Author Archives: talukderbd

crossref-indexing-requirement

Indexed with Crossref Requirement

To get indexed with Crossref (i.e., to register DOIs and make your journal metadata discoverable), a Bangladeshi Medical Journal must meet several technical, editorial, and policy-related requirements. Below is a clear breakdown:


✅ 1. Journal Eligibility Requirements

Your medical journal must:

  • Be a legitimate scholarly publication
  • Publish peer-reviewed research
  • Have a regular publication schedule (quarterly, biannual, annual, etc.)
  • Have a stable journal website
  • Display editorial board and peer-review policy
  • Follow publication ethics (COPE recommended)

Crossref does NOT evaluate research quality like PubMed or Scopus — it focuses on metadata quality and publishing standards.


✅ 2. Mandatory Technical Requirements

Your journal must have:

🔹 ISSN (Required)

  • Print ISSN and/or Online ISSN from Bangladesh National ISSN Centre
  • ISSN must be active and verifiable

🔹 DOI Membership Application

You must apply for Crossref membership:

Required information:

  • Publisher name (Journal authority or institution)
  • Official email
  • Journal website URL
  • ISSN
  • Publication type (Journal)
  • Country: Bangladesh

There is no membership fee or DOI registration fee for Bangladeshi Journal

(Waivers sometimes available for developing countries)


✅ 3. Required Journal Website Elements

Your journal website must clearly show:

Editorial Information

✔ Editor-in-Chief name
✔ Editorial board
✔ Institutional affiliation

Policies Pages

✔ Peer-review policy
✔ Publication ethics
✔ Plagiarism policy
✔ Retraction policy
✔ Open access policy

Article Pages Must Include:

✔ Title
✔ Authors
✔ Abstract
✔ Keywords
✔ References
✔ Publication date


✅ 4. Metadata Requirements (Critical)

Each article metadata must contain:

  • Article title
  • Author names
  • ORCID (recommended)
  • Abstract
  • References (important)
  • DOI landing page URL
  • License information (Creative Commons recommended)

Crossref requires structured XML metadata deposit or plugin-based submission.


✅ 5. Reference Linking Requirement

Your journal must:

  • Deposit reference lists
  • Enable citation linking
  • Use correct reference formatting

This improves:

✔ Google Scholar indexing
✔ Citation tracking
✔ Impact measurement


✅ 6. Publishing Ethics Compliance

Medical journals especially must follow:

  • ICMJE authorship criteria
  • COPE ethical guidelines
  • Patient consent statements
  • Clinical trial registration (if applicable)

✅ 7. Recommended (But Not Mandatory)

To improve acceptance and credibility:

✔ OJS platform (Open Journal Systems)
✔ Crossmark metadata
✔ Funding metadata
✔ ORCID integration
✔ CC-BY license


⚠ Important Note for Bangladeshi Journals

Many Bangladeshi journals get rejected due to:

❌ No ISSN display
❌ Fake editorial boards
❌ No peer-review page
❌ Broken article links
❌ Low-quality website
❌ Incomplete metadata


✅ After Crossref Approval

You will be able to:

  • Assign DOI to every article
  • Appear in global DOI databases
  • Enable citation tracking
  • Improve Google Scholar visibility
  • Integrate with PubMed Central (if eligible)

If you want, tell me:

  • Your journal name
  • Website link
  • Current ISSN status

👉 I can check whether your Bangladeshi Medical Journal is Crossref-ready and what exactly needs fixing.

Dr. Sadequel Islam Talukder
Experience Editor of Medical Journal
sadequel@yahoo.com

Ekaler Kabulioala

Ekaler Kabulioala

একালের কাবুলিওয়ালা

(স্মৃতি কথা)

খুব ছোট বেলাতেই আমি কাবুলি দেখেছি। প্রতিবছর কা্বুলিরা আমাদের গ্রামে আসত। আফগানিস্তানের কাবুল থেকে এরা নানা রকম ব্যবসা করতে আমাদের দেশে আসত। এদের গায়ে ঢিলেঢালা কুরতা ও সালোয়ার থাকত। কুরতাকে আমরা কাবলি শার্ট বলতাম। তাদের পাথায় পাগড়ী থাকত। মোটা মোটা গোফ ছিল। গালভর্তি দাড়ি ছিল। শরীরের সাইজ আমাদের বাপ দাদাদের দেকেও দেড় গুণ বড় ছিল। বাম কাঁধে থাকত একটা বিরাট ঝোলা। এই ঝোলার ভিতর কিসমিস, জাফরান, শক্তি বর্ধক বটিকা,  টাকা পয়সা ইত্যাদি থাকত। ডান হাতে থাকত একটা মোটা লাঠি। তারা খুব সাহসী ছিল। উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি ও বাংলা একাত্র করে তারা মোটা ও ঘাঢ় গলায় কথা বলত। কাবুলিকে আমরা কাব্লি উচ্চারণ করতাম । কাবলি আসলে দাদা বাইরবাড়ি গাছতলায় টুলে অথবা পাটিতে বসতে দিতেন। দাদা তাদের সাথে নানারকম গল্প করতেন। আমি কিছু কিছু বুঝতাম। আমি দাদার পিঠ ঘেষে দাঁড়িয়ে কাবলির দিকে চেয়ে চেয়ে তার কথা বলার ভঙ্গি দেখতাম। দাদা শক্তি বর্ধক বটিকা কিনতেন। মুধুর মত ঘ্রাণ ছিল বটিকার। আমার খেতে ইচ্ছা করত। যুবক শ্রেণীর ছেলেরা কাবলিকে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে গোপনে কি যেন বলতেন। পরে কাবলির কাছ থেকে সেই অনুযায়ী গুড়া ঔষধের পুড়িয়া নিতেন।  কোন কোন কাবলি দাদাদের সাথে চুক্তি করতেন জাহাজে করে বোম্বে হয়ে পবিত্র হজ্জ পালন করিয়ে দিবেন। বোম্বে থেকে করাচি নিয়ে হজ্জের কার্ড সংগ্রহ করিয়ে দিতেন। বিনিময়ে তারা একটা ফি নিতেন। কোন কোন হজ্জ গমনেচ্ছুক কার্ড না পেয়ে বোম্বে থেকেই ফেরৎ আসতেন। তাদেরকে কেউ কেউ ‘বোম্বাইয়া হাজী’ বলতেন। কেউ কেউ হজ্জে যেতে ইচ্ছা করতেন । শুনিয়ে বেড়াতেন হজ্জে যাবেন। কিন্তু কোন উদ্যোগ নিতেন না। অনেকে তাদেরকে তিরস্কার করে বলতেন ‘যামু হাজী’।

