Dhandania Water Fall

জল প্রপাতের নামকরণ :

ঢ্নডনিয়া জলপ্রপাত (Dhandania Water Fall) মুলত প্রথম মিডিয়া জগতে প্রচার পায় বাশারচালা গ্রামের ধলা মিয়ার ফেইসবুক পোস্ট দেখে। তিনি সেখানে মাছ ধরতে গিয়ে তার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে পোস্ট দেন। এলাকার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নজরে আসলে ক্রমেই এটা নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হতে থাকে। যেহেতু এর নির্দিষ্ট কোন নাম ছিলো না, সেহেতু বিভিন্ন জন বিভিন্ন নাম দিয়ে প্রচার করেন। যেহেতু ছোট চওনা ব্রিজ হয়ে হেটে এই জায়গায় যেতে হয় সেহেতু অনেকেই এর নাম দিয়েছেন ছোট চওনা মিনি জলপ্রপাত। আশেপাশের সবুজের সৌন্দর্য সহ এর নাম দিয়েছেন মিনি সুইজারল্যান্ড। আমার মতে, যেহেতু এটা ঢ্ণডনিয়া বাইদে, ঢ্নডনিয়া মৌজার অন্তর্ভুক্ত তাই এর নাম “ঢ্নডনিয়া জল প্রপাত (Dhandania Water Fall)” হওয়াই ভালো।

আপনার কী মনে হয়?

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বড়বাইদপাড়া, সখিপুর, টাংগাইল।

১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রি.

ঢ্নডনিয়া জলপ্রপাতের সৌন্দর্য – মিনি সুইজারল্যান্ড

(ভ্রমণ গাইড)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

টাংগাইল জেলার সখিপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ঢনডনিয়া জল প্রপাতটি ঢ্নডনিয়া ও তৈলধারা পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থিত। এই সবুজ পাহাড়, উপত্যকার বাইদের সবুজ ঘাস ও ফসল এবং বাইদ চিড়ে প্রবাহমান পানির স্রোত – এসব মিলে এক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি তৈরি করেছে। ভ্রমণ পিপাসুরা এর নাম দিয়েছে মিনি সুইজারল্যান্ড। পানির স্রোতের শব্দ, পর্যটকদের জল-কেলি ও কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠে এই পর্যটন কেন্দ্রটি।

ঢনঢনিয়া জল প্রপাতের পানির প্রবাহ

(ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার, বড়বাইদপাড়া, সখিপুর)

ঢনঢনিয়া জল প্রপাতের পানি আচড়ে পড়ে প্রথমে খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এই পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে অর্থাৎ পূর্ব-পশ্চিম দিকে ন্যাচারাল খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ইন্দারজানী পাদদেশে বিরাট চাপড়া বিলে গিয়ে মিশেছে। এই খাল মান্দার (মান্দাইর) খাল নামে পরিচিত। শুধু জল প্রপাতের পানিই নয়, এই খালের দুই দিকের পাহাড়ি অঞ্চলের পানিও এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়। চাপড়া বিল এই এলাকার বিরাট এক জলাধার। বর্ষার শেষে চাপড়া বিলের পানি সাইল সিন্দুর খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মরিচার কাছে গিয়ে বংশী নদীতে গিয়ে পড়ে। বর্ষাকালে এই খাল দিয়ে নৌকা নিয়ে ছোট চওনা ঘাটে এসে নৌকা ভিড়ে। এই খালের পানি স্বচ্ছ। মান্দার খাল, চাপড়া বিল, সাইল সিন্দুর খাল ও বংশী নদীর মাছ সুস্বাধু হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে যখন প্রচুর বৃষ্টি হওয়া শুরু হয় তখন মান্দার খালে প্রবল স্রোত থাকে। এই স্রোতের ভিতর দিয়ে চাপড়া বিল থেকে প্রচুর ডিমওয়ালা দেশীয় মাছ উজাতে থাকে। বিভিন্ন বাইদে প্রবেশ করে বিভিন্ন ডোবায় এসে ডিম ছাড়ে। ডিম থেকে মাছের পোনা বড় হলে আষাঢ় -শ্রাবনের ঢলের পানির সাথে মিশে মান্দার খাল দিয়ে চাপড়া বিলে আশ্রয় নেয়। সেখানে গভীর পানিতে মাছ বড় হয়। পাহাড়ের ঢলের পানিতে মাছের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্যও চলে যায় এই চাপড়া বিলে। এই জন্য চাপড়া বিলের মাছ হৃষ্টপুষ্ট ও সুস্বাদু হয়। বর্ষার শেষে পানি যখন সাইল সিন্দুর খাল দিয়ে বংশি নদীতে নামতে থাকে তখন বড় বড় বোয়াল, চিতল, আইড়, শোল, গজার ইত্যাদি মাছও বংশী নদীতে চলে যায়। সেখানে গিয়ে আরও বড় বড় হয়।

