Biggan Melay Amar Krititto

বিজ্ঞান মেলায় আমার কৃতিত্ব

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৭৮ সন। প্রিন্সিপাল এ এফ এম গোলাম কিবরিয়া স্যার কেমিস্ট্রির স্যার আনন্দ মোহন, অংকের স্যার আবুল হোসেন স্যার এবং শরীর চর্চার স্যার অখিল চন্দ্রকে দায়িত্ব দিলেন আমাদের আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ থেকে কিছু সংখ্যক বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া ছাত্র নিয়ে টাঙ্গাইলে বিন্দু বাসিনী বয়েস স্কুলে অনুষ্ঠিত ৭ দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহন করতে। স্যারগণ এই টীমে আমাকে, কাজী সাফিউল্লাহ বুলবুল, নজরুল, বেলায়েত, ও কাদেরকে নিয়ে টীম গঠন করলেন মেলায় অংশ গ্রহন করতে। আমরা স্যারদের কাছ থেকে ৭ দিন ৭ রাত্রি হোটেলে থাকা ও খাওয়া এবং আনুসংগিক খরচের টাকা নিয়ে নিলাম। ভিক্টোরিয়া রোডের একটা হোটেলে থাকা ও খাওয়া হতো।মেলায় আমরা একেক জনে একেক প্রদর্শন করতাম।

টাঙ্গাইল জেলার সব স্কুল ও কলেজের যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।প্রতিটি স্কুল থেকে দল বেধে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রবেশ করতেন।বিজ্ঞানের নানান খুটিনাটি নিয়ে তারা প্রশ্ন করতেন। আমি দেখাতাম হাতে বানানো পেরিস্কোপ। পেরিস্কোপ সম্পর্কে পড়েছিলাম ক্লাস এলেভেনেই পদার্থ বিজ্ঞান বইয়ে। আয়নার মাধ্যমে আলোর প্রতিফলন এর তত্বকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ বানানোর আইডিয়া আসে বিজ্ঞানীদের। পেরিস্কোপ মুলত: যুদ্ধের সময় ডুবু জাহাজে ব্যবহার করা হয়। ডুবু জাহাজ পানির নিচে ডুব দিয়ে থাকে। সমুদ্রের সারফেসে চলমান জাহাজ দেখার জন্য ব্যবহার করা হয় পেরিস্কোপ দিয়ে।

দর্শনার্থীরা আমার কক্ষে এলে প্রথমে তাদেরকে আমার বানানো পেরিস্কোপ দেখতে দিতাম। তারা দেয়ালের ছিদ্রে বসানো আয়নায় চোখ রাখলে শহরের নিরালার মোরে চলাচল রত পথচারী ও রিক্সা দেখতে পেতো। তার পর আমাকে জিজ্ঞেস করতো এটা কিভাবে সম্ভব হলো।

আমি পেরিস্কোপ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতাম।

পেরিস্কোপ হলো একটি অপটিক্যাল যন্ত্র, যার সাহায্যে বাধার আড়াল থেকে কোনো বস্তু দেখা যায়। এটি আলোর প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। পেরিস্কোপে সাধারণত দুটি আয়না ৪৫ ডিগ্রি কোণে বসানো থাকে, যার মাধ্যমে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছায়।

পেরিস্কোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো সাবমেরিনে। সমুদ্রের নিচে অবস্থান করেও এর মাধ্যমে ওপরে থাকা জাহাজ বা বস্তু দেখা যায়। এছাড়া সামরিক ক্ষেত্রে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এটি ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞান গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং পরীক্ষাগারেও পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয়। সবশেষে বলা যায়, পেরিস্কোপ বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার যা আমাদের নিরাপদভাবে দূরের বা আড়ালে থাকা বস্তু দেখতে সাহায্য করে।

– কিন্তু, সেটা তো সমুদ্রের প্যাপার। এখান থেকে নিরালা মোর কিভাবে দেখা যাচ্ছে?

-আমি দুইটা আয়না কিনে এনে এখানে ব্যবহার করেছি। একটা আয়না ৪৫ ডিগ্রি কোণাকুণি করে বসিয়েছি এই বিল্ডিংয়ের ছাদের কিনারে। আরেকটা আয়না বসিয়েছি নিচের বাগানে ৪৫ ডিগ্রি কোনাকোনি করে যাতে উপরেরটার প্রতিবিম্ব নিচের আয়নার উপর এসে পরে। আয়নায় পড়া সেই দৃশ্যই ঘরের ভিতর থেকে ওয়ালের ছিদ্র দিয়ে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।

– তাজ্জব!

পেরিস্কোপ দেখিয়ে ছাত্র ও শিক্ষকদের আমি বেশ ইম্প্রেসড করেছিলাম। বিচারকরা আমার পারফরম্যান্স দেখে খুবই প্রসংশা করে। আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ পুরস্কার পায়।

আমি যেন এখনো দেখতে পাই পেরিস্কোপ দিয়ে দেখা টাঙ্গাইলের সেই নিরালার মোর। ঐতিহ্য বাহী ঘ্যাগের দালান।

অপ্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটের ফাইলে আমার সেই কৃতিত্বের সার্টিফিকেটটি খুজে পেলাম। তাতে লেখা আছে

দ্বিতীয় জাতীয় বিজ্ঞান সপ্তাহ

বিজ্ঞান মেলা ‘৭৮

টাঙ্গাইল

কৃতিত্ব পত্র

টাঙ্গাইলে ২৯ শে সেপ্টেম্বর থেকে ৫ই অক্টোবর ‘৭৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজের ছাত্র সাদেকুল ইসলাম বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে।

আশা করবো তার সৃজনশীল প্রতিভা উত্তরোত্তর বিকাশ লাভ করে জাতীয় জীবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

চেয়ারম্যান ————– সেক্রেটারি

তারিখ ৫ ই অক্টোবর

১৯৭৮

স্মৃতি কথা লিখার তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

সার্টিফিকেটের ছবি সংযুক্ত করলাম।

মেলার কাল্পনিক ছবি একেছি ChatGPT AI Tool দিয়ে।

#sadequel #science_exhibition #nirala-mor