষণা বার বার শুনছিলেন। ঘোষণাটি খুব সম্ভব এ রকম ছিল – শেখ মুজিবুর রহমানকে রাস্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাঝে মাঝে বলা হচ্ছে “রেডিও পাকিস্তান ঢাকা।” দেশাত্মবোধক গান বাজাচ্ছে আর ঘোষণা চলছে। আমিনুল ভাইরা উদগ্রীব হয়ে শুনছেন।
কিছুক্ষণ পর ধলী পাড়া নিবাসী ইয়াকুব আলী চাচা এলেন ঢাকা থেকে। তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল (ইপিআর) -এ চাকরি করতেন ঢাকায়। আমিনুল ভাই জিজ্ঞেস করলেন
– চাচা, কোথা থেকে এলেন?
– আমি ঢাকা থেকে এলাম।
– ঢাকার খবর কী?
– পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে। ইপিআর বিদ্রোহ করেছে। তারা আমাদের ইপিআর বাহিনীর সদস্যদের ধরে লাইনে দাড় করিয়ে ব্রাস ফায়ার করে হত্যা করছে। ঢাকায় যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমি নিরস্ত্র হয়ে ফিরে এসেছি। আমাদের মুক্তি যুদ্ধ করতে হবে।
তিনি বাড়িতে চলে যান। পরের দিন, বা তার পরের দিন দেখলাম ইয়াকুব আলী চাচা কিছু সংখ্যক যুবক নিয়ে খলিফা বাড়ির উত্তর পাশে গজারির বন বেষ্টিত খালি বাচ্রা ক্ষেতে সামরিক ট্রেনিং দিচ্ছেন। হাতে বাঁশ দিয়ে ডামি রাইফেল তৈরি করেছে। সবার হাতে ডামি রাইফেল। আমি গজাড়ি গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ উপভোগ করছিল। সেই খালি যায়গায় পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজকের কালিয়া বাজার।
পরবর্তীতে এই ট্রেনিং প্রাপ্ত যুবকরা কাদের সিদ্দিকী প্রতিষ্ঠিত কাদেরিয়া বাহিনীতে যোগ দেন। খুব সম্ভব সেই সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ইয়াকুব আলী চাচা। তাই তিনি ইয়াকুব কমান্ডার ওরফে অকু কমান্ডার নামে পরিচিতি পান।
২৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি.
ময়মনসিংহ
ছবিটি এ আই দিয়ে তৈরি করেছি