এই পানির গতি পথ দিয়ে আগের দিনে নৌকা যোগে অনেক পন্য আনা নেয়া হতো।

শীত-বসন্তের দিনে এগুলোর পানি অনেক কমে যায়। পানি যেটুকু থাকে শান্ত ও স্বচ্ছ থাকে।

১৮/৬/২০২৬

ময়মনসিংহ

#জল_প্রপাত#ঢ্নডনিয়া#water_fall

ঢনডনিয়া জল প্রপাতে যাওয়ার রাস্তা

(ভ্রমণ গাইড)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ঢ্নডনিয়া জলপ্রপাত দেখতে যাওয়ার পাকা রাস্তা আছে। ভ্রমণ স্পটের তিন শত মিটার উত্তরে ছোট চওনা ব্রিজ। এখানেই গাড়ি থেকে নামবেন। এখান থেকে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ স্পটে যাবেন। এখানে থাকা-খাওয়ার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তবে ফুস্কা, ঝাল মুড়ি জাতীয় স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। যেহেতু এটা স্থানীয় জনগনের জমির উপর প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয়েছে, সেহেতু এর কোন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নাই। নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তবে এলাকার লোকজন ভালো। রাত্রি যাপন করতে হলে জেলা শহরে চলে যাওয়াই ভালো।

ছোট চওনা ব্রিজটি বড় চওনা – কালিহাতী রাস্তায় মান্দার খালের উপর অবস্থিত। ব্রিজ এলাকাও বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান। এই সড়কে বাস চলাচল করে না। সি এন জি চালিত অটোরিকশা চলে বড় চওনা থেকে পারখী চৌরাস্তা এবং এখান থেকে কালিহাতী। বাংলাদেশের যেখান থেকেই আসবেন হয় বড় চওনা দিয়ে প্রবেশ করবেন নায় হয় কালিহাতী দিয়ে। মোটর বাইক অথবা প্রাইভেট কার নিয়ে এলে সরাসরি ছোট চওনা ব্রিজে পৌছুতে পারবেন। বড় চওনা থেকে ছোট চওনার দূরত্ব ৪.৬ কিলোমিটার এবং কালিহাতী থেকে ছোট চওনার দূরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার। দূর থেকে আসতে হলে কালিহাতী অথবা বড় চওনা যেতে গুগল ম্যাপে সার্চ দিবেন। এখানে পৌঁছে ছোট চওনার পথ ধরবেন। বিকেল ৬ টার মধ্যেই ভ্রমণ স্পট ত্যাগ করবেন।

একটা কথা মনে রাখতে হবে, যেহেতু পাহাড়ি বৃষ্টির পানির ঢল থেকে সৃষ্টি হয় এই জল প্রপাত, সেহেতু জল প্রপাত দেখতে হলে বৃষ্টির মাসগুলোতে যেতে হবে এই ভ্রমণ স্পটে।

