Tag Archives: sadequel

Biggan Melay Amar Krititto

বিজ্ঞান মেলায় আমার কৃতিত্ব

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৭৮ সন। প্রিন্সিপাল এ এফ এম গোলাম কিবরিয়া স্যার কেমিস্ট্রির স্যার আনন্দ মোহন, অংকের স্যার আবুল হোসেন স্যার এবং শরীর চর্চার স্যার অখিল চন্দ্রকে দায়িত্ব দিলেন আমাদের আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ থেকে কিছু সংখ্যক বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া ছাত্র নিয়ে টাঙ্গাইলে বিন্দু বাসিনী বয়েস স্কুলে অনুষ্ঠিত ৭ দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহন করতে। স্যারগণ এই টীমে আমাকে, কাজী সাফিউল্লাহ বুলবুল, নজরুল, বেলায়েত, ও কাদেরকে নিয়ে টীম গঠন করলেন মেলায় অংশ গ্রহন করতে। আমরা স্যারদের কাছ থেকে ৭ দিন ৭ রাত্রি হোটেলে থাকা ও খাওয়া এবং আনুসংগিক খরচের টাকা নিয়ে নিলাম। ভিক্টোরিয়া রোডের একটা হোটেলে থাকা ও খাওয়া হতো।মেলায় আমরা একেক জনে একেক প্রদর্শন করতাম।

টাঙ্গাইল জেলার সব স্কুল ও কলেজের যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।প্রতিটি স্কুল থেকে দল বেধে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রবেশ করতেন।বিজ্ঞানের নানান খুটিনাটি নিয়ে তারা প্রশ্ন করতেন। আমি দেখাতাম হাতে বানানো পেরিস্কোপ। পেরিস্কোপ সম্পর্কে পড়েছিলাম ক্লাস এলেভেনেই পদার্থ বিজ্ঞান বইয়ে। আয়নার মাধ্যমে আলোর প্রতিফলন এর তত্বকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ বানানোর আইডিয়া আসে বিজ্ঞানীদের। পেরিস্কোপ মুলত: যুদ্ধের সময় ডুবু জাহাজে ব্যবহার করা হয়। ডুবু জাহাজ পানির নিচে ডুব দিয়ে থাকে। সমুদ্রের সারফেসে চলমান জাহাজ দেখার জন্য ব্যবহার করা হয় পেরিস্কোপ দিয়ে।

দর্শনার্থীরা আমার কক্ষে এলে প্রথমে তাদেরকে আমার বানানো পেরিস্কোপ দেখতে দিতাম। তারা দেয়ালের ছিদ্রে বসানো আয়নায় চোখ রাখলে শহরের নিরালার মোরে চলাচল রত পথচারী ও রিক্সা দেখতে পেতো। তার পর আমাকে জিজ্ঞেস করতো এটা কিভাবে সম্ভব হলো।

আমি পেরিস্কোপ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতাম।

পেরিস্কোপ হলো একটি অপটিক্যাল যন্ত্র, যার সাহায্যে বাধার আড়াল থেকে কোনো বস্তু দেখা যায়। এটি আলোর প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। পেরিস্কোপে সাধারণত দুটি আয়না ৪৫ ডিগ্রি কোণে বসানো থাকে, যার মাধ্যমে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছায়।

পেরিস্কোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো সাবমেরিনে। সমুদ্রের নিচে অবস্থান করেও এর মাধ্যমে ওপরে থাকা জাহাজ বা বস্তু দেখা যায়। এছাড়া সামরিক ক্ষেত্রে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এটি ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞান গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং পরীক্ষাগারেও পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয়। সবশেষে বলা যায়, পেরিস্কোপ বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার যা আমাদের নিরাপদভাবে দূরের বা আড়ালে থাকা বস্তু দেখতে সাহায্য করে।

– কিন্তু, সেটা তো সমুদ্রের প্যাপার। এখান থেকে নিরালা মোর কিভাবে দেখা যাচ্ছে?

-আমি দুইটা আয়না কিনে এনে এখানে ব্যবহার করেছি। একটা আয়না ৪৫ ডিগ্রি কোণাকুণি করে বসিয়েছি এই বিল্ডিংয়ের ছাদের কিনারে। আরেকটা আয়না বসিয়েছি নিচের বাগানে ৪৫ ডিগ্রি কোনাকোনি করে যাতে উপরেরটার প্রতিবিম্ব নিচের আয়নার উপর এসে পরে। আয়নায় পড়া সেই দৃশ্যই ঘরের ভিতর থেকে ওয়ালের ছিদ্র দিয়ে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।

– তাজ্জব!

পেরিস্কোপ দেখিয়ে ছাত্র ও শিক্ষকদের আমি বেশ ইম্প্রেসড করেছিলাম। বিচারকরা আমার পারফরম্যান্স দেখে খুবই প্রসংশা করে। আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ পুরস্কার পায়।

আমি যেন এখনো দেখতে পাই পেরিস্কোপ দিয়ে দেখা টাঙ্গাইলের সেই নিরালার মোর। ঐতিহ্য বাহী ঘ্যাগের দালান।

অপ্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটের ফাইলে আমার সেই কৃতিত্বের সার্টিফিকেটটি খুজে পেলাম। তাতে লেখা আছে

দ্বিতীয় জাতীয় বিজ্ঞান সপ্তাহ

বিজ্ঞান মেলা ‘৭৮

টাঙ্গাইল

কৃতিত্ব পত্র

টাঙ্গাইলে ২৯ শে সেপ্টেম্বর থেকে ৫ই অক্টোবর ‘৭৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজের ছাত্র সাদেকুল ইসলাম বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে।

আশা করবো তার সৃজনশীল প্রতিভা উত্তরোত্তর বিকাশ লাভ করে জাতীয় জীবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

চেয়ারম্যান ————– সেক্রেটারি

তারিখ ৫ ই অক্টোবর

১৯৭৮

স্মৃতি কথা লিখার তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

সার্টিফিকেটের ছবি সংযুক্ত করলাম।

মেলার কাল্পনিক ছবি একেছি ChatGPT AI Tool দিয়ে।

#sadequel #science_exhibition #nirala-mor

ulu-khamu

উলু খামু না, কী খামু?