কাবলিদের নিয়ে আরও জানতে পারলাম ক্লাস সেভেনে উঠে। বাংলা পাঠ্য বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গল্প ‘কাবুলিওয়ালা’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইনসান স্যার বাংলা পড়াতেন। এই গল্পে রবীন্দ্রনাথ কাবলিদেরকে কাবুলিওয়ালা বলেছেন। গল্পের কাবুলিওয়ালাদের বর্ণনা পড়ে আমার ছোটবেলার কাবলিদের কথা মনে পড়ত। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আমি কাবলিদের দেখিনি। খুব সম্ভব বাংলাদেশ সরকার আফগানিস্তানের কাবলিদের প্রবেশ কড়াকড়ি করেছে। যেটা পুর্বপাকিস্তান সরকারের ছিল না। কাবুলিওয়ালা গল্পের ৫ বছর বয়সের মিনি নানান রকমের কথা নিয়ে তার বাবার কাছেই ঘুরঘুর করত। তার পায়ের কাছেই হাটু গেড়ে বসে হাত তালি দিয়ে ‘আগডুম বাগডুম’ ছড়া বলত। মিনির বাবা তাতে বিরক্ত হয়ে ভোলানাথের সাথে খেলতে যেতে বলতেন। এই অংশটুকু পড়ানোর সময় ইনসান স্যার তাঁর বাচ্চাদের সাথে তুলনা করে গল্পের ব্যখ্যা দিতেন। বলতেন “আমার বাচ্চাও আমার কাছে দাঁড়িয়ে আমার পিঠের সাথে ঘষাঘষি করে। সরিয়ে দিলেও আবার এসে পিঠ দিয়ে পিঠ ঘষতে থাকে।” গল্পের মিনি ও ইনসান স্যারের বাচ্চার কথা শুনে আমার ছোট বেলার সাথে মিল খুঁজে পেয়ে উৎফুল্ল হতাম। মনে পড়ত বাবা যখন খালি গায়ে পিড়িতে অথবা টুলে বসে কোন কাজ করতেন তখন তিন চার বছর বয়সের আমার ছোট বোন সোমেলাও খালি গায়ে বাবার পিঠ ও হাত ঘেষে দাঁড়িয়ে ঘষাঘষি করত। আমার হিংসা হত। আমি তাকে সরিয়ে দিয়ে নিজে ঘষাঘষি করতাম। বাবার কাজে বাধা পরত। বাবা বিরক্ত হয়ে হাত দিয়ে আমাদেরকে ঠেলে দিতেন। আমরা আবার আসতাম পিঠে ঘষাঘষি করতে। ক্লাস সেভেনে কাবুলিওয়ালা গল্প পড়ে কাবলিদের সম্পর্কে আমার ধারনা আরেকটু বাড়ল।

আমার চোট মেয়ে ডাঃ দীনার বয়স যখন দুই-তিন বছর ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বড় মেয়ে মুনার বয়স যখন পাচ-ছয় বছর তখন তারাও আমার গা ঘেষতে কাড়াকাড়ি করত। আমি চেয়ারে বসে ক্লাশ নোট লিখতাম, গবেষণা নিবন্ধ লিখতাম তাতে আমার অসুবিধে হত। সড়িয়ে দিলেও বার বার আসত। মনে মনে ভাল লাগত। কাবুলিওয়ালার মিনির কথা মনে পড়ত। ঐ সময় দেশে টেলিভিশনে ডিস চ্যানেল ছিল না। শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশন ও কলকাতা দুরদর্শণ চ্যানেল দেখা যেত ইনডোর এন্টিনা দিয়ে। রাতে দুরদর্শনে একটা সাদাকালো সিনেমা দেখলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে সিনেমা ‘কাবুলিওয়ালা ‘। সেদিন বাসায় একা ছিলাম। একটানা দেখে শেষ করলাম। ছবি বিশ্বাস কাবুলিওয়ালা ‘রহমতের’ চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। তার অভিনয় দেখে মনে হল তিনিই সত্যিকারের ‘রহমত’। রহমত ছোরা দিয়ে এক বদমাসকে ঘা দিয়ে আট বছর জেল খেটেছিল বিদেশের বাড়িতে। পাচ বছর বয়সের তার মেয়েকে রেখে এসেছিল মায়ের কাছে কাবুলে। আসার সময় মেয়ের হাতে ছাই মেখে কাগজে একটা হাতের ছাপ নিয়ে এসেছিল। আট বছর জেল খেটে ছাড়া পাবার পর রহমত কিছু পেস্তাবাদাম ও কিসমিস নিয়ে মিনিকে দেখতে গিয়েছিল। সেদিন মিনির বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সে ভেবেছিল মিনি সেই পাঁচ বছর বয়সের মিনির মতই ‘ও কাবলিওয়ালা’ বলে ডাকতে ডাকতে আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সে এক বড় লাজুক নববঁধু। কাবলি ভাবল কাবুলে তার মেয়েটিও এখন বড় হয়ে বিয়ের যোগ্যভয়ে গেছে এই আট বছরে। কুরতার পকেট থেকে সেই ছোট্ট হাতের ছাপটি বের করে টেবিলের উপর মেলে ধরে অশ্রু ফেলল। লেখক তাকে দেশে ফিরে যাবার জন্য হাতে কিছু টাকা গুছে দিল। মিনির বিয়ের ধুমধাম করার খরচ কিছুটা কাটছাঁট করে এই টাকা দেয়া হয়েছিল। ধুমধাম কিছুটা কম হওয়াতে পরিবারের লোকজন একটু মনখুন্ন ছিল। কিন্তু রহমতকে দেশে চলে যাবার ব্যবস্থা করে দিতে পারার জন্য মিনির বাবা প্রফুল্ল ছিলেন।

আট বছর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চাকরি করেছি । সন্তানদের পড়াশুনার জন্য ফ্যামিলি ঢাকায় রেখেছিলাম । আমি একাই দিনাজপুর থাকতাম ডরমিটরিতে হাউজে । সেই ডরমিটরি হাউজে আরো ১০-১২ জন শিক্ষক থাকতেন । প্রতিরাতে চেম্বার থেকে ফিরে একসাথে রাতের খাবার খেয়ে ফ্যামিলির সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতাম। ছোট মেয়ে দীনা, বড় মেয়ে মুনা ও স্ত্রী স্বপ্নার সাথে কথা শেষ করে ঘুমিয়ে পড়তাম। ডাঃ জাকিউল দরজা খোলা রেখে শুয়ে শুয়ে অনেক্ষণ স্কাইপিতে বাচ্চাদের সাথে ভিডিও চ্যাট করতেন। আমার রুমের ওয়ালের উপর ভেন্টিলেটর ছিল। তাদের সবকথাই আমার রুম থেকে শোনা যেতো। তার ছোট মেয়ে তখনো কথা বলতে শিখে নি। শত বার আব্বু আব্বু করতেন মেয়ের মুখে আব্বু বের করার জন্য। একসময় তার মেয়ে কথা বলতে শিখে। বড় হতে থাকে। দুই মেয়ের সাথেই তিনি ভিডিও চ্যাট করতেন। দুই মেয়ে মারামারি বেধে দিলে তিনি আদরের সাথে কথা বলে থামিয়ে দিতেন। সবই হতো স্কাইপিতে। শুধু ছুয়ে দেখতে পারতেন না। তার ফ্যামিলি ঢাকার ধানমন্ডিতে দামী বাড়ি ভাড়া করে থাকত।

