Dullakaler Seheri
দুল্যাকালের সেহেরি
(স্মৃতি কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
আমি দুল্যাকাল থেকেই রোজা রাখতাম। মা আমাদের জন্য গরম ভাত রান্না করতেন সেহরি খাবার জন্য। আমি খেতে বসলে অনেক সময় লাগতো খাওয়া শেষ করতে। দরুন, সেই ১৯৬৫ সনের কথা। আমার বয়স তখন ৭ বছর। পরনে হাফ হাতা আকাশী রঙের শার্ট ও চেক লুংগি। রমজান মাসে ভোর বেলা পাটিতে বসে সেহেরি খাচ্ছি ভাত ও মাছের তরকারি দিয়ে টিনের প্লেটে। সামনে পিতলের পানির গ্লাস। টিনের বাটিতে ডাউল আছে পিতলের চামুচসহ। সামনে গাছার উপর কুপি বাতি মিটি মিটি জ্বলছে। ঘরে মাটির বেড়া। টিনের চাল। সবার সেহেরি খাওয়া শেষ। আমার খাওয়া শেষ হচ্ছে না। ধীরে ধীরে খেয়েই চলেছি। পাতের খাবার শেষ হচ্ছে না। মা বলছেন, “বাজান, তাত্তারি খাও। বেইল উইঠা গেলো গা।” বাবা বলছেন, “তুমি যে পর্যন্ত আমার য়াতের পশম দেহা না যাবো হে পর্যন্ত খাইতে পারবা। আমি উঠানে টুলে বইয়া পশম দেকতে তাহি। তুমি খাও, বাজান।” আমার খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাবার হাতের পশম দেখা যাইত না। আমি খাওয়া শেষ হলে বলতাম, “বাবা, আমার খাওয়া শেষ।” বাবা বলতেন, “বাজান, অহন পশম দেহা যাইতাছে। রোজার নিয়ত কইয়া ফালাও।”
২৫/২/২০২৬ খ্রি.
ময়মনসিংহ
#গল্প #স্মৃতি #স্মৃতিকথা #সাদেকুল