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আগের দিনে আমাদের বড়বাইদপাড়া গ্রামের ঝোপ ঝারে খেক শিয়াল দেখা যেতো। এগোলো শিয়ালের মতই, কিন্তু সাইজে ছোট। আমাদের গ্রামটা সখিপুরের গড় অঞ্চলে। এখানে দুই রকম জমি আছে। নিচু জমিকে বলা হয় বাইদ। বাইদের দুপাশ দিয়ে টিলাযুক্ত উচু ভুমিকে বলা হয় চালা। এই চালা জমির ডিবির ভিতর উই পোকা বাসা করত। উই পোকার পাখা গজালে সন্ধার সময় ঝাকে ঝাকে আকাশে উড়ে যেতো। বিভিন্ন রকম পাখি এসে উড়ন্ত উই পোকাকে খেয়ে ফেলতো। আমরা উই পোকাকে বলতাম উলু পোকা। উলু পোকায় ঘরেও বাসা করতো। বই খ্যেয়ে ফেলতো। কাঠের ফার্নিচার খেয়ে ফেলতো। আমরা বলতাম উলুয়ে ধরছে। ঝাকে ঝাকে পাখি যখন উরন্ত উলু পোকা খেতো তখন আমরা পোলাপানরা মজা করেদেখতাম। অনেক সময় কৃষকরা খেতের আবর্জনায় আগুন দিলে সন্ধার সময় সেই আগুনে পড়ে উলু পুড়ে যেতো। এই জন্য বলে পিপিলিকার পাথা গজায় মরিবার তরে। উই পোকা পিপড়া জাতীয় পোকা। তাই পীপিলিকা গ্রুপে পড়ে।

সন্ধার সময় উই পোকা বাসা থেকে বের হলেই ঝোপ ঝার থেকে খেক শিয়াল এসে উই পোকা খেতো মজা করে। উই পোকা খেলে খেক শিয়ালের পায়খানা শক্ত হতো, মানে কোস্ট কাঠিন্য হতো। আমরা বলতাম কষা হতো। এই জন্য দেখা যেতো সকাল বেলা ঝোপের ধারে বসে পায়খানা করার জন্য খেক শিয়াল অনেক্ক্ষণ বসে থাকতো। আমার তিন বছরের বড় চাচাতো ভাই সিদ্দিক ভাই বলতেন, “খেক শিয়াল যখন উলু খায় তখন মজা করে পেট ভইরা খায়। উলু খাওয়ার জন্য সকাল বেলায় পায়খানা খুব কষা হয়। কোত পারে আর বলে, ‘আর উলু খামু না। আর উলু খামু না। অনেক চেষ্টা করার পর যখন পায়খানা করে একটু খালাল হয় তখন বলে, ‘উলু খামু না, কী খামু?’

আবার সে উলু খায়, আবার তার পায়খানা কষা হয়।

২০২৯ সনে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে সবাই গৃহে বন্দী জীবন জাপন করে এবং আল্লাহর নাম জপ করে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, আর ঘুষ খামু না। আর ঘুষ খামু না।” এর পর যখন করনার প্রকোপ শেষ হয়ে গেল তখন মানুষ বলতে লাগলো, ঘুষ খামু না। কী খামু?

২৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

#গল্প #স্মৃতিকথা #sadequel

ten-percent-formalin

১০% ফরমালিন তৈরিতে বদনার ব্যবহার


(স্মৃতি কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৯৩ সনের কথা। তখন আমি এম ফিল কোর্সে ছিলাম আইপইজিএম আর (এখনকার বিএমিউ)-এ। কোর্স মাত্র শুরু হয়েছে। অফিস টাইম ছিল দুপুর আড়াইটা পর্রন্ত। অফিস টাইমের শেষের দিকে বায়োপসি পরীক্ষার সেম্পলগুলির গ্রস এক্সামিনেশন করে টিস্যু সেম্পল ব্লক নিয়ে ১০% ফরমালিনে রেখে দিতে হতো। সকাল আটটা থেকে ক্লাস ও কাজ করতে করতে গ্রস দেয়ার সময় আমি ক্লান্ত ও ক্ষুধার্থ হয়ে পড়তাম।

একদিন দুইটার সময় গ্রস দিতে গিয়ে দেখি ১০% ফরমালিন নাই। ঐসময় ল্যাব এটেন্ডেট যিনি ছিলেন তার নাম এতদিনে আমি ভুলে গেছি। তিনি পাজামা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরে থাকতেন। তিনি পাক্কা নামাজি ছিলেন। আমি বললাম, “হুজুর, আজ গ্রস দেয়া গেলো না। চলে যাচ্ছি। “
– কেন?
– ফরমালিন নাই জারে।
– দাড়ান একটু, আমি বানিয়ে দিচ্ছি।

আমি ভাবলাম, হুজুর প্রথমে একটা মিজারিং সিলিন্ডার আনবেন, জার থেকে তেল মাপার মতো করে ফরমালিন নিবেন জারে, তারপর ডিস্টিল্ড ওয়াটার নিবেন সিলিন্ডার দিয়ে মেপে নব্বই গুন পর্যন্ত। এতক্ষনে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়বো।

হুজুর একটা অজুর বদনা হাতে নিয়ে ভিতর দিকে যাচ্ছিলেন। বললাম
– আমার অত সময় নাই। আপনি যাচ্ছেন অজু করতে। আগামীকাল গ্রস দিব। বানিয়ে রাইখেন।
– না, না,, এক্ষুনি বানিয়ে দিচ্ছি।
বলেই দ্রুত বিতরে গিয়ে বদনা ভর্তি করে কি যেন নিয়ে এনে ১০% ফরমালিন লিখা জারে ঢাললেন। বললাম
– এটা কি ঢাললেন?
– ফরমালিন ঢাললাম।

তারপর তিনি পানির ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে পরপর ৯ বদনা পানি ঢেলে মিশিয়ে নিলেন।বললাম
– কি হলো?
– ১০% ফরমালিন হলো। হয় নাই?

আমি হিসাব করে দেখলাল ১০ লিটার ফরমালিনের সাথে যদি ৯০ লিটার পানি মেশাতাম থলে ১০% ফরমালিন হতো। অথবা ১ লিটার ফরমালিনের সাথে যদি ৯ লিটার পানি মেশাতাম তহলেও ১০% ফর্মালিন হতো। অথবা ১ গ্লাস ফরমালিনের সাথে যদি ৯ গ্লাস পানি মেশাই তাতেও তো ১০% হয়। তাহলে ১ বদনা ফরমালিনের সাথে ৯ বদনা পানি মেশাই ১০% ফরমস্লিনই তো হবে। হুজুরকে বললা, “হয়েছে।” হুজুর হাতের আংগুল দিয়ে দাড়ি খেলাল করতে করতে চলে গেলেন। আমি গ্রস দিয়ে হোস্টেলে গেলাম।

এর পর ১৯৯৬ সন থেকে এ পর্যন্ত যখনই ১০% ফরমালিন বানাতে শেখাই তখনই বলি ১০% ফর্মালিন বানাতে সিলিন্ডার লাগে না, তোমাদের হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়েই মেপে নাও, হোক সেটা পানি খাওয়ার গ্লাস অথবা অজুর পানির বদনা।