ডাঃ জাকিউল আমার গল্প শুনে মজা পেতেন। তিনি যখন সাম্প্রতিক সময়ের কোন চমকপ্রদ ঘটনার বর্ণনা করতেন, বর্ণনার শেষে   আমি এটার মতই এরচেয়েও বেশী একটা চমকপ্রদ পুর্বের ঘটনার বর্ণনা দিতাম। ডাঃ জাকিউল বলতেন “সাদেক ভাই অনেক মজার মজার ঘটনা মনে করে গল্পাকারে সুন্দর করে বলতে পারেন। আপনি এগুলি গল্পাকারে লিখে রাখতে পারেন। পড়ে অনেকে মজা পাবে।” আমি বলতাম “লিখতে বসলে গল্প মনে আসে না। কিন্তু অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটলে আগের ঘটনা মনে পড়ে যায়।“

মাঝে মাঝে করিডোরে দাঁড়িয়েও গল্প করতাম। একদিন দেখলাম ডাঃ জাকিউলের টিশার্ট-এ একটা স্কচ ট্যাপের কোণাকাটা টুকরা লেগে আছে। আমি ময়লা মনে করে তুলে ফেলতে হাত দিলাম। আমার হাত চেপে ধরে ডাঃ জাকিউল বললেন “না, না, না, সাদেক ভাই, এটা তুলবেন না।”

-কেন? এটাতো স্কচ ট্যাপের টুকরা মনে হচ্ছে।

-আমি এবার ঢাকা থেকে ফেরার সময় হঠাৎ আমার মেয়েটা তার রুম থেকে স্কচ ট্যাপের এই টুকরাটা কেটে এনে আমার টিশার্ট-এ লাগিয়ে দিয়ে বলে ‘এই ট্যাপটা লাগিয়ে দিলাম। যতদিন এই ট্যাপটা লাগানো থাকবে ততদিন আমাকে তোমার মনে থাকবে। ‘

আমি আবার এই ট্যাপ নিয়েই ঢাকায় ফিরতে চাই।

-আপনার মেয়ে কয়জন?

-দুইজন। এই বড়।

-এর বয়স কত?

-প্রায় ছয় বছর।

-আপনি একালের একজন কাবুলিওয়ালা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাবলিওয়ালা গল্পের রহমতের কথা আমার মনে পড়ল। মনে হল আমার যদি ক্ষমতা থাকতো আমি এই কাবলিওয়ালাকে বদলী করে ঢাকায় তার মেয়ের কাছে নিয়ে যেতাম। কিন্তু আমার সেই ক্ষমতা নেই। আমিও যে একালের আরেক কাবুলিওয়ালা।

২৪/২/২০১৮ খ্রি.

#কাবুলিওয়ালা #স্মৃতি #গল্প #সাদেকুল

কাল্পনিক ছবিটি একেছি জেমিনি এ আই টুল দিয়ে ।

Biggan Melay Amar Krititto

বিজ্ঞান মেলায় আমার কৃতিত্ব

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৭৮ সন। প্রিন্সিপাল এ এফ এম গোলাম কিবরিয়া স্যার কেমিস্ট্রির স্যার আনন্দ মোহন, অংকের স্যার আবুল হোসেন স্যার এবং শরীর চর্চার স্যার অখিল চন্দ্রকে দায়িত্ব দিলেন আমাদের আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ থেকে কিছু সংখ্যক বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া ছাত্র নিয়ে টাঙ্গাইলে বিন্দু বাসিনী বয়েস স্কুলে অনুষ্ঠিত ৭ দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহন করতে। স্যারগণ এই টীমে আমাকে, কাজী সাফিউল্লাহ বুলবুল, নজরুল, বেলায়েত, ও কাদেরকে নিয়ে টীম গঠন করলেন মেলায় অংশ গ্রহন করতে। আমরা স্যারদের কাছ থেকে ৭ দিন ৭ রাত্রি হোটেলে থাকা ও খাওয়া এবং আনুসংগিক খরচের টাকা নিয়ে নিলাম। ভিক্টোরিয়া রোডের একটা হোটেলে থাকা ও খাওয়া হতো।মেলায় আমরা একেক জনে একেক প্রদর্শন করতাম।

টাঙ্গাইল জেলার সব স্কুল ও কলেজের যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।প্রতিটি স্কুল থেকে দল বেধে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রবেশ করতেন।বিজ্ঞানের নানান খুটিনাটি নিয়ে তারা প্রশ্ন করতেন। আমি দেখাতাম হাতে বানানো পেরিস্কোপ। পেরিস্কোপ সম্পর্কে পড়েছিলাম ক্লাস এলেভেনেই পদার্থ বিজ্ঞান বইয়ে। আয়নার মাধ্যমে আলোর প্রতিফলন এর তত্বকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ বানানোর আইডিয়া আসে বিজ্ঞানীদের। পেরিস্কোপ মুলত: যুদ্ধের সময় ডুবু জাহাজে ব্যবহার করা হয়। ডুবু জাহাজ পানির নিচে ডুব দিয়ে থাকে। সমুদ্রের সারফেসে চলমান জাহাজ দেখার জন্য ব্যবহার করা হয় পেরিস্কোপ দিয়ে।

দর্শনার্থীরা আমার কক্ষে এলে প্রথমে তাদেরকে আমার বানানো পেরিস্কোপ দেখতে দিতাম। তারা দেয়ালের ছিদ্রে বসানো আয়নায় চোখ রাখলে শহরের নিরালার মোরে চলাচল রত পথচারী ও রিক্সা দেখতে পেতো। তার পর আমাকে জিজ্ঞেস করতো এটা কিভাবে সম্ভব হলো।

আমি পেরিস্কোপ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতাম।

পেরিস্কোপ হলো একটি অপটিক্যাল যন্ত্র, যার সাহায্যে বাধার আড়াল থেকে কোনো বস্তু দেখা যায়। এটি আলোর প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। পেরিস্কোপে সাধারণত দুটি আয়না ৪৫ ডিগ্রি কোণে বসানো থাকে, যার মাধ্যমে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছায়।

পেরিস্কোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো সাবমেরিনে। সমুদ্রের নিচে অবস্থান করেও এর মাধ্যমে ওপরে থাকা জাহাজ বা বস্তু দেখা যায়। এছাড়া সামরিক ক্ষেত্রে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এটি ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞান গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং পরীক্ষাগারেও পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয়। সবশেষে বলা যায়, পেরিস্কোপ বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার যা আমাদের নিরাপদভাবে দূরের বা আড়ালে থাকা বস্তু দেখতে সাহায্য করে।

– কিন্তু, সেটা তো সমুদ্রের প্যাপার। এখান থেকে নিরালা মোর কিভাবে দেখা যাচ্ছে?

