Riksaoala Chauler dor Janena
রিক্সাওয়ালায় চাউলের দর জানেন না
(জীবনের গল্প)
ডা; সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
রাত ৯ টার পর চেম্বার থেকে বের হলাম। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো। রিক্সা খুচ্ছিলাম। খুব কম রিক্সা ছিলো। কেউ যেতে রাজি হলেন না। চিন্তা করলাম এর পর যাকে খালি পাবো তাকে এভাবে প্রস্তাব দেবো “ভাই, মাসকান্দা নুতুন বাজার ৫০ টাকা, যাবেন?” চেম্বার থেকে ওখানকার ভাড়া হলো ২০ টাকা। কিন্তু ২-৩ জনকে ৫০ টাকা প্রস্তাব দিয়েও রাজি করাতে পারলাম না।
এবার একজন খালি পেলাম। বললাম
– ভাই, মাসকান্দা নতুন বাজার যাবেন?
– যাবো, ভাড়া ৩০ টাকা।
– চলুন।
বাসার সামনে নেমে তার হাতে ৫০ টাকা দিয়ে বললাম
– আমি আজকের ভাড়া ৫০ টাকা দেয়ার নিয়ত করেছিলাম। আপনি ৫০ টাকাই নেন।
তিনি নিয়ে নিলেন। এই ৫০ টাকায় কতটুকু চাউল কিনতে পারবেন জানার জন্য জিজ্ঞেস করলাম
– চাউলের কেজি কত টাকা করে?
– কইতে পারতাম না।
– কেন, চাউল কিনতে হয় না?
– আমি তো হোটেলে খাই সবসময়। তাই, জানি না।
– আপনার বাড়ি কোথায়?
– গৌরিপুর।
– ডেইলি গৌরিপুর চলে যান?
– না। ময়মনসিংহ শহরেই থাকি।
– বাসা ভাড়া কত দিতে হয়?
– বাসা ভাড়া লাগেনা। রিক্সার গ্যারেজেই থাকি।
– গ্যারেজওয়ালা ভাড়া নেয় না?
– না, রিক্সা তো তারই। রিক্সা চালক গ্যারেজে থাকতে চাইলে থাকতে দেন।
সালাম দিয়ে রিক্সাওয়ালা বিদায় নিলেন। আমি বাসায় প্রবেশ করতে করতে ভাবলাম “সব কর্মজীবী মানুষ এভাবে কষ্ট করে যাচ্ছে তার স্ত্রী, সন্তান ও নিকট আত্মীয়দের সুখে রাখতে।”
লিখনঃ ১৯/৬/২০২২
পুনঃলিখনঃ ১৩/২/২০২৬
#গল্প #জীবনেরগল্প #সাদেকুল