২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
#formaline #story #memory #sadequel
কাল্পনিক ছবিটি জেমিনি এ আই টুল তিয়ে তৈরি করেছি।

mal-nai

মাল নাই

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আজকেরটাও আইপিজিএম আর-এ এম ফিল প্যাথলজি পড়াকালীন স্মৃতি কথা লিখলাম । ১৯৯৩-১৯৯৫ আমি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত পোস্ট গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউট, বর্তমানে যেটা বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি -তে পড়েছি। আমরা হিস্টোপ্যাথলজি স্লাইড পরীক্ষা করা শিখতাম। আমাদের প্রফেসরগণ স্লাইড দেখার আগে আমরা শিক্ষার্থীর স্লাইড পরীক্ষা করে নিজেদের খাতায় ডায়াগনোসিস লিখে রাখতাম। স্যার যখন মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে স্লাইড দেখতেন আমরা তখন স্যারের পেছনে খাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। কে কী ডায়াগনোসিস করেছেন স্যার জিজ্ঞেস করতেন। আমরা যার যার করা ডায়াগনোসিস বলতাম। ফাইনাল ডায়াগনোসিস স্যার বলে দিতেন।

যাহোক, একবার দেখা গেলো টেকনোলজিস্ট স্লাইড তৈরি করে দিচ্ছেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “স্লাইড দিচ্ছেন না কেন?”

– মাল নাই, তাই স্লাইড তৈরি করতে পারছি না।

– কবে দিবেন?

– মাল আসলেই দিব।

এভাবে পর পর তিন দিন বললেন যে মাল নেই তাই স্লাইড বানাতে পারছেন না।

আমি বললাম

– কী মাল নাই?

– মাল নাই তা আপনি বুঝতে পারছেন না?

– কী মাল নাই আমাকে বলুন আমি আনার ব্যবস্থা করি।

– মাল এনে দেন আমি কাজ করি।

– যে মাল নেই সেটা আমাকে দেখান।

তিনি এলকোহল লেভেল করা খালি বোতল দেখিয়ে বললেন

– এই যে দেখেন, মাল নাই।

– এটা তো এলকোহলের বোতল। এলকোহল নেই, তাই বলুন। বার বার জিজ্ঞেস করছি কী নাই, আপনি বলছেন, মাল নাই।

– এলকোহল মানেই তো মাল, আর মাল মানেই মদ। আপমাদের এলাকায় মদকে মাল বলে না?

– হ্যা, তাইতো। এলকোহলই হলো মদ। মদকে মালও বলে তিরস্কার করে। বলে, বেটায় মাল খায়।

২২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

#alcohol#mal#mod#memory#sadequel

ছবি তৈরি করেছি জেমিনি এ আই টুল দিয়ে।

bus-nosto-hole

বাসের ইঞ্জিন নষ্ট হলে

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বাসে উঠে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা যাচ্ছিলাম। সিট নিয়েছিলাম সি লাইনের বাম পাশে করিডোরে। অর্থাৎ সি-২। আমি সবসময় সম্ভব হলে এই সিটের টিকিট করি। না পেলে পরের লাইনে। বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে সাধারণত ড্রাইভারের সামনের অংশে লেগে দোতরিইয়ে ড্রাইভার সহ পেছনের দুই তিন সিটের যাত্রী মারা যায়। বাম দিক সাধরনত কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জানালার সাথের সিট নেই না দুই কারনে। একটি কারন হলো বাস ওভারটেক করার সময় লেগে গেলে জানালার সাথের যাত্রী আঘাত প্রাপ্ত হতে পারে। আরেকটি কারণ হলো সামনের যাত্রী বমি করা শুরু করলে জানালা দিয়ে ছিটা ছিটা আসে। তাই করি ডোরের সাথের সিটে বসি।

যে কাজে যাচ্ছিলাম সে কাজের জন্য দুপুর ১২টার আগে অফিসে উপস্থিত হতে হবে। বাস সাভাবিক গতিতেই চলছিলো । তখন বাসে সামনের দিকের টিভি মনিটরে মিউজিক ভিডিও চলতো। যাত্রিরা ভিডিও দেখতে দেখতে ঢাকায় চলে যেতো। ড্রাইভার কুরুচির চরিত্রের হলে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও চালাতো। যেসব যাত্রী ধার্মিক ছিলো তারা মাথা নিচু করে তাজবি জপতে জপতে জার্নি করতো। উঠতি বয়সের পোলাপানরা বেশ মজা করে উপভোগ করতো সেই ভিডিও। বাচ্চা পোলাপানরা ভিডিওর সিনগুলোকে মজার খেলা মনে করে দেখতো। মহিলারা লজ্জা পেয়ে মাথা অবনত করে থাকতেন। এমন অস্বস্তিকর ছিল সেই সময়ের জার্নি। আমি মাঝে মাঝে চোখ উচু করে দেখছিলাম কী দেখাচ্ছে। এক মহিলা যাত্রীকে বলতে শুনেছিলাম “দূর, খাইচ্চুইরা ব্যাডায় কি দেহাইতাছে?” আমার কাছেও মনে হলো ড্রাইভার বেটা একটা খাচ্চর। কন্ট্রাক্টরকে হাত ইশারায় ডেকে কাছে এনে শান্ত গলায় বললাম “এই যে টেলিভিশন মনিটরের পর্দায় তোমার ড্রাইভার যে ভিডিওগুলো দেখাচ্ছেন এগুলো কোন সেন্সর করা সিনেমা নাটকের দৃশ্য না। ফাজিল লোকেরা এগুলো বানিয়েছে। এই ড্রাইভারের মতো কুরুচিপূর্ণ মানুষ এগুলো দেখে। এই বাসের ৯০% যাত্রী এগুলো পছন্দ করেন না। হুজুর ও মহিলারা মাথা নিচু করে বসে আসে। বাচ্চারা খেলা মনে করে দেখছে। তোমার ড্রাইভারকে বলো এগুলো পালটিয়ে ভালো কিছু দেখাতে।” হঠাৎ হার্ড ব্রেক করে বাস থেমে গিয়ে বাম দিকে কাত হলো। অল্পতের জন্য খাদের গিয়ে পড়লো না। পাশের যাত্রী বলে উঠলো “লায়লাহা, লায়লাহা।” আমি শুধরিয়ে দিলাম “লায়লাহা না, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” তিনি তখন বললেন “লা ইলাহা, লা ইলাহা।” আমি বললাম “আপনি শুধু লা ইলাহা বলছেন, যার অর্থ হচ্ছে ইলা (আল্লাহ) নাই। তার মানে, আপনি বলছেন আল্লাহ নাই। ইল্লাল্লাহ মানে আল্লাহ ছাড়া। আপনাকে পূর্ণ করে বলতে হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া ইলা (মাবুদ) নাই।” কন্ট্রাক্টর আমার কথাগুলো ড্রাইভারের কাছে গিয়ে বললেন। ড্রাইভার ভিডিও বন্ধ করে ক্যাসেট ট্যাপ বাজানো শুরু করলেন। ফকিরি গান বাজানো শুরু হলো। “এ দেহ পিঞ্জরে বসাইয়া খোদারে, তার তরে করো প্রার্থনা…..।” গানের অর্থ বোধগম্য না হলেও সুরটা আমার ভালো লাগছিলো। এক ইয়াং যাত্রী চিতকার দিয়ে বলে উঠলো “এই ব্যাটা ড্রাইভার, ইগুলা কি হুনাইতাছো? বন্ধ করো।” ড্রাইভার গানের ক্যাসেট বন্ধ করে দিলেন। কিছুক্ষণ পর আবার ছেড়ে দিলেন অন্ধ হুজুরের ওয়াজ। হুজুর কিছুক্ষণ পর পর বাম কান চেপে ধরে চিতকার করে বলে উঠেন “এ্যাই” সেই চিতকারে কোন কোন যাত্রীও কান চেপে ধরে। গাজীপুর গজারি বনে এসে গাড়িটা থেমে গেলো। যাত্রীরা সমস্বরে বলে উঠলো, “কি হলো, ড্রাইভার, থামলা কেন? আমাদের অফিস ধরতে হবে। তাড়াতাড়ি যাও।” ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দেন। ইঞ্জিন “থ্যা ক, থেক, থেক থেক” বলে থেমে যায়। কিছুক্ষণ থ্যাক থ্যাক করে পুরা পুরি চুপ করে রইলো। গাড়ির লোকেরা মেশিন টুলস নিয়ে ইঞ্জিন মেরামত শুরু করলো। যাত্রীরা চিল্লাতে লাগলো –