-আমি দুইটা আয়না কিনে এনে এখানে ব্যবহার করেছি। একটা আয়না ৪৫ ডিগ্রি কোণাকুণি করে বসিয়েছি এই বিল্ডিংয়ের ছাদের কিনারে। আরেকটা আয়না বসিয়েছি নিচের বাগানে ৪৫ ডিগ্রি কোনাকোনি করে যাতে উপরেরটার প্রতিবিম্ব নিচের আয়নার উপর এসে পরে। আয়নায় পড়া সেই দৃশ্যই ঘরের ভিতর থেকে ওয়ালের ছিদ্র দিয়ে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।

– তাজ্জব!

পেরিস্কোপ দেখিয়ে ছাত্র ও শিক্ষকদের আমি বেশ ইম্প্রেসড করেছিলাম। বিচারকরা আমার পারফরম্যান্স দেখে খুবই প্রসংশা করে। আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ পুরস্কার পায়।

আমি যেন এখনো দেখতে পাই পেরিস্কোপ দিয়ে দেখা টাঙ্গাইলের সেই নিরালার মোর। ঐতিহ্য বাহী ঘ্যাগের দালান।

অপ্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটের ফাইলে আমার সেই কৃতিত্বের সার্টিফিকেটটি খুজে পেলাম। তাতে লেখা আছে

দ্বিতীয় জাতীয় বিজ্ঞান সপ্তাহ

বিজ্ঞান মেলা ‘৭৮

টাঙ্গাইল

কৃতিত্ব পত্র

টাঙ্গাইলে ২৯ শে সেপ্টেম্বর থেকে ৫ই অক্টোবর ‘৭৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজের ছাত্র সাদেকুল ইসলাম বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে।

আশা করবো তার সৃজনশীল প্রতিভা উত্তরোত্তর বিকাশ লাভ করে জাতীয় জীবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

চেয়ারম্যান ————– সেক্রেটারি

তারিখ ৫ ই অক্টোবর

১৯৭৮

স্মৃতি কথা লিখার তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

সার্টিফিকেটের ছবি সংযুক্ত করলাম।

মেলার কাল্পনিক ছবি একেছি ChatGPT AI Tool দিয়ে।

#sadequel #science_exhibition #nirala-mor

Journal-Tutorial

Medical Journal Writing & Publication Training Center

By Dr. Sadequel Islam Talukder

Senior Medical Journal Editor | 25+ Years of Editorial Experience


Welcome to Medical Journal Writing & Publication Training Center

Welcome to the Medical Journal Writing & Publication Training Center, a dedicated educational platform created to guide young researchers, medical students, clinicians, and early-career academicians in mastering the art and science of medical manuscript writing and scholarly publication.

With over 25 years of experience in medical journal editing, I have closely worked with thousands of manuscripts and authors. Through this platform, my goal is to share practical knowledge, editorial insights, and proven strategies to help researchers publish high-quality scientific articles in reputable medical journals.


Why This Platform Was Created

Many young researchers struggle with:

  • Choosing the right journal
  • Understanding article formats
  • Writing scientifically structured manuscripts
  • Handling peer review comments
  • Avoiding plagiarism and ethical mistakes

This learning center has been designed to simplify the publication process and provide step-by-step guidance from research planning to final publication.


What You Will Learn Here

📘 Understanding Medical Journals

You will learn about:

  • Indexed and non-indexed journals
  • Open access vs subscription journals
  • Impact factor and journal ranking
  • How to identify predatory journals
  • National and international publication standards

📝 Types of Medical Journal Articles

This platform explains in detail:

  • Original Research Articles
  • Review Articles and Systematic Reviews
  • Case Reports and Case Series
  • Short Communications
  • Editorials and Letters to the Editor
  • Clinical Images and Pictorial Essays

You will understand when and how to choose the appropriate article type for your research work.


🚀 How to Publish a Medical Journal Article

You will receive step-by-step guidance on:

  • Selecting a suitable journal
  • Preparing your manuscript according to guidelines
  • Online submission process
  • Responding to reviewer comments
  • Revising manuscripts professionally
  • Final acceptance and publication procedures

✍️ How to Write a High-Quality Medical Manuscript

This section covers detailed writing guidance on:

  • Writing effective titles and abstracts
  • Structuring Introduction, Methods, Results, and Discussion (IMRAD)
  • Presenting tables and figures
  • Writing strong conclusions
  • Proper referencing and citation management

⚖️ Ethics in Medical Publishing

You will learn about:

  • Plagiarism prevention
  • Authorship criteria
  • Duplicate publication
  • Conflict of interest
  • Research ethics and informed consent
  • Institutional Review Board (IRB) approval

Ethical publishing is essential for scientific credibility and academic integrity.


Learning Through Multimedia Resources

To make learning easier and practical, this platform is integrated with:

🎥 YouTube Video Tutorials

Step-by-step video lessons on manuscript writing, publication strategy, reviewer response techniques, and journal selection.

📘 Facebook Educational Content

Regular academic tips, illustrations, short videos, and Q&A posts to support continuous learning.

📂 Downloadable Resources

  • Manuscript templates
  • Submission checklists
  • Sample cover letters
  • Writing guides

Who Should Use This Platform

This learning center is ideal for:

  • Medical students
  • Postgraduate trainees
  • Young researchers
  • Clinicians
  • Public health professionals
  • Academic faculty members

Anyone interested in publishing scientific articles can benefit from this training platform.


My Mission

My mission is to empower young researchers with correct knowledge, ethical practices, and professional writing skills so they can contribute meaningful scientific research to the global medical community.


Get Connected

For continuous learning and updates:

🌐 Website: www.talukderbd.com
📘 Facebook Page: https://www.facebook.com/sadequel.islam.talukder

▶ YouTube Channel: https://www.youtube.com/@sadequeltalukder


👉 Explore the learning modules
👉 Watch tutorial videos
👉 Follow academic writing tips
👉 Improve your publication success

Together, let us build a strong culture of ethical and high-quality medical research publication.


Criteria of an International Journal

International Journal Standards

Guidelines for In-text Citation

Manuscript writing tutorial by Dr. Sadequel Islam Talukder in YouTube

গবেষণা প্রবন্ধে DOI (Digital Object Identifier) থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি Active DOI আপনার গবেষণা প্রবন্ধকে দেয় স্থায়ী পরিচয়, সহজ খুঁজে পাওয়া, সঠিকভাবে উদ্ধৃতি (Citation) করার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক গ্রহণযোগ্যতা।

DOI থাকলে আপনার গবেষণা কাজটি বিশ্বব্যাপী গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজেই পৌঁছে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষিত থাকে।

গবেষণা প্রকাশনার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে DOI একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

✍️ ড. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

DOI Expert

ফ্রী ডিওআই?