২০ জুলাই ২০২৬

ঢ্নডনিয়া জলপ্রপাত রিসোর্ট

(প্রস্তাবনা, পরিকল্পনা ও ডিজাইন)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ঢনডনিয়া জলপ্রপাতকে কেন্দ্র করে এই এলাকার ভূমি-মালিক ও পর্যটন করপোরেশন অথবা পর্যটন শিল্পের উদ্দোক্তাদের নিয়ে একটা রিসোর্ট নির্মানের আমি কল্পনা করে এআই টুল দিয়ে একটা ছবি একেছি, যেটা এখানে শেয়ার করা হলো।

রিসোর্টের মাঝখানে থাকবে ১০ ফুট উচু জল প্রপাত। জল প্রপাতের দক্ষিণ পাশে উজানে থাকবে একটা লেক।এখানে বোটিং করা হবে। উত্তরে থাকবে জল প্রপাতের পানি। সেই পানি সরু হয়ে মান্দার খালে প্রবাহিত হবে উত্তর দিকে।খালের পাড় দিয়ে ছোট সাইজের সবুজ গাছ পালা থাকবে। খালের দুই দিকে সমতল ভুমিতে বাগান থাকবে। রিসোর্টের দুই দিকে ঢালু পাহাড়। সেখানে বড় বড় পাহাড়ি গাছ। তার নিচ দিয়ে বেড়ানোর পরিবেশ থাকবে। পুর্ব পাহাড়ের ঢালে রিসোর্টের টাওয়ার। এতে থাকবে রিসেপশন, রেস্টুরেন্ট, হোটেল ইত্যাদি। পাশে একটা অবজারভেশন টাওয়ার। রিসোর্টের পুর্ব ও পশ্চিমে দিগন্তজোড়া সবুজ বন। পূর্ব – দক্ষিন কোণ থেকে উত্তর -পশ্চিম কোণ পর্যন্ত লিপলাইন দিয়ে ঝুলে ঝুলে যাবে পর্যটকরা। দৃশ্যগুলো দারুণ হবে।

এই ভুমি থেকে ভুমি তেমন কিছু পান না। তখন অনেক লাভবান হবেন।

আপনি কী মনে করেন? কমেন্ট বক্সে লিখুন। শেয়ার করে জানিয়ে দিন।

২১ জুলাই ২০২৬ খ্রি.

#রিসোর্ট#ঢ্নডনিয়া#resort#Dhandania

ঢনডনিয়া জলপ্রপাত এলাকায় আমার শৈশব

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমি ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সনে ৭ম ও ৮ম শ্রেণীতে পড়তাম কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে। স্কুল থেকে এসে সাধারণত পাড়ার বন্ধুরা খেলতে যেতো। আমি ছিলাম ব্যতিক্রমী। আমি মাছ ধরার ছলে ঢনডনিয়া জলপ্রপাত এলাকা থেকে শুরু করে মাহা সরকারের বাঁধ, হাজীর বাঁধ, ছোট চওনা ঘাট, ভুয়াইদের ক্ষেত এবং এর ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সর্পিল মান্দার খালে মাছ ধরতে ধরতে এই পাহাড়ি এলাকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতাম। যেতাম ঢনডনিয়া বংশী পাড়া হয়ে। ফিরতাম ছোট চওনা, জিতাশ্বরি হয়ে। মাছ যাই ধরতাম, সেটা বড় কথা না, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করাই আমার আসল উদ্দেশ্য ছিলো।

গ্রামের ছেলে। লুংগি ও সেন্ডো গেঞ্জি গায়ে মাছেরে যেতাম। মাছ ধরতে যাওয়াকে আমরা মাছেরে যাওয়া বলতাম। ঘাস কাটতে যাওয়াকে বলতাম ঘাসেরে গেছে। একেক সিজনে একেক রকম মাছ পাওয়া যেতো। পাহাড়িয়া ছোট মাছ। খুব স্বাদের হয়। টাকি মাছকে বলতাম ছাইতান মাছ। চিংড়ি মাছকে বলতাম ইচা মাছ। চিরকা মাছকে বলতাম বাইং মাছ। আসল বাইম মাছকে বলতাম নাইয়া বাইং। ইচা মাছ ধরার জন্য ব্যবহার করতাম খুইয়া জাল ও জাহইর। জাহইর বাঁশ দিয়ে বুনানো তিন কোনা একটা ডিভাইস। পানির নিচ দিয়ে ঠেলে সামনের দিকে নিয়ে খালের পাড়ে নিয়ে ঠেকিয়ে পাড়ের গর্তের ভিতর হাত দিয়ে খাবলা খাবলা করলে ইচা মাছ জাহইরে অথবা খুইয়া জালে উঠে আসতো। কোমড়ে মাছ রাখার খালই বাঁধা থাকতো। মাছ ধরে ধরে খালইতে রাখতাম। বেলা ডোবার আগে ডান কাঁদে খুইয়া নিয়ে এবং বাম হাতে খালই ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরতাম। পথে মুরুব্বিদে সামনে পড়লে “দেহি গেদা কতোরি মাছ ধরছ” বলে খালইর মুখে উকি দিয়ে বলতেন, ভালাই ধরছ।”