“এই শালারা ছাড়ার সময় চেক করস নাই?”

“অফিস টাইম শেষ হইয়া যাইবো, অহন কিবা অইবো?”

এক মহিলা তার স্বামীকে ভর্তসনা করে “আমি প্রথমেই তোমাকে বলছিলাম এই গাড়ির টিকিট না করতে।” তার স্বামী উত্তর দেন “কেউ কি জানতো গাজীপুর এসে গাড়ি নষ্ট হবে?

এক যাত্রী ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বললেন ” গাড়ি ছাড়ার আগে ইঞ্জিন চেক করেন নাই?” ড্রাইভার বলেন “ইঞ্জিন তো চেক করেছি। ইঞ্জিন ভালোই ছিলো। ইঞ্জিন নষ্ট হলো এখন। কখন ইঞ্জিন নষ্ট হয় বলা যায় না। আপনারা শান্ত হয়ে বসুন। আমরা ঠান্ডা মাথায় কাজ করি।“ যাত্রিরা অস্থির, চেচামেচি করতেই থাকলো। আমি নির্লিপ্ত বসে ছিলাম। কোন টেনশন করলাম না। আমারও কাজের টাইম শেষ হয়ে যাবে। করার কিছু নেই। আমি টেনশন করলেও যা হবে, না করলেও তাই হবে। বরং টেনশন করলে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাবে। হার্ট ডিজিজ হবে। সর্বদা ঠান্ডা মেজাজে থাকাই ভালো। বরঞ্চ, এই সময়টা এঞ্জয় করা যাক। জানালা দিয়া দেখলাম সুন্দর গজারির বন। বনের পাশেই বাইদের জমিতে ক্ষেত ভর্তি আধাপাকা ধান। আস্তে করে সামনে গিয়ে ড্রাইভারকে বললাম “তাড়াহুড়ো করবেন না। ঠান্ডা মাথায় কাজ করুন। আমি নিচে নামলাম। সি-২ সিটে বসেছি। আমাকে রেখে চলে যাইয়েন না। ইঞ্জিন ঠিক হলে ডাক দিয়েন।”

গজারির বনে কিছুক্ষণ হাটলাম। টেওড়াকাটা গাছে ফুল ফুটেছিল। ভ্রমর বসেছিল তাতে। প্রজাপতিরা নেচে নেচে ফুলে ফুলে উড়াউড়ি করছিলো। নানা জাতের পাখির গানে মুখরিত ছিল সেই বন। বাইদের ধান ক্ষেতের বাতরে এসে দাড়ালাম। ক্ষেতের মাঝখানে একটি কঞ্চি গাড়া ছিলো। সেই কঞ্চিতে বসেছিলো এক ফেইচ্চা (ফিঙ্গে) পাখি। উড়ে গিয়ে ধান ক্ষেত থেকে ফড়িং ধরে এনে কঞ্চিতে বসে খাচ্ছিল। ক্ষেতের বাতরের এক পাশে জোড় কাটা ছিল। সেখানে একটা পানির ঝরা ছিলো। ওখানেও এক কঞ্চি গাড়া ছিলো। সেই কঞ্চিতে বসা ছিলো একটি সুন্দর মাছরাঙা পাখি। নষ্ট গাড়ি থেকে হর্নের আওয়াজ এলো। দ্রুত এসে সিটে বসলাম। যাত্রীরা চিতকার চেচামেচি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সবার অফিস টাইম ওভার হয়ে গেছে। সবাই তা নিয়ে আফসোস করছে। আমি ব্যাগ থেকে বই বের করে পড়তে পড়তে মহাখালী বাস টার্মিনালে পৌছলাম। অফিসে গিয়ে আমার কাজ হলো না। ফিরে এলাম বাস টার্মিনালে। ফেরিওয়ালা টসটসে পেয়ারা কুঁচি কুঁচি করে কেটে কাসুন্দি ও বিট লবণ মিশিয়ে কৌটার ভেতর ভরে হাতের তালুতে থাপথুপ করে বিক্রি করছিলো। খুব খেতে ইচ্ছে হলো। মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হয়ে খোলা খাবার খাওয়া ঠিক না। ছাত্রদেরকে তাই শেখাই। কাজেই না খাওয়াই ভালো। কিন্তু মনে মানছিলো না। কাছে গেলাম। এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলাম পরিচিত কেই নেই। অর্ডার দিলাম ১০ টাকার। আমার নির্দেশ মতো বোতলের পানি দিয়ে পেয়ারা ধুইয়ে পরিস্কার ছুড়ি দিয়ে কেটে বানিয়ে দিলো। বেঞ্চে বসে টুথ পিক দিয়ে গেথে গেথে মজা করে খেলাম। ফিরতি টিকিট করে ফিরে এলাম ময়মনসিংহ। ফেরার সময় ইঞ্জিন নষ্ট হয়নি। হলে নেমে এঞ্জয় করতাম।

১৪/১০/২০২০ খ্রি.