Crossref এর Global Equitable Membership (GEM) প্রোগ্রাম উন্নয়নশীল দেশের জার্নাল, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংগঠনের জন্য একটি দারুণ সুযোগ।

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি পাবেন:

✅ Crossref সদস্যপদ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে

✅ DOI রেজিস্ট্রেশন ফি নেই

✅ Crossref-এর সকল গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যবহারের সুযোগ

✅ আপনার গবেষণা ও প্রকাশনাকে বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমানতা প্রদান

বাংলাদেশসহ অনেক দেশের প্রকাশক ও জার্নালের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।

আপনার জার্নাল বা প্রকাশনার জন্য DOI এবং Crossref সদস্যপদ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করতে পারেন।

Dr. Sadequel Islam Talukder

DOI Expert

📧 sadequel@yahoo.com

#DOI#Crossref#GEM#Research#AcademicPublishing#ScholarlyPublishing#JournalPublishing#BangladeshResearch#OpenScience#DigitalPublishing

smritir-poter-mullo

স্মৃতির পটের মূল্য

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৭৩ সন। তখন আমি কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে ৭ম শ্রেণীতে পড়তাম। শীত কাল ছিলো। ইনসান স্যার স্কুল মাঠে চেয়ারে বসে রোদ পোহাতে পোহাতে বই পড়ছিলেন। আমি টিপ মেড়ে পেছনে দাড়িয়ে দেখছিলাম কি বই পড়েন। দেখি তিনি শরতচন্দ্র চট্রপাধ্যায় রচিত বই পড়ছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম

– স্যার, আপনি এটা কোন ক্লাসের বই পড়ছেন?

– এটা কোন ক্লাসের বই না। এটা উপন্যাস।

উপন্যাস কী স্যার?

স্যার আমাকে উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য বুঝাতে চেষ্টা করলেন। আমি কিছু কিছু বুঝলাম। আমাদের পাঠ্য বই পুস্তকে বিভিন্ন লেখকের লেখা আমাদের পড়তে হতো। লক্ষ্য করলাম শুধু ইনসান স্যার না, মাওলানা সালাউদ্দিন স্যার, হাতেম আলী স্যার, মান্নান স্যার, মোহসীন স্যার, ওনারা সবাই এই সব লেখক, যেমন, পল্লী কবি জসীম উদ্দিন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কথা সাহিত্যিক শরত চন্দ্র চট্টপাধ্যায় ইত্যাদি বড় বড় লেখকের রচনা সমগ্র পড়তেন। ইনসান স্যারের পেছনে দাড়িয়ে কিছু কিছু অংশ পড়ে আমারও পুর্ণ বই পড়তে ইচ্ছে করলো। স্যারকে বললাম

– স্যার, আমি এই বই নিতে পারবো না?

– এই বইগুলো আমাদের অফিসের লাইব্রেরিতে আছে। তোমরা সবাই পড়তে পারো। এজন্য তোমাকে ৪ টাকা দিয়ে লাইব্রেরি কার্ড করতে হবে। এক সাথে দুইটির বই দিবে না। বই পড়ে ফেরত দিলে অন্য বই নিতে পারবে। তোমাদের আব্দুল্লাহ স্যার লাইব্রেরীর দায়িত্বে আছেন। তার কাছে বললেই ব্যাবস্থা হবে।

আমি আমার জমানো টাকা থেকে ৪ টাকা দিয়ে লাইব্রেরি কার্ড করলাম। বই নেয়া শুরু হলো। আমি ছোট বেলা থেকেই প্রকৃতির স্বান্যিদ্ধে থাকতে পছন্দ করতাম। গাছের ডালে, পাহাড়ের ঢালুতে ঘাসের উপর অথবা খরের পালার উপর শুয়ে শুয়ে এসব বই পড়তাম। বড় বড় লেখকদের রচনা সমগ্র পড়ে ফেললাম। কবি জসীম উদ্দিনের স্মৃতির পট বইটি পড়ে আটকে গেলাম।

কবি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থান করে আঞ্চলিক সাহিত্য ও লোকগীতি সংগ্রহ করতেন এবং তা নিয়ে গবেষণা করতেন। গ্রামের কবি, গীতিকার ও গায়কদের বাড়িতে থেকেছেন, খেয়েছেন, সালিশ করেছেন। এসব স্মৃতি কথা তিনি তার স্মৃতির পট হইয়ে লিপিবদ্ধ করেছেন। এই বইটা আমার খুব বেশী ভালো লাগে। এটা ফেরত দেই না।

আমি ইনসান স্যারকে জিজ্ঞেস করি

– স্যার, কেউ যদি কোন একটা বই হারিয়ে ফেলে, তখন কি হবে?

– অসুবিধা নাই। কার্ড করার সময় যে ৪ টাকা জমা রাখা হয়, সেখান থেকে কেটে নিবে।

বাস, আমি আর বইটি ফেরত দিলাম না কোন দিন। ১৯৭৫ সনে চলে গেলাম বাটাজোর বি এম হাই স্কুলে। সেখানে নিয়ে গেলাম বইটি। মাঝে মাঝে শুয়ে শুয়ে পড়তাম। এস এস সি পাস করে চলে গেলাম আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজে। ওখানেও নিয়ে গেলাম স্মৃতির পট বইটি। ১৯৭৯ সনে এইচ এস সি পাস করে চলে গেলাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়তে। ওখানেও নিয়ে গেলাম স্মৃতির পট। এর পর চাকরি জীবনে টাঙ্গাইল, বরিশাল, শেরপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, দিনাজপুর, কিশোরগঞ্জ, যেখাই গিয়েছি স্মৃতির পট সাথে রেখেছি।

২০২০ সনে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেলাম। ২০২১ সনে আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরিতে যোগ দিলাম। এখনো আছি।

যেখানেই থাকি স্মৃতির পট আমার সাথেই থাকে। মলাট ছিড়ে গিয়েছিল। গাংগীনার পাড় প্রেসক্লাব মোর থেকে বাধাই করে নিয়েছি।

বয়স হয়েছে। ইচ্ছে হতো প্রধান অতিথি হিসাবে যদি কচুয়া পাবলিক হাই স্কুলে কোন বড় অনুষ্ঠানে আমার আমন্ত্রণ আসতো, আমি সহজেই রাজি হয়ে যেতাম। তখন এই বইয়ের কাহিনিটা সবার সামনে খুলে বলে বইটা লাইব্রেরিতে ফেরত দিতাম। কিন্তু তারা আমাকে আমন্ত্রণ জানায় না। তারা আমন্ত্রণ করে প্রভাবশালী নেতাদেরকে।

২০২৪ সনের ৫ আগষ্টের পর সেই সুযোগ আসে। ২০২৫ সনের বার্ষিক পুরুস্কার বিতরনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমাকে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানায়। আমার স্ত্রী ফিরোজা আক্তার স্বপ্না আমাকে মনে করিয়ে দেয়, “প্রধান অতিথি হিসাবে যাচ্ছ, ছাত্রদের জন্য উপদেশমূলক বক্তৃতা দিও এবং স্কুলের জন্য কিছু টাকা ডোনেশন হিসাবে দিয়ে এসো।”

আমি খামে ভরে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাই। সকালে ময়মনসিংহ থেকে প্রাইভেট কার নিয়ে রওনা দেই। রেজাউল মাস্টার কিছুক্ষণ পর পর মোবাইল করে আমার অবস্থান জেনে নেয়। মানে বুঝতে পারলাম পরে। আমাকে বরন করার জন্য ফুলের পাপড়ি নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত রাখতে হবে, তাই।