কোন কোন সময়, বিশেষ করে মান্দার খালে পানি কমে গেলে হাতিয়ে মাছ ধরতাম। আঞ্চলিক ভাষায় বলতাম য়াতাইয়া মাছ ধরা। পানির স্তর কমে গেলে মাছগুলো পানির তলায় মাটির সাথে মিশে বিশ্রাম নিতো। দু’হাত ডুবিয়ে মাটি ছইয়ে হাঁস যেভাবে শামুক ঝিনুক খুঁজে, সেইভাবে হাত দিয়ে খাবলা খাবলা করতাম। মাছের স্পর্শ অনুভূত হলে মাছের ঘারে ঘরে তুলে আনতাম। এভাবে বড় বড় টাকি মাছ, সরপুঁটি, নোন্দা জাতীয় ঝড়ঝড়া মাছ ধরা যেত।

মান্দার খালের পাড় দিয়ে মাঝে মাঝে হিজল গাছ ছিলো। আর ছিলো বড় বড় ঝোপঝাড়। এগুলো দেখতে খুব ভালো লাগলো আমার। মাছ ধরা বাদ দিয়ে এদের দিকে চেয়ে থাকতাম অপলক দৃষ্টিতে। আশে পাশে থেকে সাদা বক মাছ ধরে এনে এসব গাছের উপর বসতো। হাট টিমা টীম পাকিকে আমরা হটেট্টি পাখি বলতাম। মান্দার খালের দুপাশের শস্য ক্ষেতগুলোতে অনেক হটেটটি পাখি বিচরন করতো। ওড়া উড়ে কিন্তু গাছে বসে না। উড়ে উড়ে চিল্লা চিল্লি করে এভাবে “হ টি টি, হ টি টি, টি টি হট, টি টি হট।” আমার এগুলো শুনতে ভালো লাগতো। মাঝে মাঝে বিড়াট বিড়াট সাড়স পাখি ক্ষেতের উপর দিয়ে হেটে হেটে সাপ বেঙ ধরতো। আমি যেনো এখনো ময়মনসিংহ বসে কল্পনার জগতে প্রবেশ করে সেগুলো দেখতে পাই।

একবার মাছ ধরার আরেক পদ্ধতি আবিষ্কার করলাম। তখন পানি কমে গিয়েছিলো মান্দার খালে। পায়ের নিচে ছিলো পিচ্ছিল কাদা। মাঝে মাঝে পায়ের নিচে কাদার ভেতরে মাছের অনুভুতি টের পেতাম। এগুলো ছিলো চিরকা মাছ, আমরা বলতাম বাইং মাছ। আর ছিল টাকি মাছ, আমরা বলতাম ছাইতান মাছ। যে পায়ের তলায় মাছে উপস্থিতি অনুভূত হতো সেই পায়ের দুপাশ দিয়ে দু’গাত প্রবেশ করিয়ে কাদাসহ মাছ এনে খালের পাড়ে ডাংগায় ছুড়ে মাড়ছিলাম। কাদা থেকে মাছ বেড়িয়ে এসে হাটিহুটি পারছিলো, আর ধরে ধরে খালইয়ে ভরছিলাম। এক সময় কাদার সাথে বিড়াট এক টাকি মাছ উঠছিলো। আকাশেই হাটিহুটি করে মান্দার খালের পাড়ে ঝোপের ভিতর গিয়ে পড়লো। এত বড় মাছটা নিয়ে যেতে হবে বলে আমি ঝোপের ভিতর প্রবেশ করলাম। অবাক হয়ে দেখলাম অনেক গুলো আস্ত মানুষের কংকাল স্তুপ করা আছে। ভয়ে গা শিউরে উঠলো। খালই হাতে নিয়ে দুরু দুরু বুকে বাড়িতে ফিড়লাম। মাছ দেখে মা খুশি হলেন। কিন্তু যতই রাত গভীর হতে লাগলো কংকাল দেখার ভয় আমার বাড়তে লাগলো। বাবা আমার আচরণ বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন, “বাজান, শরীর খারাপ?”