ময়মনসিংহ – ঢাকা জার্নি

#memory #busjourney #smritikotha #sadequel

কাল্পনিক ছবি তৈরি করেছি chatGPT দিয়ে

ghaura

স্যার, আপনে এইরকম ঘাউড়া ক্যান?

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৮৮ সনের জুলাই মাসের ৩ তারিখে সরকারি মেডিকেল অফিসার হিসাবে প্রথম যোগদান করি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। একা একটা পরিত্যক্ত সরকারি টিনের ঘরে হারিকেন জ্বালিয়ে থাকতাম। কেরোসিনের চুলায় সকালে নিজ হাতে রান্না করে তিন বেলা খেতাম। আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, ডিম ভর্তা, ডিম ভাজি এবং ডাল দিয়ে সাধারণত ভাত খেতাম। মাঝে মাঝে খাসির বা গরুর গোস্তো নিজ হাতে রান্না করে খেতাম। একাকি তাকতাম, তাই নিরবতা কাটানোর জন্য এক ব্যান্ডের ছোট্ট একটা পকেট রেডিও বাজাতাম, বাংলাদেশ বেতার ঢাকা ও আকাশবাণী কলকাতা শুনতাম।

১৯৮৯ সনের মার্চ মাসে ঐ এলাকায় কলেরায় মহামারি আকারে অনেক লোক আক্রান্ত হয়। আমি সকালে হাসপাতালে বসে রোগী দেখছিলাম। হাসপাতালটা ছিল অতি পুরাতন টিনের ঘর। ব্রিটিশ আমলের লোহা কাঠের ভাংগা ভাংগা চেয়ার টেবিল ছিলো। আমার সামনে অন্তত ১০০ জনের মতো রোগী লাইনে দাড়ানো ছিলো। মনোযোগ দিয়ে দ্রুত রোগীর প্রেস্ক্রিপশন লিখে বিদায় দিচ্ছিলাম। একজন ছাত্র লাইনে না দাড়িয়ে খোলা জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে উকি দিয়ে বারবার বলছিলো, ” স্যার আমাকে দুই তিনটা রগে দেয়ার সেলাইন দিন, রোগীর সাংঘাতিক ডাইরিয়া হইছে।” আমি বার বার বলছিলাম লাইনে দাড়াতে। কিন্তু সে লাইনে না এসে জানালা দিয়ে বারবার একই অনুরোধ করছিলো। আমি বিরক্ত হয়ে জানালা দিয়ে তাকে কয়েকটা খাবার সেলাইন সাধলাম। কিন্তু ছেলেটি নাছোড়বান্দা, রগে দেয়ার সেলাইনের ব্যাগই নিবে।আমি বললাম যে রোগী না দেখে রগে দেয়ার সেলাইন দেয়া যাবে না। এভাবে সে প্রায় ঘন্টাখানিক বারবার একই দাবি জানিয়ে আসছিল। আমি সে দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে অন্য রোগীদের সমস্যা শুনে শুনে ঔষধ দিয়ে আসছিলাম।

এক পর্যায়ে ছেলেটা হঠাৎ বলে উঠলো, “স্যার, আপনে এমন ঘাউড়া ক্যান?” মুরুব্বিরা লাইনে থেকে বলে উঠলেন, “এই বে-আদব ছেলে, কাকে কি বলছো? একজন ফার্স্ট ক্লাস গ্যাজেটেট অফিসারের স্যাথে এভাবে আচরন করে?”

আমি হেসে ফেললাম। জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার নাম কী? কোন ক্লাসে পড়ো?”

ছেলেটি বললো যে সে ক্লাস নাইনে পড়ে। আমি বললাম আমি এই রোগীগুলো দেখা শেষ করে তোমার সাথে তোমাদের বাড়ি গিয়ে রোগী দেখে নিজ হাতে সেলাইন পুশ করে আসবো। রোগী না দেখে সেলাইন দিয়ে দেয়ার নিয়ম নাই।” আরও কিছুক্ষণ বাক বিতনণ্ডা করে চুপ রইল। হাস্পাতালের রোগী দেখা শেষ করে তিনটি সেলাইনের ব্যগ সাথে নিয়ে ছালেটির বাড়িতে চলে গেলাম দুই কিলোমিটার হেটে। ঐ বাড়ির বড়রা ছেলের কান্ড দেখে অবাক। বলেন, “আমরা লজ্জিত, আমাদের ছেলেটা আপনার সাথে বেয়াদবি করেছে। আমরা লজ্জিত। আমরা তাকে এভাবে সেলাইন আনতে বলি নাই।” আমি বললাম, “সমস্যা নাই। রোগী দেখান।”

মুরুব্বিরা বললেন, “আপনি বাসায় ফিরেন নাই। দুপুরে খান নাই। একা একা থাকেন। কি খান, না খান আমরা খোজ রাখিনা। আজ আমাদের বাড়িতে খাবেন। পোলাও – মাংস রান্না করা আছে। আপনি আগে খেয়ে লন। তারপর রোগী দেখবেন। আমরা জানি, আপনারা রোগী দেখার পর খান না। কাজেই রোগী দেখার আগেই খেতে হবে।”

আমি অজু করে খেয়ে নিলাম। অনেকদিন পর ভালো খাবার খেলাম। ভালো লাগলো। তারপর রোগী দেখে সেলাইন পুশ করে ফিরে এলাম চরামদ্দি। সাথে ব্যাগ হাতে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেলো সেই ছেলেটা। যে আমাকে ঘাউড়া বলেছিলো। আমি একটুও মাইন্ড করিনি। এরপর যদিন চরামদ্দি ছিলাম, ছেলেটা আমার কাছে আসতো ভালোবেসে। আমার ভালো লাগতো। চরামদ্দির ঘাউড়া ডাকা ছেলেটিকে।

৫ জানুয়ারি ২০২৬ খৃ.

#story #Memory

(ছবিটা এ আই দিয়ে তৈরি করিয়েছি)

rajnitir-mor

রাজনীতির মোর

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

অনেক বছর আগের কথা। সনটা ভুলে গেছি। গ্রামের বাড়ি সখিপুর এলাকা থেকে একজন রোগী এলেন আমার ময়মনসিংহ তালুকদার প্যাথলজি ল্যাব এর চেম্বারে। আমি নাম জানার পর জিজ্ঞেস করলাম

– আপনার বাড়ি যেন কোথায়?

