উলু খামু না, কী খামু?
(স্মৃতি কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
আগের দিনে আমাদের বড়বাইদপাড়া গ্রামের ঝোপ ঝারে খেক শিয়াল দেখা যেতো। এগোলো শিয়ালের মতই, কিন্তু সাইজে ছোট। আমাদের গ্রামটা সখিপুরের গড় অঞ্চলে। এখানে দুই রকম জমি আছে। নিচু জমিকে বলা হয় বাইদ। বাইদের দুপাশ দিয়ে টিলাযুক্ত উচু ভুমিকে বলা হয় চালা। এই চালা জমির ডিবির ভিতর উই পোকা বাসা করত। উই পোকার পাখা গজালে সন্ধার সময় ঝাকে ঝাকে আকাশে উড়ে যেতো। বিভিন্ন রকম পাখি এসে উড়ন্ত উই পোকাকে খেয়ে ফেলতো। আমরা উই পোকাকে বলতাম উলু পোকা। উলু পোকায় ঘরেও বাসা করতো। বই খ্যেয়ে ফেলতো। কাঠের ফার্নিচার খেয়ে ফেলতো। আমরা বলতাম উলুয়ে ধরছে। ঝাকে ঝাকে পাখি যখন উরন্ত উলু পোকা খেতো তখন আমরা পোলাপানরা মজা করেদেখতাম। অনেক সময় কৃষকরা খেতের আবর্জনায় আগুন দিলে সন্ধার সময় সেই আগুনে পড়ে উলু পুড়ে যেতো। এই জন্য বলে পিপিলিকার পাথা গজায় মরিবার তরে। উই পোকা পিপড়া জাতীয় পোকা। তাই পীপিলিকা গ্রুপে পড়ে।
সন্ধার সময় উই পোকা বাসা থেকে বের হলেই ঝোপ ঝার থেকে খেক শিয়াল এসে উই পোকা খেতো মজা করে। উই পোকা খেলে খেক শিয়ালের পায়খানা শক্ত হতো, মানে কোস্ট কাঠিন্য হতো। আমরা বলতাম কষা হতো। এই জন্য দেখা যেতো সকাল বেলা ঝোপের ধারে বসে পায়খানা করার জন্য খেক শিয়াল অনেক্ক্ষণ বসে থাকতো। আমার তিন বছরের বড় চাচাতো ভাই সিদ্দিক ভাই বলতেন, “খেক শিয়াল যখন উলু খায় তখন মজা করে পেট ভইরা খায়। উলু খাওয়ার জন্য সকাল বেলায় পায়খানা খুব কষা হয়। কোত পারে আর বলে, ‘আর উলু খামু না। আর উলু খামু না। অনেক চেষ্টা করার পর যখন পায়খানা করে একটু খালাল হয় তখন বলে, ‘উলু খামু না, কী খামু?’
আবার সে উলু খায়, আবার তার পায়খানা কষা হয়।
২০২৯ সনে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে সবাই গৃহে বন্দী জীবন জাপন করে এবং আল্লাহর নাম জপ করে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, আর ঘুষ খামু না। আর ঘুষ খামু না।” এর পর যখন করনার প্রকোপ শেষ হয়ে গেল তখন মানুষ বলতে লাগলো, ঘুষ খামু না। কী খামু?
২৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