– না, আইচকা ডরাইছি।

– কী দেইখা ডরাইছ?

আমি কংকাল দেখার বর্ননা করলাম বাবার কাছে?

জিজ্ঞেস করলাম

– ইন্নাকি হাছাই মাইন্সের কংকাল? নাকি আমারে কিছুইয়ে ধরছে?

– না, বাজান। ডরাইয়ো না। উন্না বংশি-মান্দাইগ কংকাল। ওগো ধর্মে আছে যে কলেরা, বসন্ত মহামারী য়ইয়া মইরা গেলে হেন্নারে না পুইড়া চাপড়া মাটি দিয়া ফালায়। হেইন্না তিগা মোনয় কংকাল য়ইছে। ডরাইয়ো না।

গ্রাম থেকে যত দুরেই থাকি সদা গ্রামের শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। কিন্তু কংকালের রহস্য আমার রইয়েই গেছে। ইদানিং ঢ্নডনিয়া লেভেলের জল প্রপাতটি সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওগুলো দেখে আমার শৈশবের স্মৃতি বেশী বেশী মনে পড়ছে। আমিও ওগুলো শেয়ার করছি। নিজের মতামত ব্যক্ত করছি। জল প্রপাত দেখতে আমাদের দেশের ভ্রমণ পিপাসুরা সিলেট যায়। অথচ বাংলাদেশের মাঝখানে সখিপুরের ঢনঢনিয়া গ্রামেই সুন্দর জল প্রপাত আছে। পর্যটন শিল্পের আওতায় এনে জল প্রপাতকে কেন্দ্র করে দুই পাহাড়ের এই উপত্যকায় পরিকল্পনা করে আকর্শনীয় এক রিসোর্ট তৈরি করা যায় – এমন একটা ফেইসবুক পোস্ট আজ আমি দিয়েছি। তার একটা কাল্পনিক ছবিও পোস্ট করেছি। সন্ধায় স্থানীয় তৈল ধারা গ্রামের সাইদ মেম্বার ভাইকে ফোন করে অনেক আলাপ করলাম এব্যাপারে। তাকে শেষে কংকালের র্‌হস্যাটা কী জিজ্ঞেস করলে বললেন, “আপনার আব্বা যেটা বলেছেন, সেটাই ঠিক। এক সময় গুটি বুসন্ত হয়ে অনেক বংশী-মান্দাই মারা যায়। ঐসময় নাকি পুজায় তারা কি যেন ভুল করেছিলো, তাই প্রচুর লোক মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।”

আমি বললাম, “পুজার ভুলের জন্য নয়, পুজার সময় সবাই কাছাকাছি আসাতে ছোয়া ছুয়ি হয়ে বেশী আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। দেখেননি, করোনার সময় মানুষকে কিভাবে লক ডাউন করে আটকিয়ে রাখা হয়েছিলো যাতে মহামারী না ছড়ায়।” তিনি বললেন, “এলাকায় বেড়ায়ে আসেন। জল প্রপাত দেখে যান। অনেক দূর থেকে জল প্রপাত দেখতে আসে।”

২১ জুলাই ২০২৬ খ্রি.

ময়মনসিংহ

#স্মৃতি#শৈশব#জলপ্রপাত