– বাড়ি তো আপনাদের বাড়ির কাছেই।

– আপনার বাড়ি কি আমাদের বড়বাইদপাড়ায়?

– না, আমাদের বাড়ি হচ্ছে রাজনীতির মোর।

– এটা আবার কোথায়?

– আপনাদের বাড়ির কাছেই। মনে হচ্ছে, নামই শুনেন নাই?

– আমি এই গ্রামের নাম শুনি নাই। গ্রামটা কোথায় পড়েছে?

রোগী লোকেশনটা সুন্দর করে আমাকে বলে দিলেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম

– জায়গাটার নাম রাজনীতির মোর হলো কেমনে?

– কয়েক বছর আগে ঐ রাস্তার মোরটাতে বড় রকম একটা মারামারি হয়েছিলো। তারপর থেকেই ঐ জায়গাটার নাম হয়েছে রাজনীতির মোর।

– তা হলে তো হবে মারামারির মোর, রাজনীতির মোর হলো কেমনে?

লোকটা হেসে দিয়ে বললেন, “রাজনীতি মানেই তো মারামারি।”

২০ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি.

#villagelife#story#memory

(ছবি: গল্পটা পড়ে এ আই chatGPT এই কাল্পনিক ছবিটি এঁকে দিয়েছে)

facebook-profile-picture

ফেইসবুকের প্রোফাইল পিকচার পলিসি বা নিয়ম-কানুন হলো এমন কিছু নির্দেশনা যা নিশ্চিত করে যেন প্রোফাইল ছবি নিরাপদ, সম্মানজনক এবং সঠিকভাবে পরিচয় প্রকাশ করে। নিচে মূল নিয়মগুলো দেওয়া হলো

Description: ✅যা দেয়া যাবে (অনুমোদিত):

• নিজের স্পষ্ট মুখের ছবি – নিজের মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যায় এমন ছবি সবচেয়ে ভালো।

• সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি – যেমন ঘর, অফিস, বা প্রাকৃতিক পরিবেশ।

• নিজের পেশাগত বা আনুষ্ঠানিক ছবি – যেমন ডাক্তার, শিক্ষক, অফিসার ইত্যাদি পেশায় ব্যবহৃত প্রফেশনাল ছবি।

• শিক্ষামূলক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে নিজের ছবি – যেমন আপনি কোনো প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছেন, সেটার ছবি।

Description: 🚫যা দেয়া যাবে না (নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত):

• অন্যের ছবি বা সেলিব্রিটির ছবি – নিজের পরিবর্তে অন্য কারও মুখ ব্যবহার করা যাবে না।

• পশু, কার্টুন বা অবজেক্টের ছবি – যেমন বিড়াল, কুকুর, ফুল, গাড়ি, লোগো ইত্যাদি।

• মাস্ক পরে বা মুখ ঢেকে রাখা ছবি – মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা না গেলে তা প্রোফাইল পিকচার হিসেবে অনুপযুক্ত।

• ধর্ম, রাজনীতি, বা অশালীন বার্তা সম্বলিত ছবি – কোনো বিভেদ, ঘৃণা বা অশালীন বিষয়যুক্ত ছবি দেওয়া যাবে না।

• ফটোশপ বা বিকৃত মুখের ছবি – অতিরিক্ত ফিল্টার বা বিকৃত রূপে নিজের ছবি দেওয়া নিষেধ।

Description: 💡পরামর্শ:

• প্রোফাইল পিকচার আপনার পরিচয়ের প্রতীক, তাই এমন ছবি দিন যা আপনাকে প্রতিনিধিত্ব করে।

• ছবি যেন উজ্জ্বল, পরিষ্কার, এবং মুখের অভিব্যক্তি বন্ধুত্বপূর্ণ হয়।

• ব্যবসায়িক পেইজ হলে, লোগো বা ব্র্যান্ড ইমেজ দেওয়া যায় (ব্যক্তিগত পেইজ নয়)।

(AI aided content, prompted by Dr. Sadequel Islam Talukder)

kofil-haidarer-biye

কফিল হায়দারের বিয়ে

(মিনি গল্প)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিয়ে পাস করার পর অনেক চেষ্টা করেও কোন চাকরি যোগার করতে পারেনি কফিল হায়দার। তারা ৪ ভাই ৪ বোন। সবাই তখন পড়ার মধ্যেই ছিল। সংসারে তখন অভাব লেগেই থাকতো। বেশ কিছু টাকা ঋণ করে দালালের মাধ্যমে মিডল ইষ্টে কর্মি হিসাবে চাকরি করতে যায়। সেখানে যা বেতন পায় তা ঋণের টাকার কিস্তি দিতেই শেষ হয়ে যায়। কাজেই প্রথম ৪ বছর সংসার খরচের জন্য তেমন কিছুই দিতে পারেনি। যখন দেয়া শুরু করে তখন ভাই বোন আত্মীয় স্বজনরা কে কত নিতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। কফিলের মনে হয় সবাই যেন তার টাকাকেই ভালোবাসে, তাকে নয়। পাচঁ বছরের মাথায় দুই মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসে। সাথে সবার জন্য গিফট নিয়েও আসে। সেই গিফট পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রেসারেসি শুরু হয়। তাদের এই আচরণ ভালো লাগে না। তার ইচ্ছা ছিলো এবারের ছুটিতে এসে একটা বিয়ে করে যাবে। কিন্তু সে কথা উঠাবার সুযোগ হলো না। মনের কষ্ট নিয়ে ফিরে গেলো আবার বিদেশে।

