আর ছোলে
(স্মৃতি কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
আমাদের চাচাদের মধ্যে হাছেন কাক্কু আমার কাছে বেশী বেশী স্মৃতি কথা শোনাতেন, কারণ, আমি স্মৃতি কথা শুনতে চাইতাম। তিনি ছোট দাদাকে নিয়ে একটা স্মৃতি কথা বলেছিলেন। সেইটা আপনাদেরকে শেয়ার করবো। মজাও আছে, শিখারও আছে। ছোট দাদা ছোট দাদীকে বিয়ে করার পর কাজ কাম বাদ দিয়ে চেয়ারে বসে বসে সারাক্ষণ গল্প করে কাটাতেন। দাদা ও দাদী দুই জনই চেহারাবান ছিলেন।
একদিন দক্ষিন দরজা ঘরের বারান্দায় পাশাপাশি দুইটি গর্জিয়াস কাঠের চেয়ারে বসে দাদা-দাদি গল্প করছিলেন। এমন সময় দাদার সমবয়সী দাদার ভাতিজা সোলাইমান তালুকদার, আমাদের বড় কাক্কু কোন সময় যে উঠানে এসে দাড়িয়ে আছেন সেটা টের পাননি। দাদা-দাদি দুজনই ধার্মিক ছিলেন। কাক্কুর ডাক নাম ছিলো ছোলে। ছোলে কাক্কু এসে শোনলেন দাদা দাদীকে বলছেন,”গ্রামের মানুষ যেভাবে চলাফেরা করে, তাতে এরা কেউ বেহেস্তে যেতে পাররে না। গ্রামের আমি আর তুমি ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না।” এইটুকু বলে মাথা সোজা করে দেখেন সামনে দাড়ানো ছোলে তালুকদার। দাদা দেরি না করে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, “আর ছোলে।”
হাছেন কাক্কুর কাছে শোনা এই গল্পটা আমার খুব পছন্দ হয়। এই গল্পটা আমি অনেকের কাছেই বলেছি।একদিন আমি ডা: মইনুল ভাইর কাছেও বলেছিলাম। তিনি আমাকে একদিন জানালেন আপনার “আর ছোলে” গল্পটা আমি আমাদের সোসাইটির বার্ষিক ন্যাশনাল কনফারেন্স এ বক্তৃতা দিয়ে গিয়ে বলেছি। সবাই খুব মজা পেয়েছে। বলেছি, আমরা মঞ্চে বসা নেতাদেরকে সামনাসামনি কত প্রসংশা করি। আড়ালে গিয়ে বলি কত খারাপ। শোনে ফেললে আপনারাও বলুন, আর ছোলে।
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
ছবি জেমিনি এ আই টুল দিয়ে তৈরি
