কফিল হায়দারের বিয়ে
(মিনি গল্প)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
বিয়ে পাস করার পর অনেক চেষ্টা করেও কোন চাকরি যোগার করতে পারেনি কফিল হায়দার। তারা ৪ ভাই ৪ বোন। সবাই তখন পড়ার মধ্যেই ছিল। সংসারে তখন অভাব লেগেই থাকতো। বেশ কিছু টাকা ঋণ করে দালালের মাধ্যমে মিডল ইষ্টে কর্মি হিসাবে চাকরি করতে যায়। সেখানে যা বেতন পায় তা ঋণের টাকার কিস্তি দিতেই শেষ হয়ে যায়। কাজেই প্রথম ৪ বছর সংসার খরচের জন্য তেমন কিছুই দিতে পারেনি। যখন দেয়া শুরু করে তখন ভাই বোন আত্মীয় স্বজনরা কে কত নিতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। কফিলের মনে হয় সবাই যেন তার টাকাকেই ভালোবাসে, তাকে নয়। পাচঁ বছরের মাথায় দুই মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসে। সাথে সবার জন্য গিফট নিয়েও আসে। সেই গিফট পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রেসারেসি শুরু হয়। তাদের এই আচরণ ভালো লাগে না। তার ইচ্ছা ছিলো এবারের ছুটিতে এসে একটা বিয়ে করে যাবে। কিন্তু সে কথা উঠাবার সুযোগ হলো না। মনের কষ্ট নিয়ে ফিরে গেলো আবার বিদেশে।
এবার বিদেশ যাওয়ার পর বাড়ির মানুষগুলোকে আগের মতো আর ভালো লাগে না। শুধু নিজের জীবন নিয়ে ভাবে। শুধু মা-বাবার জন্য অল্প কিছু টাকা পাঠায়। ঠান্ডু ঘটক কফিল হায়দারের ঠিকানা সংগ্রহ করে চিঠি লিখে জানায় যে তার হাতে একটা সুন্দরী পাত্রী আছে। খুবই বুদ্ধিমতি। দ্বিতীয় বার বিদেশে আসার পর আবার প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে। বেশ কিছু টাকা ব্যাংকে জমিয়েছে। বেশ কিছু স্বর্নালংকারও কিনেছে হবু বৌয়ের জন্য। এগুলোর খবর পরিবারের কাউকে জানায়নি। এবার টাকা পয়সা সোনাদানা ব্রিফকেসে ভরে দেশে আসে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে। শুধু জানে ঘটক। উঠে একটা রিসোর্টে। ঠান্ডু ঘটক তাকে পাত্রী দেখানোর ব্যবস্থা করে। পাত্রী খুবই সৌষ্ঠবের। ঘটা করে বিয়ের তারিখ ঠিক হয়। বিয়ের পর ব্রিফকেসটা গহনা ও টাকাসহ ঘটকের মাধ্যমে মেয়ের বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাসর ঘর সাজানো হয়েছে। বর কফিল হায়দার সেরোয়ানি পরেছে। কনে কইতরি বেগম বেনারশী শাড়ি পরেছে। বাড়িতে বিয়ে বাড়ির মতো তেমন লোকজন চোখে পড়লো না। রাত তখন গভীর। কনে সাজানো বিছানার মাঝখানে ঘোমটা দিয়ে আনত নয়নে বসেছিলো। কফিল ডান হাত দিয়ে কইতরির ঘুমটা সামান্য একটু ফাক করলো। কনে সাপের মতো ফণা তোলে লাফ দিয়ে টেবিলের উপর গিয়ে দাড়ালো। লম্বা একটা চাকু বের করে ঘোরাতে ঘোরাতে রৌদ্রমূর্তি হয়ে বললো, “সাবধান, আমার গায়ে হাত দিবি না। তোর আগেও এভাবে আমি কম পক্ষে ১০ টা বিয়া করছি। বুঝতে পারছস? জান নিয়ে বাচতে চাইলে এখই এলাকা ছাড়বি। গেলি!”
কফিল হায়দার হাত জোড় করে করুণ দৃষ্টিতে কইতরি বেগমের দিকে ফেল ফেল করে চেয়ে রইল।
২২ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি.
বি:দ্র:
এটা একটা কাল্পনিক গল্প।
এই আইকে প্রোমট করে কাল্পনিক ছবি বানিয়েছি।