এবার বিদেশ যাওয়ার পর বাড়ির মানুষগুলোকে আগের মতো আর ভালো লাগে না। শুধু নিজের জীবন নিয়ে ভাবে। শুধু মা-বাবার জন্য অল্প কিছু টাকা পাঠায়। ঠান্ডু ঘটক কফিল হায়দারের ঠিকানা সংগ্রহ করে চিঠি লিখে জানায় যে তার হাতে একটা সুন্দরী পাত্রী আছে। খুবই বুদ্ধিমতি। দ্বিতীয় বার বিদেশে আসার পর আবার প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে। বেশ কিছু টাকা ব্যাংকে জমিয়েছে। বেশ কিছু স্বর্নালংকারও কিনেছে হবু বৌয়ের জন্য। এগুলোর খবর পরিবারের কাউকে জানায়নি। এবার টাকা পয়সা সোনাদানা ব্রিফকেসে ভরে দেশে আসে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে। শুধু জানে ঘটক। উঠে একটা রিসোর্টে। ঠান্ডু ঘটক তাকে পাত্রী দেখানোর ব্যবস্থা করে। পাত্রী খুবই সৌষ্ঠবের। ঘটা করে বিয়ের তারিখ ঠিক হয়। বিয়ের পর ব্রিফকেসটা গহনা ও টাকাসহ ঘটকের মাধ্যমে মেয়ের বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাসর ঘর সাজানো হয়েছে। বর কফিল হায়দার সেরোয়ানি পরেছে। কনে কইতরি বেগম বেনারশী শাড়ি পরেছে। বাড়িতে বিয়ে বাড়ির মতো তেমন লোকজন চোখে পড়লো না। রাত তখন গভীর। কনে সাজানো বিছানার মাঝখানে ঘোমটা দিয়ে আনত নয়নে বসেছিলো। কফিল ডান হাত দিয়ে কইতরির ঘুমটা সামান্য একটু ফাক করলো। কনে সাপের মতো ফণা তোলে লাফ দিয়ে টেবিলের উপর গিয়ে দাড়ালো। লম্বা একটা চাকু বের করে ঘোরাতে ঘোরাতে রৌদ্রমূর্তি হয়ে বললো, “সাবধান, আমার গায়ে হাত দিবি না। তোর আগেও এভাবে আমি কম পক্ষে ১০ টা বিয়া করছি। বুঝতে পারছস? জান নিয়ে বাচতে চাইলে এখই এলাকা ছাড়বি। গেলি!”

কফিল হায়দার হাত জোড় করে করুণ দৃষ্টিতে কইতরি বেগমের দিকে ফেল ফেল করে চেয়ে রইল।

২২ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি.

#গল্প #মিনিগল্প #সাহিত্য

বি:দ্র:

এটা একটা কাল্পনিক গল্প।

এই আইকে প্রোমট করে কাল্পনিক ছবি বানিয়েছি।

ssc

আমার এস এস সি রেজাল্ট

আমি ভালুকা উপজেলার বাটাজোর বি এম হাই স্কুল থেকে ১৯৭৭ সনে এস এস সি পাস করেছি । এই পরীক্ষার রেজাল্ট সংগ্রহ নিয়ে যে কাহিনী হয়েছিল তা আজ আমি লিখব। এস এস সি রেজাল্ট বের হবার ঘোষনা রেডিওতে দিয়েছে তিন দিন হয়। ডাকযোগে স্কুলে রেজাল্ট পৌছতে সময় লাগার কথা দুই দিন । কিন্তু তিন দিন হয়ে গেল কিছুই জানতে পারলাম না। চিন্তায় পরে গেলাম। চতুর্থ দিন বাড়ী থেকে বের হলাম। বলে গেলাম কচুয়া যাচ্ছি। কচুয়া বাজারে একটি খোলা খালি ঘরে বেঞ্চে আমি, ফজলু, দেলোয়ার  ও কিসমত বসে কিভাবে এস এস সি পরীক্ষার ফল পাওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলাপ করলাম। কেউ একজন বলল যে করটিয়া একটি ক্লাব ঘরে পাচ টাকা করে নিয়ে রেজাল্ট দিচ্ছে। আমরা চারজন রওনা দিলাম করটিয়ার উদ্দেশ্যে।

একটু এদেরকে পরিচয় করিয়ে দেই। ফজলু এখন নামকরা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, বুয়েট থেকে বি এস সি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা। ঢাকায় থাকে। দেলোয়ারও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে এখন যুব উন্নয়নের ডেপুটি ডাইরেক্টর। ডাকায় থাকে। কিসমত কি যেন পাস করার পর দেশের বাইরে চলে যায়। তার খোজ রাখতে পারিনি। আমরা সবাই স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কচুয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই। ফজলু দেলোয়ারের চাচাত ভাই। কিসমত বয়সে বড়, ওদের চাচা হয়। তাই আমিও চাচা ডাকি। আপনি বলি। সেভেনে উঠার সময় ফজলু ফার্স্ট, আমি সেকেন্ড, লুৎফর থার্ড, মোসলেম ফোর্থ, দেলোয়ার ফিফথ ও কিসমত সিক্সথ হয়, খুব সম্ভব। লুৎফর এখন পি এইচ ডি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সসিটির নাটক বিভাগের প্রফেসর। মোসলেম এস এস সি পাস করে দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল।

সেভেনে উঠে ভাল ভাল ছাত্ররা এলাকার সবচেয়ে ভাল স্কুল বাটাজোর বি এম হাই স্কুলে চলে যায়। এতে ছিল ফজলু, দেলোয়ার, কিসমত সহ আরও অনেকে। আমি এই কচুয়া স্কুলেই থেকে যাই। প্রতিযোগী ভাল না থাকার জন্য আমি আস্তে আস্তে নিম্ন মানের হতে থাকি। তাছাড়া একমাত্র বিজ্ঞানের শিক্ষক ভীম চন্দ্র স্যার নিরুদ্দেশ হয়ে যান। আমি নিরুপায় হয়ে ১৯৭৫ সনে এপ্রিল মাসে বাটাজোর চলে যাই। এত দিন বিজ্ঞান ক্লাশ করতে না পারায় আমি নবম শ্রেণীর প্রথম সাময়িক পরিক্ষায় ফিজিক্স এ খারাপ করি। আমার মাথায় জ্যাদ চেপে যায়। উন্নতি হতে হতে প্রিটেস্ট পরীক্ষায় ফার্স্ট বয় ফজলু থেকে মাত্র দুই নাম্বার কম পাই। টেস্ট পরীক্ষায় তার থেকে দুই নাম্বার বেশী পেয়ে আমি ফার্স্ট হই। তার মানে, আমিই বাটাজোর স্কুলের শেষে ফার্স্টবয় ছিলাম।

আমরা রেজাল্ট আনার উদ্দেশ্যে কচুয়া থেকে পশ্চিম দিকে পাহাড়ি পথে হাটা শুরু করলাম। খুব সম্ভব জুলাই মাস। ১৯৭৭ সন। শালগ্রামপুর গিয়ে ছইওয়ালা নৌকা ভাড়া করলাম। নৌকায় বসে কার রেজাল্ট কেমন হতে পারে তা নিয়ে কথা বললাম। আমি বললাম যে আমার ফার্স্ট ডিভিশন ছয়টি লেটার থাকতে পারে। ফজলুও তাই বলল। দেলোয়ার বলল যে তার দুই তিনটিতে লেটার থাকতে পারে। কিসমত চাচা বললেন যে তার রেজাল্ট আমার মতই হতে পারে। তিনি আমার পিছনেই সিট পেয়েছিলেন পরীক্ষার হলে।