ঠিকই সড়ক পথ থেকে অফিস কক্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে প্রধান অতিথির আগমন শুভেচ্ছা সমাগতম শ্লোগান দিতে দিতে আমার গায়ে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দিচ্ছিল। আমার ভালোই লাগলো।

যাহোক মাঝখানে অনেক ঘটনাই ছিলো। আসল কথায় আসি। সভাপতির বক্তব্যের আগে আমার বক্তব্য শুরু করলাম। মোট এক ঘন্টা বিশ মিনিটের মতো সময় বক্তব্য রাখলাম। ছাত্রদের উদ্দেশ্যে উপদেশ মূলক কথা বলে কিছু স্মৃতি চারণ করলাম। শেষে লাইব্রেরী থেকে বই নেয়ার স্মৃতি কথাগুলো বললাম। শেষ করার আগে বললাম, “আমি এই বই পড়ে প্রভাবিত হয়ে এটার আদলে মোবাইলে টাইপ করে বই লিখি। প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম দেই স্মৃতির পাতা থেকে। এভাবে প্রায় ১৪ টা বইয়ের কন্টেন্ট লিখে ফেলেছি। মোট ৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এখনো লিখছি। আমার নিজের লেখা বইগুলো গিফট হিসাবে দিয়ে যাচ্ছি। আমার কাছে রাখা স্মৃতির পট বইখানা হেড স্যারের হাতে ফেরত দিতে চাচ্ছি। এতে তোমাদের কোন কিছু বলার আছে?”

এক ছাত্র দাঁড়িয়ে বললো, “স্যার, এই বই আপনাকে লেখক হতে প্রভাবিত করেছে। আপনার জন্য বইটি যেমন দামী, তেমনি আমাদের কাছেও দামী। এই বইটি আপনি ১৯৭৪ সন থেকে এই ২০২৫ সন পর্যন্ত প্রায় ৫০ বছর আটকে রেখেছেন। তখন এই বইটির মূল্য দেড় টাকা হলেও এখন সেই টাকা বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আজ আমাদেরকে ২০ হাজার টাকা দেবেন।” উপস্তিত সবাই হেসে দিলেন। আমি বললাম,” ঠিকই বলছো, আমি জমা রেখেছি এই লাইব্রেরিতে ৪ টাকা সেটা বেড়ে কত টাকা হয়েছে? যাহোক, তুমি আমার কাছে খুবই টেলেন্ট ছেলে মনে হচ্ছে। এমন একটা দাবীই আশা করছিলাম।” হেড মাস্টার তুলা মিয়া আমার কানের কাছে বললেন, “আসলেই সে মেধাবী, ক্লাসে প্রথম হয়েছে।” বললাম, “তুমি ঠিকই চেয়েছ। কিন্তু আমি যে মাত্র ১৫ হাজার টাকা নিয়ে এসেছি এটার জন্য!” মঞ্চে বসা একজজন স্থানীয় বিশেষ অতিথি বললেন, “ঠিক আছে, ২০ হাজারই দেয়া হবে। ৫ হাজার টাকা আমি দিবো।” সবাই খুশী হলেন। আমি আমার লেখা বই স্মৃতির পাতা থেকে, বর্নিল অতীত, সোনালী শৈশব, শৈশবের একাত্তর এবং জসীম উদ্দিনের সেই স্মৃতির পট বই প্রধান শিক্ষক তুলা মিয়ার হাতে তুলে দিলাম।

সভাপতির সমাপনী ভাসনে প্রধান শিক্ষক তুলা মিয়া বললেন, “৫০ বছর আগের কোন বই আমাদের লাইব্রেরিতে নেই। স্যারে যত্ন করে স্মৃতির পট বইটি রেখেছেন দেখেই ওটা এখনো আছে। এটার মর্যাদা স্যারেই দিতে পারবেন। কাজেই এই বইটা স্কুলের পক্ষ থেকে স্যারকে উপহার দিলাম।” এই বলে আমার হাতে বইটা তুলে দিলেন। সবার হাততালি পড়লো।

২৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

#স্মৃতি #গল্প #সাদেকুল #কচুয়া

কাল্পনিক ছবি একেছি chatGPT এ আই টুল দিয়ে।

garu-khoja

গরু খোজা

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম। ধরুন, ৬-৭ বছর বয়সের। আমাদের এলাকায় পানির খুব অভাব হতো, বিশেষ করে চৈত্র -বৈশাখ মাসে। প্রতি গ্রামে একটা কি দুইটা নলকূপ ছিলো। তাও অগভীর। এই সময় পানির স্তর অনেক নিচে চলে গিয়ে নলকুপে পানি উঠতো না। বড়বাইদপাড়ার তালুকদার বাড়িতে একটা নলকূপ এবং একটা ইদারা কুয়া ছিল। প্রায় ত্রিশ হাত গভীর ইদারা কুয়া ছিলো। তাও শুকিয়ে যেতো। একমাত্র পানির সোর্স ছিলো মাটির কুয়া বা মাইটা কুয়া। মাইটা কুয়া কাটা হতো চালা ও বাইদের সংযোগস্থলে। খরায় মাঠ ঘাট শুকিয়া চৌচির হয়ে যেতো। গরুর ঘাসের খুব অভাব হতো। তখন চাষের জন্য এক মাত্র লাংগল ছিলো গরুর লাংগল। তাই তখন অনেক গরু পালতো আমাদের এলাকার মানুষ। বলতে পারেন এমন যায়গাটা কোথায়। এটা হচ্ছে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুরের বড়বাইদপাড়ায়। খরার সময় গরুগুলো না খেয়ে শুকিয়ে পড়তো। তাই এদেরকে মুক্ত ভাবে ঘুরে ঘুরে খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেয়া হতো। মাঠে ঘাস না পেয়ে গরু জংগলে প্রবেশ করে লতা পাতা খেয়ে জীবন বাচাত। তাও আবার পেট পুড়ে খেতে পারতো না সারাদিন ঘুরেও। এমন মুক্ত গরুগুলোকে হলা হতো অরণ্যা গরু। সারাদিন অরণ্যা গরু বনে বনে ঘুরে ঘুরে খেয়ে সন্ধার সময় গোয়াল ঘরে ফিরে আসতো। মাঝে মাঝে দু একটা গরু হারিয়ে যেতো। হারিয়ে যাবার কারণ ছিলো বিবিধ। কোন কোন গরু হাটতে হাটতে দিক ভুলে গিয়ে অন্য গ্রামে চলে যেতো। কোন কোন ষাড় গরু বকনা গরুর সাথে চলে যেতো অন্য গ্রামে। অথবা বকনা গরুই চলে যেতো ষাড় গরুর সাথে। অথবা চোরেরা চুরি করে বেচে দিতো দুরের হাটে। অথবা চুরি করে হাটে নিয়ে জবাই করে মাংস বেচে দিতো।