আকাবাকা খাল, বিস্তির্ন বিল পারি দিয়ে বেলা ডোবার আগ দিয়ে করটিকা পৌছলাম। জমিদার বাড়ীর পশ্চিম পাশে একটি ক্লাব ঘর থেকে কাগজের টুকরায় রুল নাম্বার লিখে বেড়ার ছিদ্র দিয়ে ভিতরে দিলে ভিতর থেকে রেজাল্ট লিখে দেয়া হয়। সময় নেই। বেলা ডোবার পর বন্ধ করে দেয়া হবে।

ফজলু আগে স্লিপ ঢুকালো। রেজাল্ট দেখে কাপতে কাপতে পড়ে গেল। আমরা ধরাধরি করে ইদারা কুয়ার পারে নিয়ে বালতি দিয়ে পানি তুলে তার মাথায় দিতে লাগলাম। আমরা গ্রামে থেকে এভাবেই অজ্ঞান রুগী চিকিৎসা করতাম। আমি পানি তুলি, দেলোয়ার মাথায় পানি ঢালে। কিসমতও রেজাল্ট পেয়ে কাপতে কাপতে হয়ে পরে গেল। একি রেজাল্টএর মড়ক লাগল নাকি! এখন রইলাম আমি আর দেলোয়ার। দুইজনকে দুইজনে পানি ঢালি। ক্লাব ঘর থেকে আওয়াজ আসছে আরো কেউ আছে নাকি, বন্ধ করে দিলাম। দেলোয়ার বলে তুমি যাও আগে, আমি বলি তুমি যাও আগে। দেলোয়ার আগে গেল, কিন্তু অজ্ঞান হল না। আমি রেজাল্ট পেয়ে অজ্ঞান হলাম না। আমি পেয়েছি ফার্স্ট ডিভিশন চার লেটার, দেলোয়ার পেয়েছে ফার্স্ট ডিভিশন দুই লেটার। এবার ফজলুর স্লিপ দেখলাম। সে পেয়েছে ফার্স্ট ডিভিশন দুই লেটার। কিসমত চাচাকে বললাম “চাচা, এত ভেংগে পড়লে চলবে? সবাই কি লেটার পায়? কত মানুষ যে ফেল করে?”
চাচা বললেন “আমি ফেল করেছি গো। হু হু হু “।

আমি ফজলুকে, আর দেলোয়ার কিসমত চাচাকে ধরে নিয়ে মেইন রোডের দিকে হাটলাম। কচুয়ার সিনিয়র ফজলু ভাইর সাথে দেখা হল। তিনি ওখানে সাদত কলেজে অনার্স পড়তেন। কি হয়েছে জানতে চাইলে বিস্তারিত বললাম। আমরা চলে যেতে চাইলাম। তিনি জোড় করে তার হোস্টেলে নিয়ে গিয়ে খাওয়ালেন। ওখানেই থাকলাম। তিনি আমাকে বিশেষ যত্ন নিলেন। এখন তিনি হাই স্কুলের শিক্ষক। ফোনে আমার খোজ খবর নেন। আমিও নেই।

সকালে নাস্তা করে নৌকা ভাড়া করে শাল গ্রামপুর পৌছলাম। মুশলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল। থামার লক্ষণ ছিল না। চারজন বন্ধু ভিজে ভিজে বাড়ীর দিকে রওনা দিলাম। ১০/১২ কিলোমিটার পায়ের পিছলা পথ। দৌড় দিলাম। এক দৌড়ে বাড়ী পৌছলাম। বাড়ী পৌছলে বৃষ্টি আরও জোরে নামল। গতকাল বাড়ীতে জানিয়ে যাইনি। মা খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন।
-কই গেছিলি বাজান? কইয়া জাস নাই কেন?
– রেজাল্ট আনতে গেছিলাম।
– আনছ?
– আনছি। ফার্স্ট ডিভিশন চারটি লেটার পাইছি।
– কই? দেও।
– পরে দিব। শুক্না জামা পরে নেই।
মা আঁচল দিয়ে আমার শরীর মুছে দিলেন।

মহা খুশীতে রওনা দিলাম বাটাজোর গিয়ে সব স্যারের সাথে দেখা করতে। রাস্তায় যাকে দেখি তাকেই সালাম দেই। সালাম দিলেই জিগায় ” সাদেক, কি খবর?” আমি বলি “ফার্স্ট ডিভিশন চারটা লেটার।”

স্যারগণ আমাকে দেখে মহা খুশী। কোন এক স্যার বললেন “বেটা, আমাদের স্কুলে রেকর্ড ভেংগেছিস।” আমি টেস্টিমোনিয়াল হাতে পেয়ে বললাম “স্যার, মুল সার্টিফিকেট কবে পাব?”
– ওটা বোর্ড থেকে এক দেড় বছর পর স্কুলে পাঠাবে। এসে নিয়ে যাবে।
– যদি এর আগে দরকার পড়ে?
– তখন দরখাস্ত করে উঠান যাবে।
পাস করলাম আজ। সার্টিফিকেট দিবে দেড় বছর পর!
বাড়ী এসে একটা সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখলাম ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবরে যে বিশেষ কারনে আমার এস এস সি সার্টিফিকেট জরুরী প্রয়োজন। দুই আনা দিয়ে খাম কিনে ডাকে দরখাস্ত পাঠালাম।

সাতদিন পর ডাকে একটি চিঠি আসল। লিখা “আপনার মুল সার্টিফিকেট ডাক যোগে স্কুল বরাবরে পাঠানো হয়েছে। আপনি উহা সংগ্রহ করুন – পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক “

আমি চলে গেলাম স্কুলে। সব স্যার একটি চিঠি দেখছেন। লিখা আছে “সাদেকুল ইসলাম তালুকদারের মুল সার্টিফিকেট পাঠানো হল। উহা জরুরীভাবে সরবরাহ করুন – পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক “।

সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বিস্তারিত জানালাম।
– তুমি এমন করেছে কেন?
– আমার ইচ্ছা হল, স্যার।
দেখলাম সার্টিফিকেটটা একটা শক্ত খামে অতি যত্নসহকারে ভরা হয়েছে। ভাজ হয়নি। আমি ওটা নিয়ে বাড়ি এসে মাকে দেখালাম। বললাম “এই যে আমার সার্টিফিকেট ।”
এর দুই বছর পর মা ইন্তেকাল করেন। সাভাবিক নিয়মে সার্টিফিকেট আসলে কি মা দেখে যেতে পারতেন?

১৭/৬/২০১৭ ইং

#স্মৃতিকথা #স্মৃতিচারণ #Memory #SSC #sadequel