যেভাবেই হোক, গরু হারিয়ে গেলে গরুর মালিক গরু খোজাখুজি করতো। রাখালরা পরিকল্পনা করে বিভিন্ন দিকে গরু খোজতে বেড়িয়ে পড়তো। যারা গরু পেতো তারা গরুকে প্রকাশ্য স্থানে বেধে রাখতো। যারা খোজতে বের হতো তারা সাথে নিতো শুকনা খাবার, যেমন চিড়া বা মুড়ি। একটা গামছার মাঝখানে চিড়ামুড়ি কোমড়ে বেধে নিতো। সাথে পানি নিতো না। তখন এখনকার মতো প্লাস্টিকের বোতল ছিলো না। গরু খোজতে খোজতে খুধা লাগলে পড়ে গ্রামের বাচ্চাদের কাছে পানি চাইতো। চিড়ামুড়ি খেয়ে রাখাল পানি খেতো। হাতে গরু পিটানোর পাজুন (লাঠি) এবং কোমড়ে চিড়ামুড়ির পোটলা দেখলে আমরা বুঝে নিতাম যে লোকটা গরু খুজতে বেরিয়েছে। গরু খোজা একটা কষ্টকর কাজ। এইজন্য কেউ কাউকে খুজে পেতে দেড়ি হলে বলে, “আরে, আমি তোমাকে কয়দিন ধরে গরু খোজা খুজতেছি। তুমি কোথায়?

২৬ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

#memory #cow #গল্প #স্মৃতি

ar-chhole

আর ছোলে

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আমাদের চাচাদের মধ্যে হাছেন কাক্কু আমার কাছে বেশী বেশী স্মৃতি কথা শোনাতেন, কারণ, আমি স্মৃতি কথা শুনতে চাইতাম। তিনি ছোট দাদাকে নিয়ে একটা স্মৃতি কথা বলেছিলেন। সেইটা আপনাদেরকে শেয়ার করবো। মজাও আছে, শিখারও আছে। ছোট দাদা ছোট দাদীকে বিয়ে করার পর কাজ কাম বাদ দিয়ে চেয়ারে বসে বসে সারাক্ষণ গল্প করে কাটাতেন। দাদা ও দাদী দুই জনই চেহারাবান ছিলেন।

একদিন দক্ষিন দরজা ঘরের বারান্দায় পাশাপাশি দুইটি গর্জিয়াস কাঠের চেয়ারে বসে দাদা-দাদি গল্প করছিলেন। এমন সময় দাদার সমবয়সী দাদার ভাতিজা সোলাইমান তালুকদার, আমাদের বড় কাক্কু কোন সময় যে উঠানে এসে দাড়িয়ে আছেন সেটা টের পাননি। দাদা-দাদি দুজনই ধার্মিক ছিলেন। কাক্কুর ডাক নাম ছিলো ছোলে। ছোলে কাক্কু এসে শোনলেন দাদা দাদীকে বলছেন,”গ্রামের মানুষ যেভাবে চলাফেরা করে, তাতে এরা কেউ বেহেস্তে যেতে পাররে না। গ্রামের আমি আর তুমি ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না।” এইটুকু বলে মাথা সোজা করে দেখেন সামনে দাড়ানো ছোলে তালুকদার। দাদা দেরি না করে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন, “আর ছোলে।”

হাছেন কাক্কুর কাছে শোনা এই গল্পটা আমার খুব পছন্দ হয়। এই গল্পটা আমি অনেকের কাছেই বলেছি।একদিন আমি ডা: মইনুল ভাইর কাছেও বলেছিলাম। তিনি আমাকে একদিন জানালেন আপনার “আর ছোলে” গল্পটা আমি আমাদের সোসাইটির বার্ষিক ন্যাশনাল কনফারেন্স এ বক্তৃতা দিয়ে গিয়ে বলেছি। সবাই খুব মজা পেয়েছে। বলেছি, আমরা মঞ্চে বসা নেতাদেরকে সামনাসামনি কত প্রসংশা করি। আড়ালে গিয়ে বলি কত খারাপ। শোনে ফেললে আপনারাও বলুন, আর ছোলে।

২৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

#গল্প #স্মৃতিকথা #সাদেকুল

ছবি জেমিনি এ আই টুল দিয়ে তৈরি

ulu-khamu

উলু খামু না, কী খামু?

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আগের দিনে আমাদের বড়বাইদপাড়া গ্রামের ঝোপ ঝারে খেক শিয়াল দেখা যেতো। এগোলো শিয়ালের মতই, কিন্তু সাইজে ছোট। আমাদের গ্রামটা সখিপুরের গড় অঞ্চলে। এখানে দুই রকম জমি আছে। নিচু জমিকে বলা হয় বাইদ। বাইদের দুপাশ দিয়ে টিলাযুক্ত উচু ভুমিকে বলা হয় চালা। এই চালা জমির ডিবির ভিতর উই পোকা বাসা করত। উই পোকার পাখা গজালে সন্ধার সময় ঝাকে ঝাকে আকাশে উড়ে যেতো। বিভিন্ন রকম পাখি এসে উড়ন্ত উই পোকাকে খেয়ে ফেলতো। আমরা উই পোকাকে বলতাম উলু পোকা। উলু পোকায় ঘরেও বাসা করতো। বই খ্যেয়ে ফেলতো। কাঠের ফার্নিচার খেয়ে ফেলতো। আমরা বলতাম উলুয়ে ধরছে। ঝাকে ঝাকে পাখি যখন উরন্ত উলু পোকা খেতো তখন আমরা পোলাপানরা মজা করেদেখতাম। অনেক সময় কৃষকরা খেতের আবর্জনায় আগুন দিলে সন্ধার সময় সেই আগুনে পড়ে উলু পুড়ে যেতো। এই জন্য বলে পিপিলিকার পাথা গজায় মরিবার তরে। উই পোকা পিপড়া জাতীয় পোকা। তাই পীপিলিকা গ্রুপে পড়ে।

সন্ধার সময় উই পোকা বাসা থেকে বের হলেই ঝোপ ঝার থেকে খেক শিয়াল এসে উই পোকা খেতো মজা করে। উই পোকা খেলে খেক শিয়ালের পায়খানা শক্ত হতো, মানে কোস্ট কাঠিন্য হতো। আমরা বলতাম কষা হতো। এই জন্য দেখা যেতো সকাল বেলা ঝোপের ধারে বসে পায়খানা করার জন্য খেক শিয়াল অনেক্ক্ষণ বসে থাকতো। আমার তিন বছরের বড় চাচাতো ভাই সিদ্দিক ভাই বলতেন, “খেক শিয়াল যখন উলু খায় তখন মজা করে পেট ভইরা খায়। উলু খাওয়ার জন্য সকাল বেলায় পায়খানা খুব কষা হয়। কোত পারে আর বলে, ‘আর উলু খামু না। আর উলু খামু না। অনেক চেষ্টা করার পর যখন পায়খানা করে একটু খালাল হয় তখন বলে, ‘উলু খামু না, কী খামু?’

আবার সে উলু খায়, আবার তার পায়খানা কষা হয়।

২০২৯ সনে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে সবাই গৃহে বন্দী জীবন জাপন করে এবং আল্লাহর নাম জপ করে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, আর ঘুষ খামু না। আর ঘুষ খামু না।” এর পর যখন করনার প্রকোপ শেষ হয়ে গেল তখন মানুষ বলতে লাগলো, ঘুষ খামু না। কী খামু?

২৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

#গল্প #স্মৃতিকথা #sadequel

ten-percent-formalin

১০% ফরমালিন তৈরিতে বদনার ব্যবহার


(স্মৃতি কথা)
ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

১৯৯৩ সনের কথা। তখন আমি এম ফিল কোর্সে ছিলাম আইপইজিএম আর (এখনকার বিএমিউ)-এ। কোর্স মাত্র শুরু হয়েছে। অফিস টাইম ছিল দুপুর আড়াইটা পর্রন্ত। অফিস টাইমের শেষের দিকে বায়োপসি পরীক্ষার সেম্পলগুলির গ্রস এক্সামিনেশন করে টিস্যু সেম্পল ব্লক নিয়ে ১০% ফরমালিনে রেখে দিতে হতো। সকাল আটটা থেকে ক্লাস ও কাজ করতে করতে গ্রস দেয়ার সময় আমি ক্লান্ত ও ক্ষুধার্থ হয়ে পড়তাম।

একদিন দুইটার সময় গ্রস দিতে গিয়ে দেখি ১০% ফরমালিন নাই। ঐসময় ল্যাব এটেন্ডেট যিনি ছিলেন তার নাম এতদিনে আমি ভুলে গেছি। তিনি পাজামা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরে থাকতেন। তিনি পাক্কা নামাজি ছিলেন। আমি বললাম, “হুজুর, আজ গ্রস দেয়া গেলো না। চলে যাচ্ছি। “
– কেন?
– ফরমালিন নাই জারে।
– দাড়ান একটু, আমি বানিয়ে দিচ্ছি।

আমি ভাবলাম, হুজুর প্রথমে একটা মিজারিং সিলিন্ডার আনবেন, জার থেকে তেল মাপার মতো করে ফরমালিন নিবেন জারে, তারপর ডিস্টিল্ড ওয়াটার নিবেন সিলিন্ডার দিয়ে মেপে নব্বই গুন পর্যন্ত। এতক্ষনে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়বো।

হুজুর একটা অজুর বদনা হাতে নিয়ে ভিতর দিকে যাচ্ছিলেন। বললাম
– আমার অত সময় নাই। আপনি যাচ্ছেন অজু করতে। আগামীকাল গ্রস দিব। বানিয়ে রাইখেন।
– না, না,, এক্ষুনি বানিয়ে দিচ্ছি।
বলেই দ্রুত বিতরে গিয়ে বদনা ভর্তি করে কি যেন নিয়ে এনে ১০% ফরমালিন লিখা জারে ঢাললেন। বললাম
– এটা কি ঢাললেন?
– ফরমালিন ঢাললাম।

তারপর তিনি পানির ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে পরপর ৯ বদনা পানি ঢেলে মিশিয়ে নিলেন।বললাম
– কি হলো?
– ১০% ফরমালিন হলো। হয় নাই?

আমি হিসাব করে দেখলাল ১০ লিটার ফরমালিনের সাথে যদি ৯০ লিটার পানি মেশাতাম থলে ১০% ফরমালিন হতো। অথবা ১ লিটার ফরমালিনের সাথে যদি ৯ লিটার পানি মেশাতাম তহলেও ১০% ফর্মালিন হতো। অথবা ১ গ্লাস ফরমালিনের সাথে যদি ৯ গ্লাস পানি মেশাই তাতেও তো ১০% হয়। তাহলে ১ বদনা ফরমালিনের সাথে ৯ বদনা পানি মেশাই ১০% ফরমস্লিনই তো হবে। হুজুরকে বললা, “হয়েছে।” হুজুর হাতের আংগুল দিয়ে দাড়ি খেলাল করতে করতে চলে গেলেন। আমি গ্রস দিয়ে হোস্টেলে গেলাম।

এর পর ১৯৯৬ সন থেকে এ পর্যন্ত যখনই ১০% ফরমালিন বানাতে শেখাই তখনই বলি ১০% ফর্মালিন বানাতে সিলিন্ডার লাগে না, তোমাদের হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়েই মেপে নাও, হোক সেটা পানি খাওয়ার গ্লাস অথবা অজুর পানির বদনা।

২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
#formaline #story #memory #sadequel
কাল্পনিক ছবিটি জেমিনি এ আই টুল তিয়ে তৈরি করেছি।

mal-nai

মাল নাই

(স্মৃতি কথা)

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

আজকেরটাও আইপিজিএম আর-এ এম ফিল প্যাথলজি পড়াকালীন স্মৃতি কথা লিখলাম । ১৯৯৩-১৯৯৫ আমি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত পোস্ট গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউট, বর্তমানে যেটা বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি -তে পড়েছি। আমরা হিস্টোপ্যাথলজি স্লাইড পরীক্ষা করা শিখতাম। আমাদের প্রফেসরগণ স্লাইড দেখার আগে আমরা শিক্ষার্থীর স্লাইড পরীক্ষা করে নিজেদের খাতায় ডায়াগনোসিস লিখে রাখতাম। স্যার যখন মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে স্লাইড দেখতেন আমরা তখন স্যারের পেছনে খাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। কে কী ডায়াগনোসিস করেছেন স্যার জিজ্ঞেস করতেন। আমরা যার যার করা ডায়াগনোসিস বলতাম। ফাইনাল ডায়াগনোসিস স্যার বলে দিতেন।

যাহোক, একবার দেখা গেলো টেকনোলজিস্ট স্লাইড তৈরি করে দিচ্ছেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “স্লাইড দিচ্ছেন না কেন?”

– মাল নাই, তাই স্লাইড তৈরি করতে পারছি না।

– কবে দিবেন?

– মাল আসলেই দিব।

এভাবে পর পর তিন দিন বললেন যে মাল নেই তাই স্লাইড বানাতে পারছেন না।

আমি বললাম

– কী মাল নাই?

– মাল নাই তা আপনি বুঝতে পারছেন না?

– কী মাল নাই আমাকে বলুন আমি আনার ব্যবস্থা করি।

– মাল এনে দেন আমি কাজ করি।

– যে মাল নেই সেটা আমাকে দেখান।

তিনি এলকোহল লেভেল করা খালি বোতল দেখিয়ে বললেন

– এই যে দেখেন, মাল নাই।

– এটা তো এলকোহলের বোতল। এলকোহল নেই, তাই বলুন। বার বার জিজ্ঞেস করছি কী নাই, আপনি বলছেন, মাল নাই।

– এলকোহল মানেই তো মাল, আর মাল মানেই মদ। আপমাদের এলাকায় মদকে মাল বলে না?

– হ্যা, তাইতো। এলকোহলই হলো মদ। মদকে মালও বলে তিরস্কার করে। বলে, বেটায় মাল খায়।

২২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

#alcohol#mal#mod#memory#sadequel

ছবি তৈরি করেছি জেমিনি এ আই টুল দিয়ে।